প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘দাবি না মানা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি’

ডেস্ক রিপোর্ট : নন-এমপিও শিক্ষকদের আমরণ অনশনসরকার দাবি মেনে না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানিয়েছে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। শুক্রবার (২৯ জুন) ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশনের পঞ্চম দিনে এ তথ্য জানান সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায়।

জানা গেছে, অনশনের কারণে ৯২ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৯ জনকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। আর ১১ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরণ অনশনরত কোনও শিক্ষকের মৃত্যুর সংবাদ শোনার আগেই দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায়। তিনি বলেন, ‘আগেই বলেছিলাম, ২৪ জুনের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে ২৫ জুন থেকে আমরা আমরণ অনশনে যাবো। পূর্বঘোষিত সেই ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সকাল ১০টা থেকে অনশনে বসেছি। যত ঝড়-তুফান আসুক না কেন, দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাবো।’

গত ১২ জুন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করা হয়েছে। এই নীতিমালাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় বাধা হিসেবে দেখছে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের মন্তব্য, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান অনুমতি ও স্বীকৃতির সময় আরোপিত শর্তের সঙ্গে এই নীতিমালা সাংঘর্ষিক। ২০১৮-১৯ বাজেটে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দের কোনও সুস্পষ্ট ঘোষণা নেই। এ কারণে নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীো অত্যন্ত হতাশ ও আশাহত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপে সারাদেশের নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তি হলে সবাই সন্তুষ্টি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে।’

এর আগে গত ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানার নিয়ে রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সংগঠনের সদস্যরা।

অনশনকারীরা জানান, বর্তমানে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে পাঁচ হাজার ২৪২টি। এছাড়া সরকার নতুনভাবে ১৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদের দাবি, ‘সারা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদান করে অত্যন্ত কষ্টকর ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের চাকরির মেয়াদ আছে ৫ থেকে ১০ বছর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা উন্নয়নবঞ্চিত অবস্থায় রয়েছেন।’

এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে ওই অবস্থান ও অনশনের একপর্যায়ে এ বছরের ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান সেখানে গিয়ে দাবি পূরণের আশ্বাস দেন।

এদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত (মান্থলি পে-অর্ডার) করার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এগুলো হলো—শর্ত পূরণ করা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুতের জন্য ‘অনলাইন অ্যাপলিকেশন গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা’ কমিটি এবং ‘এমপিওভুক্তির জন্য বাছাই’ কমিটি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে এক হাজার বা তার কিছু বেশি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করবে সরকার।

-বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত