প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিন সিটি নির্বাচন
বিএনপির তিন বাধা

ডেস্ক রিপোর্ট : আসন্ন রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও কোনো আশা দেখছে না বিএনপি। দলটিতে সরকারের খুলনা ও গাজীপুর ‘স্টাইলে’ নির্বাচনের শঙ্কা তো আছেই। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রার্থী দেওয়া নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্যে টানাপড়েন। ২০-দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে সিলেটে সেখানকার জামায়াতের মহানগর আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসবই হতে পারে ধানের শীষের মেয়রপ্রার্থীর জন্য জয়ের পথে অন্যতম বাধা বলে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা জানান।

এই অবস্থায় বরিশালে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, রাজশাহীতে গয়েশ্বরচন্দ্র রায় ও সিলেটে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মেয়র নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দিতে পারে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

দলটির একাধিক নেতা বলেন, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে যে প্রত্যাশা নিয়ে মেয়রপ্রার্থী করা হয়েছিল তা তিনি পূরণ করতে পারেননি। অনিয়ম ও কারচুপি হলে ন্যূনতম কোনো কেন্দ্রে প্রতিরোধ করতে পারেননি। গাজীপুরেও মেয়রপ্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকার কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। একই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনের ভূমিকা নিয়ে। খুলনা ও গাজীপুরে জামায়াত নেতাকর্মীর ভূমিকা নিয়েও বেশ আলোচনা হচ্ছে। স্থায়ী কমিটির এক নেতা জানান, বিএনপির সঙ্গে থেকে সরকারের কাছ থেকেও সুবিধা নিচ্ছে জামায়াত। ওই নেতার শঙ্কা, আসন্ন তিন সিটিতে এবার তারা ধানের শীষে ভোট না-ও দিতে পারে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় বিএনপির মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে তিন সিটিতে মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। আমার জানা মতে কোথাও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। যদিও থাকে তা ঠিক হয়ে যাবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন আমাদের প্রার্থী। তবে সরকারের কৌশলও জয়ের পথে অন্যতম বাধা। নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীনরা পুলিশকে ব্যবহার করে আমাদের জয় ছিনিয়ে নিচ্ছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতা জানান, শুরু থেকেই রাজশাহীতে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বিএনপির একক মেয়রপ্রার্থী; কিন্তু বুলবুলের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের মহানগর কমিটি গঠনের পর থেকে ঠা-া লড়াই চলছে। এই অবস্থায় মিনু-মিলনের অনুসারী মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট গত বুধবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়রপদে মনোনয়নপত্রও তোলেন। মনোনয়নপত্র দাখিল না করলেও বুলবুলের বিরুদ্ধে ‘জুনিয়র ও অপরিচিত’ সুইটের এই কা- বিএনপির হাইকমান্ড ভালোভাবে নেয়নি। দলীয় সূত্র জানায়, পুলিশের নির্যাতনের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এই অবস্থায় বুলবুল নির্বাচন না করার মনোভাবও হাইকমান্ডের কাছে ব্যক্ত করেন।

শফিকুল হক মিলন বলেন, কমিটি গঠন নিয়ে যে মান-অভিমান ছিল সেগুলো বসে সমাধান করা হয়েছে। মিজানুর রহমান মিনুর দাবি, রাজশাহী বিএনপিতে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না, বর্তমানেও নেই। বিএনপি দেশের অন্যতম একটি বৃহৎ দল। পদ-পদবি নিয়ে মান-অভিমান থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বুলবুল বলেন, সব মীমাংসা হয়ে গেছে।

ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা বলেন, ওপরে ওপরে সবাই বুলবুলের পক্ষে; কিন্তু অনেকেই তার পক্ষে নেই।

রাজশাহীর মতো একই অবস্থা সিলেটে। বুধবার সিলেটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরিফুল হক চৌধুরীকে মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা দেন; কিন্তু গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। মনোনয়নপত্র জমা শেষে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন সাক্ষী, দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেউ নির্বাচনে জয় পান না। তৃণমূলের দাবি বুঝেই আমি প্রার্থী হয়েছি। দলীয়ভাবে একজন স্বার্থপর ও পলাতক লোককে দল বেছে নিয়েছে।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী মনোনয়নপত্র দাখিলকালে স্থানীয় আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন নাসিম হোসাইনও। তিনি মহানগরের সভাপতি। তিনিসহ শীর্ষ নেতাদের অনেকেই আরিফুল হকের সঙ্গে ছিলেন। এ বিষয়ে বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, বুকে ক্ষোভ নিয়েও দলের কারণে আমরা ওনার সঙ্গে এসেছি। কেউই বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না।

বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের সদ্য সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদি বলেন, দলের কাছে তিনি কোনো গ্রহণযোগ্যতাই তৈরি করতে পারেননি। বিগত পাঁচটি বছর মেয়রের দায়িত্বপালনকালে বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি কেমন আচরণ করেছেন, সেসব বিষয়ও কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। তবু তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। যেহেতু দল মনোনয়ন দিয়েছে, তাই এ বিষয়ে কিছু বলার নেই। কারণ দল সবার ওপরে।

কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্ষোভ থাকলেও বরিশালে মজিবর রহমান সরোয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার মতো সাহস দেখান না সেখানকার বিএনপির কোনো নেতাকর্মী। সেখানে বর্তমান মেয়র আহসান হাবীব কামালকে বাদ দিয়ে এবার সরোয়ারকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি; কিন্তু মনেপ্রাণে এবার মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবাদুল হক চান। তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। না পেয়ে তিনি বেশ ক্ষুব্ধ। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনও দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এসব নেতা ভোটের মাঠে আন্তরিকভাবে সরোয়ারের পক্ষে যে নামবেন, তা কোনো নেতাই নিশ্চিত করতে পারেননি। বরিশালের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ‘সরোয়ার ভাই যদি মনেপ্রাণে নির্বাচন করেন এবং সবাইকে ডাকেন, তাহলে পাবেন। এখনো তার মধ্যে সেটি দেখা যায়নি।’ কিন্তু চানের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা কথা না বললে তিনি নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় হবেন না বলে ওই নেতা জানান। সূত্র : আমাদেরসময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ