প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বেড়েছে ইপিজেডে

ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত এশিয়ার এক সময়ের বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিলসের শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও আদমজী নগরবাসীর জন্য একটি বেদনাবিধুর দিন। ২০০২ সালের এই দিনে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেয় চিরতরে। এতে ২৪ হাজার ৯১৬ শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তা চাকরি হারান। আদমজী বন্ধের কয়েক বছরের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে বন্ধ হয়ে গেছে আরও অন্তত ১০টি পাটকল। তবে আদমজীর ঐতিহ্যবাহী ওই শ্রম জনপদে গড়ে ওঠা ইপিজেডে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এলেও ঠাঁই হয়নি চাকরি হারানো ওইসব শ্রমিকের। এমনকি আদমজী জুট মিলের শ্রমিকদের সন্তানদেরও চাকরি মেলেনি ইপিজেডে। ২০০৬ সালের ৬ মার্চ ইপিজেডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেই থেকে পথচলা এ ইপিজেডে একে একে গড়ে উঠছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান। তখন থেকেই আদমজী ইপিজেডে ক্রমেই বাড়ছে বিনিয়োগ; বাড়ছে কর্মসংস্থান। সেইসঙ্গে বাড়ছে রপ্তানিও।
আদমজী ইপিজেড সূত্রমতে, বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী পাটকলের ২৪৫ দশমিক ১২ একর জমির ওপর আদমজী ইপিজেড স্থাপিত হয়েছে। এ ইপিজেডে মোট প্লটের সংখ্যা ২২৯। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ জোন (বেপজার) ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, এ পর্যন্ত এ ইপিজেডে ৫৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে। যার মধ্যে ২৯টি বিদেশি, ১৪টি যৌথ মালিকানাধীন ও ১৪টি বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, মরিশাস, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, হংকং, চীন, ভারত, পাকিস্তান, রোমানিয়া, কুয়েত, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, ভার্জিন আইল্যান্ড ও কানাডার মালিক। প্রতিটি প্লটের আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার। কোনো কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের ১০-এর বেশি প্লট বরাদ্দ নিয়েছে। এসব কারখানায় গার্মেন্ট, জিপার, কার্টন, হ্যাঙ্গার, লেভেল, ট্যাগ, জুতা, সোয়েটার, টেক্সটাইল, মোজা, জুয়েলারি, পলি ও ডাইংসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন হচ্ছে; যা শতভাগ রপ্তানিযাগ্য। আদমজী ইপিজেড প্রতিষ্ঠার পর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ হয়েছিল চার মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ইপিজেডে বিনিয়োগ হয়েছে ৪৪৬ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বিদেশে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৯ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অথচ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশে রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ২৬৭ দশমিক ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে কর্মসংস্থান হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ৬২৫ জনের। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ইপিজেডে চাকরি করছেন ৫৬ হাজার ১২৭ শ্রমিক, কর্মচারী-কর্মকর্তা।
যেভাবে আদমজী জুট মিলের শুরু : তৎকালীন পাকিস্তানের ২২ পরিবারের অন্যতম ধনাঢ্য আদমজী পরিবারের তিন ভাই ওয়াহেদ আদমজী ওরফে দাউদ আদমজী, জাকারিয়া আদমজী ও গুল মোহাম্মদ যৌথভাবে ১৯৫০ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ২৯৪ দশমিক ৮৮ একর জমি নিয়ে আদমজী জুট মিলস প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৭০০ হেসিয়ান ও ১ হাজার সেকিং লুম দিয়ে এ মিলের উৎপাদন শুরু হয়। তখন প্রায় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত আদমজী জুটমিলে প্রতিদিন গড়ে ২৮৮ টন পাটের চট উৎপাদন করা হতো। তখন মিলে ৩ হাজার ৩০০টি তাঁতকল বসানো হয়। ওই সময় মিলের উৎপাদন থেকে প্রতি বছর প্রায় ৬০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। আদমজীর চটের ব্যাগ ও বস্তার একটি অংশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হতো। ৪নং মিলে তৈরি উন্নতমানের ব্রডলুম, জিও নামে পাটজাত পণ্য পুরোটাই বিদেশে রপ্তানি হতো। ৫নং মিলে (এবিসি) তৈরি হতো লেমিনেটেড পলি ব্যাগ। ৬নং মিলটি ছিল ওয়ার্কশপ।
নারায়ণগঞ্জে বন্ধ হয়েছে আরও ১০টি পাটকল : আদমজী জুট মিল বন্ধ হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জে বন্ধ হয়েছে আরও অন্তত ১০টি পাটকল।
বন্ধ হয়ে পড়া জুট মিলগুলোর মধ্যে রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত তাজ জুট প্যাকিং কোম্পানি, প্রাইম জুটেক্স, শীতলক্ষ্যার পূর্বতীরে সোনাকান্দার সারোয়ার জুট মিল, নবীগঞ্জে জামাল জুট মিল, উত্তর নদ্যার আমিন ব্রাদার্স জুট অ্যান্ড কোং, কাঁচপুর এলাকায় আনোয়ার জুট মিল, এলাইড জুট মিল, রূপগঞ্জে তারাব এলাকায় নিশান জুট মিল, গাউছিয়া জুট মিল, মাসরিকী জুট মিল।
সূত্র : আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত