প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলামোটরে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, তিনমাসেও ধরা পড়েনি কেউ

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : আওয়ামী লীগের সমাবেশগামী মিছিল থেকে কিশোরীকে হয়রানির ঘটনায় কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। গত ৭ মার্চের ঘটনার ভিডিও চিত্র পাওয়া গেলেও গ্রেপ্তারে আগ্রহ নেই পুলিশের।

৭ মার্চের ঘটনার একটি ভিডিও চিত্রতে হয়রানির বিষয়টি স্পষ্ট হলেও মিছিলটি আওয়ামী লীগের কোন ইউনিটের ছিল, তাতে কারা নেতৃত্বে ছিলেন, এবং কর্মী কারা ছিল, হাতিরঝিলে পুলিশের সঙ্গে সংর্ঘষ সবকিছুর তথ্য প্রমাণ পুলিশের হাতে থাকলেও গত চারমাসেও এদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অথচ এই ঘটনার ১০ দিন পর বাসে যৌন হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্ত বাস চালক ও সহকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করে পুুলিশ।

ঘটনার পরের দিন রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘অদিতিকে হয়রানির ভিডিও পেয়েছেন তারা। ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক ছাড় দেওয়া হবে না’। এরপর ১১ মার্চ রাজধানীতে অন্য একটি আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, অপরাধী যে দলেরই হোক ছাড় দেওয়া হবে না।’

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ারর্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের স্মরণে গত ৭ মার্চ একই ময়দানে জনসভা করে আওয়ামী লীগ। আর এ জন্য আশপাশের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত ছিল। এ কারণে হেঁটে চলতে বাধ্য হয় মানুষ। আর চলার পথে জনসভায় আসা নেতা-কর্মীদের হাতে বেশ কয়েকজন নারী হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ উঠে।

এদের মধ্যে ভিকারুননেসার ছাত্রী অদিতি বৈরাগী ফেসবুকে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার সঙ্গে সঙ্গে তা ছড়িয়ে যায়। তিনি জানান, বাংলামোটর এলাকায় সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশে যাওয়া একটি মিছিল থেকে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। তাকে থাপ্পরও দেয়া হয়েছে। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভয়াবহ বিপর্যস্ত জানিয়ে অদিতি এমনও লিখেন ‘আমি এই শুয়রদের দেশে থাকব না।’ অদিতির পাশাপাশি ইশরাতুল শোভা, আফরিন আসাদ মেঘলাসহ আরও বেশ কয়েকজন তরুণীও ফেসবুকে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা লিখেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের রমনা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শামসুল আরেফিন বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় আমরা কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারিনি। কিছু ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছিল আরো কিছু ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য আসেনি। তবে খুব দ্রুত এরা ধরা পরবে।

তিন বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যৌন হয়রানির ঘটনাতেও আট জনের ছবি পাওয়া গেলেও সাত জনের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তিনি জামিনে মুক্ত। আর মামলার সাক্ষীরা আদালতে হাজিরা না দেয়ায় বিচারও এগোচ্ছে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত