প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

বাংলাদেশ ব্যাংকের করা জরিমানা মাপ চায় জনতা ব্যাংক

জাফর আহমদ: পণ্য আমদানি করতে এলসি খুলে ১২০ দিনের মধ্যে পণ্য দেশে আসেনি। এসব পণ্যের বিপরীতে খোলা এলসিমূল্য প্রায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। তারপরও বাংলাদেশ ব্যাংককে না জানিয়ে রাষ্ট্রীয় জনতা ব্যাংক ওই সব প্রতিষ্ঠানের এলসি খুলেছে। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করা। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে। ব্যাংকটি ওই টাকা মওকুফের জন্য প্রভাব বিস্তার করছে বাংলাদেশ ব্যাংকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোন প্রতিষ্ঠান এলসি খোলার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য দেশে আনকে ব্যর্থ হলে পুনরায় এলসি খোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হয়। রাষ্ট্রায়ত্ব জনতা ব্যাংক এ ধরনের অনুমতি না নেওয়ায় সাড়ে ৪ বছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার আমদানি পণ্যের হিসাবে মেলাতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ব্যাপারে শান্তি হিসাবে জনতা ব্যাংককে ১০ লাখ টাকা জরিমানাসহ সংশ্লিস্ট এডি (অথরাইজ ডিলার) শাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এলসি খোলার সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে জনতা ব্যাংক ৭ দশমিক ৮৯৭ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলে। এর মধ্যে ব্যাংকটি ২০১৪ সালে ২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলে, ২০১৫ সালে ১ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারের, ২০১৬ সালে ১ দশমিক ৬৬১ বিলিয়ন ডলার, ২০১৭ সালে ১ দশমিক ৫৫০ বিলিয়ন ডলার এবং চলতি ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত ৫ মাসে এলসি খোলে ৬৬৬ মিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে এলসির বিপরীতে সম্পুর্ণভাবে ৮৭০ মিলিয়ন ডলার এবং অংশিক ৯৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্যের হদিশ পাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। টাকার অংকে যা প্রায় ১৫ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। এ বিষয়ে জনতা ব্যাংককে ১০ লাখ টাকার জরিমানা করার পাশাপাপাশি ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট একটি শাখার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সুত্র জানায়, কোন পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলার সঙ্গে সঙ্গে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন সিসটেমে প্রতিবেদন দিতে হয়। পণ্যটি দেশে আসার সাথে সাথে আরও একবার প্রতিবেদন দিতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন সিসটেমে। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের নির্দেশনা মোবাবেক এলসি খোলার পর থেকে ১২০দিন অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাংলাদেশে ব্যাংকের ড্যাস বোর্ডে প্রদর্শিত হয়। ১২০ দিনের মধ্যে কোন প্রতিষ্ঠান পণ্য আনতে ব্যর্থ হলে পুনরায় ওই প্রতিষ্ঠানকে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে দেওয়া হয়না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বার বার এ নির্দেশনা অমান্য করেছে জনতা ব্যাংক।
এ ব্যাপারে জনতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে করা জরিমানা মওকুফ করার অনুরোধ করেছে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আ. সালাম আজাদ। তিনি জরিমানা ক্ষমা চেয়ে পর পর দুটি আবেদন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকে। প্রথমটি চলতি জুন মাসের ১০ তারিখে জরিমানা করে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা প্রত্যাহারের জন্য। দ্বিতীয়টি আবেদনটি করা হয় ২০ জুন জরিমানার টাকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।

এলসি খোলার ক্ষেত্রে এ অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম আজাদ। জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের যে এডি শাখায় (অথোরাইজড ডিলার-এলসি খোলার জন্য নির্দিষ্ট শাখা) এ অনিয়ম হয়েছে বিস্তারিত অনিয়ম অনুসন্ধান করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন দিলে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পরিপালনের ক্ষেত্রে যে ঘাটতি ছিল তাও পরিপালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি যে সব প্রতিষ্ঠান এলসি খোলার পর ১২০দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পণ্য বা সেবা দেশে আনেনি পুনরায় তাদের এলসি খোলা বন্ধ আছে।

জনতা ব্যাংকের অন্য একটি সুত্র জানায়, আশুগঞ্জ পাওয়ার প্লান্টসহ বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি, এমডি ড্রিম, মাল্ট্রি ফাইবার্সসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ১২০ দিনের মধ্যে পণ্য দেশে না আনার পরও দ্বিতীয় পর্যায়ে এলসি খুলেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত