প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চোখ-নাক-কান দিয়ে রক্ত বের হওয়া জিনাতকে দেশেই চিকিৎসক দেখাতে সম্মত পরিবার

রিকু আমির : দুই চিকিৎসকের আগ্রহের ভিত্তিতে হ্যামোলেক্রিয়া নামক বিরল রোগে আক্রান্ত কলেজ শিক্ষার্থী জিনাতকে আবার দেশে চিকিৎসা করানোর আগ্রহ ব্যক্ত করেছে তার পরিবার।

আমাদেরসময় ডটকমের কাছে জিনাতকে চিকিৎসা প্রদানের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ। এছাড়াও বিএসএমএমইউর প্রো-ভিসি (প্রশাসন) ও চক্ষু বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদও দেখতে চেয়েছেন।

দুই চিকিৎসকের আগ্রহের কথা জিনাতের বাবা মামুন বিশ্বাসকে জানানো হয়। বরিশালে অবস্থানরত মামুন শনিবার এ প্রতিবেদককে জানান, এ সপ্তাহেই মেয়ের কাছে আসছি। তারপর নেব।

বর্তমানে জিনাত আছেন নানার বাসা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন পাগলা এলাকায়। নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জিনাতের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। কলেজ হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেন তিনি। ২০১৬ সাল থেকে অদ্যাবধি ঢাকা-বরিশালের বিভিন্নস্থানে মেয়েকে নিয়ে দৌঁড়ঝাঁপ করতে করতে ক্লান্ত এবং আস্থাহীনতায় ভূগছেন মামুন।

তিনি বলেন, প্রস্তুতি নিচ্ছি ভারতে যাওয়ার। এজন্য যে পরিমাণ অর্থ দরকার, তা আমার নেই। নানান জনের কাছ থেকে সহযোগিতা সংগ্রহ শেষেই যাব। তবে যেহেতু আমাদের দেশের চিকিৎসক ওকে দেখতে চাচ্ছেন, সেহেতু আমি যাব তাদের কাছে। আসলে দেশিয় চিকিৎসার প্রতি আস্থা পাচ্ছি না। সেই ২০১৬ সাল থেকে মেয়েটাকে নিয়ে দৌঁড়াচ্ছি, কিন্তু সুফল পেলামই না।

অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, রোগীর বর্তমান অবস্থা খুব ভালমতন পর্যবেক্ষণ ও প্রচুর পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে হবে। আমরা যদি না পারি তাহলে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণে পরামর্শ দেব। এমনও হতে পারে- আমরাই তাকে সারিয়ে তুলতে পারি। রোগীকে আমার কাছে নিয়ে আসুক।

অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, যেহেতু আমি এখনও দেখিনি, সেহেতু বলতে পারছি না মেয়েটি হ্যামোল্যাক্রিয়ায়-ই আক্রান্ত কি-না। কেননা লিউকোমিয়া, রাইনোস্পেরোসিসসহ কিছু রোগ আছে, যাতে আক্রান্ত হলে চোখসহ দেহের বিভিন্ন স্থান দিয়ে দিয়ে রক্ত বের হতে পারে। আবার চোখ দিয়ে মাঝে মধ্যে পানি ও মাঝে মধ্যে রক্ত বের হতে পারে।

অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, এটা খুব বিরল রোগ। এটা সম্পর্কে আসলে আমাদের খুব একটা ধারণা নেই। এ কেস তো সচরাচর পাওয়া যায় না। তবে মেয়েটাকে আমি দেখতে চাই। যদি পারি অবশ্যই ওর চিকিৎসা করব।

জিনাতের মধ্যে ২০১৬ সালে এই সমস্যা দেখা দেয় প্রথম বারের মতন। মামুন জানান, প্রথমে আনা হয় ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে। কোনো উপকার না পেয়ে নেয়া হয় বিএসএমএমইউর চক্ষু বিভাগে। এ বিভাগ রেফার করে গাইনি বিভাগে। তারপর সালাউদ্দিন হাসপাতালে দেখানো হয় প্রখ্যাত চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হককে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে গ্রামে ফেরেন মামুন। হঠাৎ অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত নেন বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

সেখান থেকে নেয়া হয় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ও চক্ষু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগ। এরপর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে ঢাকার হাইটেক মাল্টি কেয়ার হাসপাতাল। এখানে অবস্থার অবনতি ঘটায় প্রায় এক মাস ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছিল জিনাতকে। সর্বশেষ গত রমজান মাসে ঢাকা মেডিকেলে ছিলেন জিনাত। ঈদুল ফিতরের তিনচারদিন আগে ব্যর্থ হয়ে গ্রামে ফেরেন জিনাত। তবে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে হ্যামোল্যাক্রিয়ার বিষয়টি।

জিনাতের বাবা মামুন বিশ্বাস আরও জানান, জিনাতের চোখ-নাক-কান এমনকি নাভি দিয়েও রক্ত বের হয়। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারায় জিনাত। দিনে ৪-৫ বার এমন ঘটনা ঘটে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত