প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

দেশে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নয় কোটি আম ব্যাগিং হয়েছে

মতিনুজ্জামান মিটু : নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তার জন্য চলতি মৌসুমে দেশে অন্তত ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় নয় কোটি আম ব্যাগিং করা হয়েছে। কিন্তু অসচেতনাতার কারণে স্থানীয় বাজারের আড়তগুলোতে ব্যাগিং করা আম চলছে না। বিদেশে রপ্তানী এবং দেশের মেগাসিটিগুলোর চেইনশপ গুলোতে এ ব্যাগিং করা আম বিপনননের কথা বলা হলেও কার্যত তা হয়নি। অনলাইন এবং ব্যক্তি পর্যায়ের অর্ডারের ভিত্তিতে কুরিয়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে এ আম পাঠানো হচ্ছে দেশের দূরদূরান্তে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভোক্তাদের ঘরে পৌছে দেয়া হচ্ছে কেজি প্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা দামে খিরসাপাত বা হিমসাগর ও ল্যাংড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম। বিভিন্ন কোম্পানী চীন থেকে আমদানী এবং স্থানীয় একটি কোম্পানী উৎপাদন করে এ ব্যাগ বাজারজাত করে। আমদানীকরা চীনা ব্যাগগুলো বিক্রি করে ৪ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৫০ পয়সায়। আর স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত ব্যাগ বিক্রি হয় ৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে। এই ব্যাগিং এর জন্য মজুরী খরচ লাগে প্রতিটি আমের জন্য ৫০ থেকে ৬০ পয়সা। ব্যাগের দাম এবং মজুরী খরচ ধরে প্রতি পিচ আমের ব্যাগিং এ লেগেছে পাঁচ টাকা ও ক্ষেত্র বিশেষে তারও বেশি।

এব্যাপারে নাটোরের পুরস্কারপ্রাপ্ত ফল চাষি সেলিম রেজা বলেন, ব্যাগিং এর আম নিরাপদ। অসচেতনাতার কারণে মানুষ ব্যাগিং এর মর্যাদা দিচ্ছেনা। হর্টিকালচারের পিডি থাকাকালে কৃষিবিদ কামরুজ্জামান সর্ব প্রথম চীন থেকে ফ্রুট এবং সবজির জন্য পরিবেশ বান্ধব কাগজের ব্যাগ আনেন। দেশের কলা থেকে শুরু করে সব ফলেই ব্যাগিং দরকার। ব্যাগিং এ ফল নিরাপদ থাকে, কালার এবং সেফও সুন্দর হয়। এ বছর নাটোরের লালপুরের কামরুজ্জামান লাভলু ৩৬০০০, এস এম কামরুজ্জামান ২০০০, নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার ২০০০ এবং আমি ৫০০০টি আমে ব্যাগিং করেছি। স্থানীয় আড়তে এই আম চলছেনা। অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যেমে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে এই আম।

নাটোরের আহমেদপুরের আড়দার সমিতির সেক্রেটারি ও মাই ট্রেডার্স এর সত্বাধিকারী মো. আবদুল মান্নানের বরাতে তিনি বলেন, খিরসাপাত বা হিমসাগর শেষের পথে। ল্যাংড়ার মূল পিরিয়ড চলছে। নাটোরের আহমেদপুরের বড় আমের আড়তে বর্তমানে কেজি প্রতি খিরসাপাত বা হিমসাগর কেজি প্রতি ৯ টাকা, ২৫ টাকা ও ৩১ টাকা, ল্যাংড়া ৯ টাকা ও ২৫ টাকা, আ¤্রপালি ৬ টাকা ও ২৫ টাকা, মালদা ৭ টাকা থেকে ২০ টাকা, মল্লিকা ৬ টাকা ও ১৩ টাকা, ফজলি ৫ টাকা থেকে ৬ টাকা এবং ৪৮ কেজি মনের আশ্বিনা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আহমেদপুরের আড়ত থেকে নাটোর হয়ে এক মণ আম ঢাকায় পাঠাতে কার্টুন ও ব্যাগিং, ক্যারেট, মজুরী ও কুরিয়ারসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা খরচ হয়ে থাকে।

এদিকে আড়ত এবং চাষিদের বরাতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’২০১৭ প্রাপ্ত কৃষিবিদ ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি হওয়ায় গত দু’দিন এখানে গাছ থেকে আমপাড়া বন্ধ রয়েছে। আমের দাম আগের চেয়ে সামান্য বেড়েছে। এখানে খিরসাপাত বা হিমসাগর এবং ল্যাংড়ায় বেশি ব্যাগিং করা হয়নি। ফজলি ও আশ্মিনায় অনেক ব্যাগিং করা হয়েছে। স্থানীয় আড়তে ব্যাগিং করা আম বিক্রি হয়না। ব্যাগিং করা আম বিভিন্ন কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিস এবং ছোট ট্রাকে করে ঢাকা, ফেনি, সিলেট ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। পার্সোনাল কন্ট্যাক্ট এর মাধ্যমে প্রতিদিন এখান থেকে ৩০ থেকে ৪০ মেট্রিক টন আম ঢাকাসহ দূরদুরান্তে পাঠানো হচ্ছে। দিনে অন্তত ১৫০টি ছোট ট্রাক আম নিয়ে ওই সব স্থানে যাচ্ছে। এখানে বর্তমানে কেজি প্রতি খিরসাপাত বা হিমসাগর নন ব্যাগিং ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও ব্যাগিং ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, ল্যাংড়া নন ব্যাগিং ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও ব্যাগিং ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, আ¤্রপালি নন ব্যাগিং ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ও ব্যাগিং ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং ফজলি নন ব্যাগিং ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা ও ব্যাগিং ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত