প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিন সিটি নির্বাচন দেখে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বিএনপির 

শাহানুজ্জামান টিটু : সিলেট বরিশাল ও রাজশাহী নির্বাচনকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য শেষ পরীক্ষা হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে গাজীপুর ও খুলনার মত নিবার্চন যদি এই তিন সিটিতে হয় তাহলে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ বিষয়টি অনিশ্চত হয়ে পড়বে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদদুদ বলেন, তিনটি সিটি নির্বাচন দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো যে, আগামীতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবো কি-না। এখনো আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। তবে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। তিনি বলেন,  কোন দলীয় সরকারের অধিনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় এমটি প্রমাণ করতেই, এবার আমরা রাজশাহী বরিশাল ও সিলেটে দেখবো। এটা হবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য শেষ পরীক্ষা।

তিন সিটি নির্বাচনের পর আগস্ট মাসের দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে দলটি। এ লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বয়কট করা দলগুলোর সঙ্গে জোট করার প্রক্রিয়া চলমান। যে কোনো সময়েই এই জোটের আত্মপ্রকাশ হতে পারে। আর সেটা হলে পাল্টে যাবে ২০দলীয় জোটের নাম। সেখানে ভিন্ন নামে নির্বাচনী জোট হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অনেকদুর এগিয়েছে বলে জানান বিএনপির নীতিনির্ধারনী পর্যায়ের এক নেতা। জোট গঠনে বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে প্রত্যাহর করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মেয়র প্রার্থীকে সর্মথন করা হয়েছে। এছাড়া তিন সিটি নির্বাচনে বিএনপি সর্মথিত প্রার্থীকে সর্মথন দিতে পারে জোটের বাইরে থাকা দলগুলো।

জোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়ে যে কাজ চলছে এ প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বৃহত্তর ঐক্য করার চেষ্টা আমার করে যাচ্ছি। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ কতগুলো বিষয়ে আমরা প্রায় ঐকমত্যের কাছাকাছি। বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ঐক্যের বিষয়ে আমরা অনেকটা এগিয়েছি। একত্রিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের সামনে এখন দুটি প্রধান বিষয় একটি হলো খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করা, অপরটি আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করা। এজন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। যা করলে এদেশের ও জনগণের মঙ্গল হয় গণতন্ত্র ফিরে আসে, মানুষ তার ভোটাধিকার ফিরে পায়, আইনের শাসন, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ফিরে আসে এসব বিষয়ে যারা আমাদের সঙ্গে আসতে চায় আমরা তাদেরকে নিয়ে এগোতে চাই। রাজনীতিতে জোট হতে পারে না বা হবে না এমন তো নয়। তিনি আরও বলেন, এই সরকারের অধিনে নির্বাচনের নমুনাতো আমরা সবাই প্রত্যক্ষ করলাম। জাতীয় নির্বাচনে এমনটা হবে না এর নিশ্চয়তা কোথায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত