প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

‘কোটা প্রথা না থাকার ভয়াবহতা’

জাহিদ হাসান : সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যকার বৈষম্য দূর করার জন্যই কোটা পদ্ধতি রাখা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন। শুক্রবার এ সংক্রান্ত এক স্ট্যাটাসে তিনি মহাদেশ-ভিত্তিক বিশ্বকাপের দল বাছাইয়ের দৃষ্টান্ত টেনেছেন।

ফেসবুকে খোকন লিখেন, চাকুরি ক্ষেত্রে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে অনেকেই আন্দোলন করেছেন। এখন গোপনে গোপনে আবার জটিলতা পাকানোর চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।

কেউ এই আন্দোলনে বুঝে গিয়েছেন কেউ না বুঝে গিয়েছেন। কেউ হুজুগে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কিন্তু এই কোটা প্রথা না থাকলে এই ভয়াবহ দিকটি কি হবে তা একটি উদাহরণ দিলেই বুঝে যাবেন।

এই যে বিশ্বকাপ ফুটবল। এখানে কিন্তু সবগুলো মহাদেশ থেকে মিলে ৩২টি দল অংশগ্রহণ করে। এশিয়া আফ্রিকা ইউরোপ আমেরিকারসহ ক্যারাবিয়ান দেশগুলোর ৩২টি দেশের মধ্যে কয়টি দেশ কোন জোন থেকে আসবে তা নির্ধারণ করে দেয় ফিফা।

আফ্রিকা থেকে ৫টা, এশিয়া ও ওশেনিয়া থেকে ৫টা কিন্তু ইউরোপ থেকে ১৩টা দেশ অংশ নিয়েছে এবার। ইউরোপ থেকে সর্বোচ্চ ১৩টা দেশ আসার পরও ইতালির মতো দেশ বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি। হয়তো অনেকেই বলতে পারেন, এটা কোটা পদ্ধতির কুফল। শুধু কোটার কারণে ইতালির মতো দেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে।

চিন্তা করেন যদি বিশ্বকাপে কোটা পদ্ধতি না থাকতো তাহলে কি হতো? দেখতেন- এই বিশ্বকাপ ফুটবলে শুধু ইউরোপ, নর্থ আমেরিকার দেশগুলোই ৩২টা দেশের জায়গা দখল করে নিতো। আফ্রিকা, এশিয়ার দেশগুলো আর বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিতে পারতো না। কোটা রাখা হয়েছে পৃথিবীর সুবিধা বঞ্চিত অনগ্রসর দেশগুলোও যেন বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে সেজন্য।

কোটা পদ্ধতি রাখাই হয় সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যকার বৈষম্য দূর করার জন্য। ঢাকা কিংবা বিভাগীয় শহরগুলোর ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে যে সুযোগ-সুবিধা পায় তা গ্রামের ছেলেমেয়েরা এখনো পায় না। আর না পাওয়ার সংখ্যাই বেশি। যদি চাকুরিতে কোটা না থাকে তাহলে সরকারি চাকুরি থেকে বেশি বঞ্চিত হবে মফস্বলের সুবিধা বঞ্চিত এই বিশাল অংশই।

কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে করা রাজনীতির ফাঁদে যারা পা দিয়েছেন কিংবা দিচ্ছেন তারা বিষয়গুলো ভেবে দেখবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত