প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

যে ৫ কারণে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফেভারিট আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক: নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে দৃঢ় প্রত্যয় আর ভাগ্যের যোগসূত্র গেঁথেই প্রথম রাউন্ডের বৈতরণী পার হতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কিন্তু নক আউট পর্বে কতটুকু ঘটবে সেই সম্মিলন? আলবিসেলেস্তেরা কী পারবে ফ্রান্স নামক বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টারের টিকিট কাটতে?

দেখে নেয়া যাক এমন পাঁচটি কারণ, যা আর্জেন্টিনাকে রাখবে সম্ভাব্য বিজয়ীর সারিতেই-

পাথরটা নেমে গেছে!
নবাগত আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্রয়ের পর ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩ গোল হজম। এমন দুর্বল আর্জেন্টিনার পক্ষে বাজি ধরার মানুষ খুঁজে পাওয়াই ছিল দায়! শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা পেরেছে। মুখ রক্ষা হওয়ায় সঙ্গে বুক থেকে খানিকটা ওজনও নেমে গেছে, যাকে বলা হয় চাপ নামের বিশাল এক পাথর। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়টা কেবল পরের রাউন্ডেই তোলেনি, আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের মনে ফিরিয়েছে আত্মবিশ্বাসও। ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে এরচেয়ে দামি অর্জন আর কী হতে পারে মেসিদের জন্য!

আত্মবিশ্বাস-অনুপ্রেরণা
ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের আর্জেন্টিনাকে দেখে মনে হয়েছিল হৃদয়ভাঙা প্রেমিকের মতো। আর লিওনেল মেসিকে মনে হয়েছিল যেন পায়ে কেউ বেঁধে দিয়েছে পাথরর বোঝাই কিছু। যে মেসিকে কেউ চেনে না, যিনি নিজেও হয়ত আঁতকে উঠবেন সেই ম্যাচের ভিডিও দেখে।

নাইজেরিয়ার বিপক্ষে পাওয়া গেল চিরচেনা মেসিকে। তাতে সেদিনই প্রথম মনে হয়েছে, হ্যাঁ- খুঁজে পাওয়া গেছে ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে! যে মেসিকে বিশ্ব জানে মুখচোরা হিসেবে, তিনিই বিরতিতে দলের উদ্দেশ্যে রেখেছেন জ্বালাময়ী এক ভাষণ। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে গোল করার পর মার্কোস রোহো সামনে এনেছেন অধিনায়কের সেই বক্তব্য ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে দলকে।

রোহো, বানেগা, মাশ্চেরানোরাও সবটুকু ঢেলে দিচ্ছেন। ছন্নছাড়া দলটাকেই শেষ ম্যাচের পর বেশ গোছানো মনে হচ্ছে। বিশ্বকাপ যদি মেসিকে বদলে দিতে পারে, তবে আর্জেন্টিনাকে কেনো নয়! নাইজেরিয়া ম্যাচের আত্মবিশ্বাস আর মেসি নামের অনুপ্রেরণা, ফ্রান্সের জন্য সেই বদলে যাওয়া দলটি হতে পারে মহাবিপদের কারণই!

প্রত্যাশার পিঠে নির্ভার
এই সত্যিটা মানতে হয়ত দ্বিধা করবেন না আর্জেন্টাইনরাও, যে- ফ্রান্সের বিপক্ষে আন্ডারডগ হয়েই নামতে হচ্ছে মেসিদের। শক্তি-ট্যাকটিস, খেলোয়াড়ের প্রাচুর্যে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে এবার যোজন-যোজন ব্যবধানে এগিয়ে ফরাসিরা। গোলবারের নীচে প্রহরী, রক্ষণ, মাঝমাঠ, আক্রমণ; সব জায়গায়ই ভারসাম্যপূর্ণ একটা দল হয়ে মালা গেঁথে আছে ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ের দেশমের নিজেরই আছে বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা।

এমন এক দলের বিপক্ষে হারানোর কিছুই নেই, এমন আত্মপ্রত্যয়ই নির্ভার রাখতে সাহায্য করবে আর্জেন্টিনাকে। যেখানে ভালো খেলার অন্যতম মূলমন্ত্রই বলা হয় নির্ভার থেকে খেলতে পারাকে।

অবিশ্বাস্য কিছুর অপেক্ষা
যে দল বাদ পড়তে পড়তে পরের রাউন্ডের টিকিট পেল, তাকে কী একেবারেই বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়া সম্ভব? দলটা যদি হয় আর্জেন্টিনার মতো প্রতিপক্ষ, তাহলে তো দুবার ভাবতেই হয়। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সেই দলটাই হয়ত জন্ম দেবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আরও কিছু রূপকথার। এটা তো ওপেন সিক্রেট যে, পুরো আর্জেন্টিনা দলই খেলছে মেসির হাতে একটা বিশ্বকাপ শিরোপা তুলে দিতে। আর ফেভারিট একটা দল বারবার হোঁচট খাবে এতটা নির্দয় তো নয় ফুটবল! অবিশ্বাস্য কিছুর অপেক্ষায় তাই থাকাই যায়।

মেসি, এবং মেসি
যে লিওনেল মেসির নাম বললেই যে ভয়ঙ্কর চাপ এসে পড়ে প্রতিপক্ষের মাঝে, তেমন কিছুর ছিটেফোটাও খুঁজে পাওয়া যায়নি গ্রুপপর্বে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচে। অধিনায়কের অনুজ্জ্বলটা ভুগিয়েছে দলকেও।

আসল মেসির দেখা মিলেছে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। বাতাসে ভালো খেলেন না, দূরপাল্লার পাসেও তেমন সবল নন, এমন বদনামও ঘুছিয়ে ওঠার চেষ্টা দেখা গেল। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে করেছেন দারুণ এক গোলও। সেই গোলের সঙ্গে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের বাড়তি পাওনা অধিনায়ক মেসির চেনারূপে ফেরা। ফ্রান্সের বিপক্ষেও অধিনায়ক যদি এমন উজ্জীবীত থাকেন, আকাশী-নীলর তছনছ করে দিতে পারবেন প্রতিপক্ষকে। ঘুরেফিরে মেসিই তাই নিয়ামক। আর্জেন্টিনারও নিয়তির চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। এখন কেবল দারুণ কিছুর অপেক্ষা!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত