প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুইজারল্যান্ডে কমলেও, অর্থ পাচার বাড়ছে অন্যান্য দেশে

সাজিয়া আক্তার : বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধে পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, অর্থপ্রতিমন্ত্রী নিজেই এমনটা মনে করছেন। অর্থ লেনদেনে ব্যাংকিং চ্যানেলে করাকরি সুযোগে হুন্ডি তৎপরতা বেড়েছে বলেও ধারনা তার। বিশ্লেষকরা বলছেন সুইস ব্যাংক গুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত কমে গেলেও অন্যান্য দেশে বাড়ছে অর্থ পাচার। এ দায় এড়াতে পারে না বাংলাদেশ ব্যাংকও।

সুইস ব্যাংক গুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ কমছে। ২০১৬ সালের তুলনায় দেড় হাজার কোটি টাকায় কমে ২০১৭ তে আমানতের পরিমান ৪ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডে ব্যাংক প্রকাশিত এই তথ্য দেখা যায়। তবে এই তথ্যে অর্থ পাচার কমছে এমন ভাবার সুযোগ নেই। যেসব বাংলাদেশি অন্যদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তা গোপন রেখেছেন তাদের অর্থের পরিমাণ এ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত নয়।এমনকি গচ্ছিত রাখা স্বর্ণ বা মূল্যবান সামগ্রির আর্থিক মূল্যমান ও হিসেব করা হয়নি প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, আমাদের দেশে কালো টাকা বেড়ে গেছে। অনেকে যারা শক্তিশালি তারা দেশের বাইরেও কালো টাকা পাচার করে। মালপত্র কিছু আসে না, কিন্তু ব্যাংক এবং কাস্টমসের যোগ সাজসে দেখানো হয় মালপত্র ছাড় হয়ে গেছে। মাল না আসলেও টাকা চলে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকও নির্বিকার ভাব। যারা এই কাজগুলো করে তারা খুবই শক্তিশালী। যেই দলই সরকারে আসে তাদের সবার সাথেই তাদের কাজের সম্পর্ক থাকে । বাংলাদেশে অনেক অর্থনৈতিক ইন্টেলিজেন্ট আছে, তারা একটু সজাগ থাকলেই এইসব কালোবাজারিদের ধরা সম্ভব। কিন্তু সেই ধরনের উদ্যোগ আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাচ্ছি না।

মূলত পণ্য আমদানি রপ্তানিতেও ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিং মাধ্যমে অর্থ পাচার করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এর সাথে জড়িত থাকে এক শ্রেণির দুর্নীতিগ্রস্ত কাস্টমস কর্মকর্তারাও। পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হুন্ডির দৌরাত্ম। প্রযুক্তির কল্যাণে এরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইড়ে।

সরকারের উদ্যোগে দুর্বলতা বলে মানছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন ওভার ইনভয়েসিং ঠেকাতে ব্যাংক গুলোতে নজর দেয়ার নির্দেশনা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আইন কাগজে আছে, কিন্তু সেই আইনকে যদি বাস্তবায়নে না আনা যায় তাহলে এর কোনো মূল্য থাকে না। আমার মনে হয় বাস্তবায়নটা একটু কম। আমাদের লোকবল কম, প্রশিক্ষিত লোকবল আরো কম। আর যেই লোকগুলো এখানে কাজ করছেন তাদের মোটিভেশনটা ঐ পর্যায়ে নয়। এটা সার্বিকভাবে দেশের জন্য অমঙ্গল, এটা তাদের মধ্যে আসছে না। আর দুর্নীতি তো আছেই।

২০০২ সালের পর থেকে গত দেড় দশকে সুইস ব্যাংক গুলোতে বাংলদেশিদের জমানো অর্থের পরিমান বেড়েছে ২২ গুণ।

সুইস ব্যাংক গুলোতে বাংলাদেশিদের জমানো অর্থের পরিমান কিছুটা কমলেও এতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের ধারনা সাম্প্রতিক বছর গুলোতে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিবেদনের কারণে ইউরোপের অন্যান্য দেশে বাড়তে পারে অর্থ পাচারের পরিমাণ। তবে তারা মনে করছেন কেন্দ্রিয় ব্যাংক, দুর্নীতি দমন এবং কাস্টমসের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে পারলে এবং সর্বপরি এবং স্বদইচ্ছা থাকে তাহলে অর্থ পাচারের পরিমান কিছুটা হলেও সম্ভব।

সূত্র : যমুনা টেলিভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত