প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমি দেখেছি কীভাবে বাঙালি ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসেছে

ডেস্ক রিপোর্ট : মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সন্তান আমি। দেখেছি কীভাবে বাঙালি জাতি আস্তে আস্তে ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসেছে। একান্নবর্তী পরিবারের সদস্য হওয়ায় পরিবার থেকে শিখেছি মিলেমিশে চলা, আনন্দ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার উপায়।

শুক্রবার (২৯ জুন) দৃষ্টি চট্টগ্রামের বিশেষ আয়োজন ‘দৃষ্টি আড্ডা’র পঞ্চম আসরে সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কবি জিন্নাহ চৌধুরী, রোটারি ক্লাব অব চিটাগং পোর্ট সিটির সভাপতি সাইফুল হুদা সিদ্দিকী ও সুপ্রভাত বাংলাদেশের সহযোগী সম্পাদক কামরুল হাসান বাদল।

বাংলাদেশের বর্তমান ছাত্ররাজনীতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে ওয়াসিকা আয়েশা খান বলেন, আমরা রাজনীতি শিখেছি প্রগতিশীল, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে। কোনো কিছু পাওয়ার আশা না রেখেই আমরা রাজনীতি করেছি। আর আমার মা-বাবার কাছ থেকে আমি পেয়েছি সর্বোত্তম সহায়তা। বর্তমান ছাত্ররাজনীতিতে এরকম নিঃস্বার্থ রাজনীতিক তুলে আনার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। কারণ ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ।

আড্ডার একপর্যায়ে রাজনৈতিক আদর্শ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি উঠে এসেছি এমন এক পরিবার থেকে যেখানে আমার বাবা-মার অবদান অনস্বীকার্য। আমার বাবা আতাউর রহমান খান কায়সার ও মা নিলুফার কায়সার ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। তাদের সাহচর্যে আমি শিখেছি চারিত্রিক দৃঢ়তা, ন্যায়পরায়ণতা। সংস্কৃতির সঙ্গে রাজনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত আর এর মাধ্যমেই শিখেছি মানবিক রাজনীতি।

নারী ক্ষমতায়ন ও নারী বৈষম্য নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নারীদের কাজ করার সুযোগ খুব কম ছিল। কিন্তু এ চিত্র পাল্টেছে খুব দ্রুত। নারীরা আজ দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে। এমনকি রাজনীতিতেও রয়েছে তাদের সফল পদচারণা।

আড্ডার একপর্যায়ে তিনি বলেন, রাতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে অবরুদ্ধ সময়ে রাজনীতি করেছি। ছাত্রজীবনে করেছি ভিন্নধর্মী রাজনীতি কিন্তু কখনো ভ্রান্ত হইনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করেছি সবসময়, আর যতদিন পারবো, দেশের জন্যই কাজ করে যাবো নিরন্তর। জনগণ বিশ্বাস করেছে আমার ক্ষমতায়, আমার আত্মবিশ্বাসে এবং ‘দৃষ্টি আড্ডা’র পঞ্চম আসরে অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান

এর ধারাবাহিকতায় আজ আমি সংসদ সদস্য হয়েছি।
কামরুল হাসান বাদল বলেন, বিশ্বে অমানবিকতার জয়জয়কারের মধ্যে আজও বাংলাদেশ গেয়ে যাচ্ছে সাম্যের গান। ১৯৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতির দায় আজও বাংলাদেশ বয়ে বেড়াচ্ছে কিন্তু এর প্রভাব কমে আসছে ধীরে ধীরে কারণ বাংলাদেশের বর্তমান সরকার অনেক বেশি ভবিষ্যৎবান্ধব ও দূরদর্শী চেতনাশীল।

তিনি সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজনীতিকে নতুনভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান।

দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি মাসুদ বকুল বলেন, দৃষ্টি সৃষ্টিলগ্ন থেকে যাদের ছায়াতলে সৃষ্টি-বৃদ্ধি করেছে তাদের মধ্যে ওয়াসিকা আয়েশা খান অন্যতম। বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে যদি সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে হয় তাহলে তাদের মধ্যে হার না মানা মনমানসিকতা তৈরি করতে হবে।

উপস্থিত ছিলেন দৃষ্টির সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম হিরো, সাধারণ সম্পাদক সাবের শাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আরফাত, সহ সম্পাদক মুন্না মজুমদার, অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী সৌরভ নাথ, সহ সম্পাদক অনির্বাণ বড়ুয়া, উপসম্পাদক হাসান জাদিদ মাশরুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন আবৃত্তিকার মিলি চৌধুরী।
সূত্র : বাংলানিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত