প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোন্দল, অনুপ্রবেশে চিন্তিত আওয়ামী লীগ!

ডেস্ক রিপোর্ট : সারাদেশে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর ব্যাপক হারে বিরোধী মতাদর্শীদের অনুপ্রবেশ নিয়ে চিন্তিত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। সারাদেশে গত সাড়ে ৯ বছরে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শান্তি কমিটির কর্মকর্তা ও তাদের সন্তান-স্বজনসহ অসংখ্য জামায়াত-শিবির-বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থক আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগে যোগদান করেছেন। অতীত অপকর্ম থেকে রেহাই পাওয়া, দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, আগামী নির্বাচনে জনগণ থেকে দলকে বিচ্ছিন্ন করার টার্গেট নিয়ে তারা ক্ষমতাসীন দলে অনুপ্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকে পেয়েছেন তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ পদ। কেউ কেউ জনপ্রতিনিধিও হয়েছেন। অন্যদিকে সারাদেশে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও এখন ভয়াবহ। অধিকাংশ সংসদীয় আসনে নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব। কেউ কারো মুখ দেখতে চান না। দলীয় ও জাতীয় কর্মসূচি পৃথকভাবে পালিত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। সারাদেশের সাংগঠনিক এমন চিত্র এখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কাছে এসেছে।

সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোন্দল ও অনুপ্রবেশের চিত্র একেবারে গ্রামপর্যায়ের তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে শুনবেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে গ্রামের নেতাদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন। এ জন্য আজ শনিবার বেলা ১১টায় গণভবনে চার বিভাগের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডপর্যায়ের নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধীন প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত দলীয় চেয়ারম্যান, মহানগরের অধীন সংগঠনের প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় নির্বাচিত কাউন্সিলরগণ এবং জেলা পরিষদের নির্বাচিত দলীয় সদস্যগণ উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া আগামী ৭ জুলাই বাকি ৪ বিভাগের উল্লিখিত পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে দ্বিতীয় দফায় বর্ধিত সভা গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা, ওয়ার্ড নেতাদের একটা বিরাট ভূমিকা থাকে। গ্রামের মানুষ কাকে ভোট দেবে, কেন দেবে এ বিষয়ে এ নেতারা দায়িত্বও পালন করেন। এবার গণভবনে তাদের ডাকা হয়েছে। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাদের সামনে রেখে নির্বাচনী দিকনির্দেশনা দেবেন এবং তাদের কথাও শুনবেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুই জন নেতা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। ফলে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যেও জোরেসোরে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসব বর্ধিত সভা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, বর্ধিত সভায় বর্তমান সরকারের আমলে দেশের যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে তা সঠিকভাবে প্রচার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা, বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরা, ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝানো, নৌকায় ভোট দেওয়ার যুক্তি তুলে ধরা, বিগত সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনামূলক উন্নয়নচিত্র তুলে নৌকার পক্ষে ব্যাপক জনমত গঠনের নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের মধ্যে যারা ভাঙন সৃষ্টি করছেন বা দ্বন্দ্ব জিয়ে রাখছেন তাদের বিষয়েও দিকনির্দেশনা থাকবে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের বাইরে যদি কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চান তাদের বিষয়ে কঠোর দিকনির্দেশনা থাকবে। কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশনাও আসতে পারে। এ ছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের সাড়ে ৯ বছরের উন্নয়ন সম্বলিত পুস্তিকা দেওয়া হবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের হাতে। এ বিষয়ে পড়ে জেনে যেন সাধারণ মানুষের কাছে বলতে পারে সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, খুলনার চেয়ে গাজীপুর সিটি ভোটে দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বার্তা দেখছেন ক্ষমতাসীনরা। তারপরও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে এবার আর কোনো ধরনের ঘাটতি রাখতে চায় না আওয়ামী লীগ। এ জন্য এবার একেবারে গ্রামপর্যায়ের নেতাদের নিয়ে বর্ধিত সভা হচ্ছে। সূত্র : ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ