প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

ফ্লাইওভারেও উল্টোপথে গাড়ি

ডেস্ক রিপোর্ট: ফ্লাইওভারের যেখান দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি নামছে সেখান দিয়ে উঠছে উল্টোপথের গাড়ি, যাতে দুর্ঘটনাও ঘটছে।

পথ কমাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে উল্টোপথে চলাচলের ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রামের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের লালখানবাজার অংশে।

নগরীর ষোলশহর এলাকার খুলে দেওয়া একমুখী লূপের কারণে মটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার নিয়ম লঙ্ঘন করে উল্টো দিক দিয়ে চলাচল করছে।

ফ্লাইওভারে উল্টোমুখী যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং ফ্লাইওভারের সব লুপ ও র‌্যাম্প পুরোপুরি চালু করা না গেলে যে কোনো সময় বড় ধরনেরর দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকছে বলে মনে করছেন অনেকে। এর জন্য সিডিএ কর্তপক্ষ ও পুলিশকে দুষছেন তারা।

গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি চলাচলের জন্য খুলে দেয় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সে সময় ফ্লাইভারের ষোলশহর ও জিইসি অংশের লুপ ও র‌্যাম্প নির্মাণ কাজ হয়নি।

সর্বশেষ গত ১ জুন ঈদের আগে ভোগান্তি কমানোর কথা বলে নগরীর ষোলশহর অংশের ১৩০০ মিটারের লুপটি খূলে দেয় সিডিএ। তবে ওই নির্মাণ কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চার লেইনের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারটি নগরীর লালখান বাজার মোড় থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত। এর এক লেইনে লালখানবাজার মোড় থেকে গাড়ি উঠে সেটি নামে মুরাদপুরে। অপর লেইনে মুরাদপুর থেকে উঠে নামে লালখান বাজারে।

নগরীর ষোলশহর অংশের যানজট নিরসনের জন্য বেবী সুপার মার্কেট থেকে শুরু করে জিইসি মোড়ের আগে সানমার ওশ্যান সিটির সামনে পর্যন্ত ১৩০০ মিটারের লুপ নির্মাণ করা হয়।

এ অংশ দিয়ে বেবী সুপার থেকে গাড়ি উঠে মূল ফ্লাইওভারের সাথে যুক্ত হয়ে লালখান বাজার মোড়ে নামার পাশাপাশি সেটি দিয়ে সানমার অংশে নামার সুযোগ রয়েছে।

এর বাইরে অন্য লেইনের সাথে জিইসি মোড়ের সানমার অংশ থেকে উঠে ষোলশহর অংশে নামার জন্য যে র‌্যাম্পটি হওয়ার কথা সেটির নির্মাণ কাজ এখনও চলছে।

সে কারণেই লালখান বাজার মোড় থেকে মটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার নির্দিষ্ট লেইনে না গিয়ে উল্টো লেইন ধরে ষোলশহরের লুপে নিয়ম লঙ্ঘন করে উঠছে। এর মধ্যে মটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশি।

গত ১ জুন লুপ উদ্বোধনের পর থেকে উল্টো যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বেশি বেড়ে গেছে।

শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ষোলশহর অংশের লুপের সংযোগে অবস্থান করে দেখা গেছে, কমপক্ষে নয়টি মটর সাইকেল, দুটি প্রাইভেটকার ও একটি সিএনজি অটোরিকশা লালখান বাজার মোড় থেকে উল্টো পথে এগিয়ে ষোলশহর অংশের লুপের সংযোগে এসে উল্টো দিকে যাতায়াত করছে।

বেলা পৌনে ১টায় উল্টোপথে আসা মটরসাইকেল আরোহী সিঅ্যান্ডএফ অফিসের কর্মচারী মোহাম্মদ আমিনকে জিজ্ঞেস করা হয়, কেন তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উল্টো লেইনে গাড়ি চালাচ্ছেন?

জবাবে তিনি বলেন, ষোলশহর দুই নম্বর এলাকায় একটি জানাজায় অংশ নিতে দ্রুত যেতে উল্টোপথে এসেছেন।

মূল ফ্লাইওভার অংশে বাস, ট্রাকসহ ভারি যানবাহনের দ্রুতগতির চলাচলে দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন এ আশংকার কথা মেনে নিয়ে বলেন, “সাবধানে চলছি, যাতে কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়ি।”

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই একই অংশে লালখান বাজারের দিক থেকে উল্টোপথে আসা দুটি মটরসাইকেলের সঙ্গে মুরাদপুরের দিক থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ার উপক্রম হয়।

সরেজমিনে ফ্লইওভার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মুরাদপুর ও লালখানবাজার অংশে সিডিএ বা ফ্লাইওভার নির্মাণের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-রেঙ্কিনের কোনো প্রতিনিধি দেখা যায়নি উল্টোপথে যানবাহন চলাচল থামানো তদারকিতে। ট্রাফিক পুলিশ বা থানা পুলিশের কেউ ছিল না সেখানে।

গত বৃহস্পতিবার বিকালেও উল্টোপথে যানবাহন চলতে দেখা গেছে। ফ্লাইওভারের উপরে নির্মাণ কাজের নিরাপত্তার তদারকিতে থাকা এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “লুপটি খুলে দেওয়ার পর প্রতিদিনই উল্টোপথে গাড়ি আসছে। কিন্তু কেউ কিছু বলছে না।”

১৫ দিন আগে উল্টোপথে আসা একটি মটর সাইকেলকে একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দিয়েছিল। এ রকম ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায়ই হচ্ছে।

তিনি বলেন, লুপের সংযোগ অংশে এবং মূল ফ্লাইওভারের দুই মাথায় তদারকি থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, “যুগটা হচ্ছে লোকরঞ্জনবাদের। কৃতিত্ব পাওয়ার মোহে পুরো কাজ শেষ না করেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে ফ্লাইওভারটি চালু করা হয়েছে। কিন্তু সে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য কার্যকর সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

তিনি বলেন, ফ্লাইওভারের র‌্যাম্প ও লুপের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না। কাজ পুরো শেষ না করে খুলে দেওয়া এবং যানবাহন চলাচল করতে দেওয়ার কারণে এসব হচ্ছে।

উল্টোপথে গাড়ি চলাচল বন্ধের ক্ষেত্রে পুলিশ ও সিডিএ তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জনস্বার্থে ফ্লাইওভারে উল্টোপথে গাড়ি ওঠা বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সব সময়ের তদারকি প্রয়োজন।”

এ প্রসঙ্গে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, “মূল ফ্লাইওভারে গাড়ি উঠবে-নামবে তা ঠিক করা আছে। যাওয়া- আসার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা থাকার কথা না। আর সেখানে উল্টোভাবে গাড়ি প্রবেশ করার সুযোগও নেই।

“আগামী কোরবানির ঈদের আগে র‌্যাম্প ও লুপ নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলে ফ্লাইওভারে কোনো রকমের সমস্যা থাকবে না।”

এরপরও কেউ যদি উল্টোপথে ফ্লইওভারে প্রবেশ করে তা দেখার দায়িত্ব চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের  ট্রাফিক বিভাগের (উত্তর জোন) উপ-কমিশনার হারুনর রশিদ হাযারি বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কীভাবে এটা বন্ধ করা যায় আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।” সূত্র: বিডি নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত