প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হলি আর্টিজান হামলার দুই বছর
ধরা পড়েনি মাস্টারমাইন্ড মেজর জিয়া

ইসমাঈল হুসাইন ইমু ও মাসুদ আলম : গুলশান হলি আর্টিজান হামলার দুই বছর পার হবে শনিবার। ঘটনায় জড়িত একাধিক জঙ্গি বিভিন্ন সময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও আত্মঘাতি হামলায় নিহত হয়েছে। তবে মাস্টারমাইন্ড মেজর জিয়া এখনো রযেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার পর মেজর জিয়া ভারতে চলে গিয়েছিল। পরে আবারও সে ঢাকায় আসে। বর্তমানে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে সে। তবে বারবার স্থান বদল করা ও সিমকার্ড বদলানোয় তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারছেনা তারা। আলোচিত মামলার চার্জশিট আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় একদল জঙ্গি। এ মর্মান্তিক ঘটনায় রুজুকৃত মামলা তদন্ত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। নৃশংস এ হত্যাকান্ডে পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র-বোমা সংগ্রহ ও সমন্বয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত অপরাধীদের সনাক্ত করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

এ ব্যাপারে এন্টি টেররিজম ইউনিট প্রধান পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিরা ঘাপটি মেরে আছে। তারা নির্মুল হয়ে গেছে এ দাবি আমরা কখনোই করিনি। বাংলাদেশে আর জঙ্গিরা সুবিধা করতে পারবে না। তিনি বলেন, লেখক বাচ্চু হত্যার প্রধান আসামী আবদুর রহমান বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে বাকীরাও রেহাই পাবে না। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে- শিগগিরই ধরা পড়ে যাবে।

গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ার ৭৯ নম্বর সড়কে অবস্থিত হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় নিহত ২৬ জনের মধ্যে সাতজন জাপানি নাগরিক ছাড়াও নয়জন ইতালিয়ান ও বাকিরা বাংলাদেশি। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস ওই হামলার দায় শিকার করে। পাঁচ বাংলাদেশি যুবক ওই হামলা চালায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে ওই পাঁচজন নিহত হলে জিম্মি অবস্থার অবসান ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডে পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র-বোমা সংগ্রহ ও সমন্বয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত ২২ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে তদন্তসংস্থা। এদের মধ্যে হামলায় অংশগ্রহণকারী ৫ জঙ্গিসহ ১৩ জন নিহত হয়েছে। বাকি নয় জনের মধ্যে সাতজন কারাগারে ও দুইজন পলাতক রয়েছে।

সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ মামলা তদন্তকালে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা, টেকনোলজি, বিশেষজ্ঞের মতামত, আলামত সংগ্রহ, স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে অপরাধীদের চিহ্নিত করা একটি জটিল প্রক্রিয়া ছিল। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিজ্ঞ অফিসাররা ঘটনায় জড়িতদের সম্পৃক্ততা, অস্ত্রের উৎস, অর্থের যোগানদাতা, আশ্রয়দাতা, কোর্ডিনেটরদের সকলকে শনাক্তসহ অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করার জন্য ঘটনা সংশ্লিষ্ট আলামত সংগ্রহ করেছে। মামলা তদন্তকাজ শেষ পর্যায়ে। নিরীহ লোক যাতে হয়রানি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত