প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

আগেই গোল দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : শুরু হচ্ছে নক আউট পর্ব। চমক রয়েছে বেশ কিছু। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ছিটকে গেছে গ্রুপ পর্ব থেকেই। তার মানে এই নয় যে টুর্নামেন্ট আকর্ষণ হারিয়েছে। আমার তো মনে হয় সামনে আরো চমক অপেক্ষা করছে।

অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে। সত্যি বলতে কি, আমার কাছে আর্জেন্টিনার খেলা ভালো লাগেনি। তবে কষ্ট করে একটা বাধা পার হওয়ার সুবিধাও আছে। কঠিন কাজ আগেভাগে করে ফেললে পরের ধাপটা সহজ মনে হয়। তবে হারি কিংবা জিতি, আমার বিশ্বাস দলটা আগের চেয়ে ভালো খেলবে। এই ফ্রান্সকে আগের মতো শক্তিশালী মনে হচ্ছে না। তবে কোনো সন্দেহ নেই ওদের কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। সে কারণে আমাদের রক্ষণভাগে উন্নতি করতে হবে। আক্রমণভাগে আর্জেন্টিনার যথেষ্ট শক্তি রয়েছে। খবর কালের কণ্ঠ’র।

বিশ্বকাপে এসে প্রতিপক্ষ নিয়ে ভেবে লাভ নেই। এই মঞ্চে জিততে হলে আপনাকে যেকোনো দলের জন্য তৈরি থাকতে হবে। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে দুর্ধর্ষ সব দলকে হারিয়েই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষেও ওদের সীমানাতেই খেলেছে আর্জেন্টিনা। তবে ফ্রান্স ম্যাচে অতটা জায়গা হয়তো পাওয়া যাবে না, লড়াই হবে সমানে সমান। তবে আমরা যদি বলের দখল রাখতে পারি, ভুল না করি, মেসি ফর্মে থাকে তাহলে কোনো সমস্যা দেখছি না। বুঝতে পারছি অন্যদের চেয়ে মেসির ওপরই বেশি মনোযোগ থাকবে ফ্রান্সের। তাতেও সমস্যা নেই, ফ্রান্স তো আর ব্রাজিল নয়।

ফ্রান্স এবং এর মিলিয়নেয়ার খেলোয়াড়দের অনেকে লম্বা বিশ্রাম পেয়েছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচেই যেমন দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ডেনমার্কের বিপক্ষে তারা নিয়মিত একাদশের পাঁচজনকে খেলায়নি। সেই তারা কিন্তু আর্জেন্টিনা ম্যাচে ঠিকই ফিরবে, প্রায় ৯ দিনের বিরতির পর। তাতে শারীরিকভাবে আরো চাঙ্গা দেখাবে ফ্রান্সকে।

আমি নিশ্চিত ম্যাচে দুই দলের লক্ষ্য থাকবে দুই রকম। নক আউটে উঠতে কঠিন কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি ফ্রান্সকে। মনে হবে আর দশটা ম্যাচের মতো খেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে তারা। আর্জেন্টিনার মতো অতটা মরিয়া ফুটবল তাদের খেলতে হয়নি। এবারের আসরে আর্জেন্টিনার অন্দরমহলে কী কী হয়েছে, তা হয়তো ভবিষ্যতে কোনো একদিন জানা যাবে। তবে মেসি, বিলিয়া, মাসচেরানো, আগুয়েরো, বানেগা আর গুজমানরা মিলে ভয়াবহ একটা বিপর্যয়ের মুখ থেকে দলকে বাঁচিয়েছে। তাতে নিশ্চিতভাবেই মেসিদের শারীরিক পরীক্ষাটা আরো কঠিন হবে ফ্রান্স ম্যাচে। সে কারণেই ফ্রান্স চাইবে খেলাটা যেন অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। আর আর্জেন্টিনা শেষ করতে চাইবে নির্ধারিত সময়েই। ম্যাচের দৈর্ঘ্য যত বড় হবে, তত কার্যকর দেখাবে তরতাজা আর গতিময় ফ্রান্সকে।

আর্জেন্টিনার চেয়ে তিনটি বিষয়ে এগিয়ে ফ্রান্স—শারীরিক অবস্থা, বলের দখল আর গতি। আর ফ্রান্সের চেয়ে আর্জেন্টিনা এগিয়ে মেসির উপস্থিতি এবং টেম্পারামেন্টে। দাঁত কামড়ে লড়াইয়ের শিক্ষাটা তো গ্রুপ পর্বেই হয়ে গেছে আর্জেন্টিনার।

আর্জেন্টিনাকে বলব সে মতে প্রথম ঘণ্টাতেই গোল দিয়ে ডিফেন্স করো। ফ্রান্স কিন্তু চাইবে ঠেলেঠুলে অতিরিক্ত সময়ে খেলা নিয়ে পরিশ্রান্ত তোমাদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত