প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দল বাছাইয়ে ভুল ছিল জার্মানির!

স্পোর্টস ডেস্ক : গত আসরের চ্যাম্পিয়ন জার্র্মানির করুণ বিদায় হয়েছে। সমর্থকদের চোখের জলে ভিজেছে রাশিয়ার মাটি। বিপক্ষ শিবিরও মনে হয় এমনটা চায়নি। কিছুটা হলেও সৌন্দর্য হারিয়েছে বিশ্বকাপ। এখন চলছে হারের চুলচেরা বিশ্লেষণ। সব ছাপিয়ে সামনে আসছে- দল বাছাইয়ের ভুল! কোচ জোয়াকিম লোর এবারের বিশ্বকাপের দল বাছাই নিয়েই সমালোচনা তৈরি হয় আসর শুরুর আগে। এখন গ্রুপপর্ব থেকে জার্মানির বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড লিরয় সেইনকে রাখেননি তিনি। গত মৌসুমে এই ফরোয়ার্ড ম্যানচেস্টার সিটির প্রিমিয়ার লিগ বিজয়ে বড় অবদান রাখেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল দেয়া মারিও গোয়েৎজেকেও দলে রাখেননি তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজান লো। থমাস মুলারকে বসিয়ে মেসুত ওজিলকে খেলালেও আর্সেনাল মিডফিল্ডার দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। ২০০৬ সাল থেকে জার্মানির দায়িত্বে থাকা লো দলকে ২০০৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নিয়ে যান। তার অধীনেই পরবর্তীতে বিশ্বকাপ জেতে জার্মানরা।

গ্রুপ ‘এফ’-এর আরেক খেলায় যখন মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতেছিল সুইডেন, তখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল জার্মানি। তবে জার্মানি জিতলে গোল ব্যবধানে মেক্সিকো বাদ পড়ত বিশ্বকাপ থেকে। কিন্তু তখন উল্টো গোল করে বসে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে কিমের গোল শুরুতে অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেয়া হয়। পরে ভিডিও রিভিউ করে দেখা যায় জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুসের গায়ে লেগে কিমের কাছে বল আসে। কাজেই বাতিল করে দেয়া হয় অফসাইডের সিদ্ধান্ত। আর এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া জার্মানদের হয়ে আক্রমণে যোগ দেন গোলরক্ষক নয়ারও। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগান টটেনহাম ফরোয়ার্ড সন হিউমিন। আক্রমণভাগে থাকা নয়ারের অনুপস্থিতির সুযোগে খালি পোস্টে বল পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন ২-০ গোলের জয়।

আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের শেষ পাঁচ আসরের মধ্যে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয়া চতুর্থ দল জার্মানি (২০০২-এ ফ্রান্স, ২০১০-এ ইতালি আর ২০১৪ সালে স্পেন)। বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে জার্মানির বাদ পড়ার এ ঘটনা ঘটল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো। ১৯৩৮ সালে শেষবার তারা প্রথম রাউন্ডে বাদ পড়েছিল। আর বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড গ্রুপ পদ্ধতিতে হওয়ার পর থেকে এই প্রথম জার্মানির সঙ্গে ঘটল এমন ঘটনা।

আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবার গোল করেছে ২টি। এটি বিশ্বকাপে কোনো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের জন্য দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সবচেয়ে কম গোল করার রেকর্ড ফ্রান্সের। ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা ২০০২ সালে একটিও গোল করতে পারেনি। বিশ্বকাপে কোনো এশীয় দলের সঙ্গে খেলা ৬ ম্যাচে এটিই ছিল জার্মানির প্রথম হার।ভোরের কাগজ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত