প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এটি খাল বা নালা নয়!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ছবিটি দেখলে মনে হতে পারে এটি কোনো খাল-বিল বা নালার ছবি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়। এটি নড়াইল শহরের প্রাণ কেন্দ্রে গড়ে ওঠা অর্ধশত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শিব শংকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ। এখানেই প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের জলাবদ্ধতাকে পায়ে ঠেলে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হয়। এ কারণে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পুরোনো এ বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতার জন্য পাঠদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয় চত্বরের মাঠে বছরের প্রায় ৮ মাস পানি জমে থাকার কারণে কোমলমতি শিশুরা খেলাধুলা করতে পারে না। অন্যদিকে জলাবদ্ধতার কারণে পানি পচে সাপ ও জোঁকের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ এবং শিক্ষকরা এসব সমস্যা সমাধান করতে পারছেন না। ফলে বিদ্যালয়ের পাঠদান ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যার জন্য শিক্ষার্থীরা শহরের স্বনামধন্য এ বিদ্যালয়ে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। রোজা ও ঈদের এক মাস ছুটির পর থেকে জলাবদ্ধতার কারণে এ বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে না। খবর বার্তা২৪’র।

১ম শ্রেণির ছাত্রী হাসনা হেনা ও ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র রায়হান কাওসার জানায়, বিদ্যালয়ে আসতে গেলে পচা ও নোংরা পানির ভেতর দিয়ে আসতে হয়। এছাড়া পানিতে সাপ, জোঁকসহ বিভিন্ন পোকামাকড় রয়েছে। তাই তাদের বিদ্যালয়ে আসতে ইচ্ছা করে না।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক আসমা খাতুন বলেন, ‘আমার বাচ্চাটি শিশু শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু ভয় লাগে যদি পানিতে ডুবে গিয়ে কোনো বিপদ ঘটে। শিক্ষকদের বলা হয়েছে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’

স্কুলের অভিভাবক সাজ্জাদ হোসেন টিপু জানান, অর্ধশত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রায় সারা বছর পানি জমে থাকে। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও কয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে পানি পচে নষ্ট হচ্ছে। মশা, মাছি, জোঁক ও সাপের উপদ্রব বাড়ছে। ফলে পানিবাহিতসহ বিভিন্ন রোগ ব্যাধির সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় বাচ্চাদেরকে স্কুলে পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি এ সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসক এবং নড়াইল পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রেশমি সুলতানা বলেন, ‘এসব সমস্যার কথা জানিয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একটি দরখাস্ত দিয়েছে। আমাদের এ বিদ্যালয়ে ৪ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। বিদ্যালয়ের পড়াশুনার মান ভালো হওয়ার কারণে রেজাল্টও যথেষ্ট ভালো। আশা করছি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।’

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রশিক্ষণে থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মু. শাহ আলম বলেন, ‘বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে একটি দরখাস্ত দিয়েছে। বিষয়টি নড়াইল পৌর মেয়রও অবগত রয়েছেন। শুনেছি স্থানীয় কয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে জলাবদ্ধতার বিষয়টির সমাধান হচ্ছে না। আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে বিষয়টি নিয়ে দু’এক দিনের মধ্যে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব।’

নড়াইল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শরফুল আলম লিটু জানান, ওই বিদ্যালয় মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে ড্রেন সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত