প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩ বছরে ৫ হাজার ২১০ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করেছে ফায়ার সার্ভিস

সুজন কৈরী : সেবাদানকারী সংস্থা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর ২০১৮-১৯ সালের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি অনুযায়ী দুর্ঘটনাকবলিত ১০ হাজার ৪০০ রোগীকে এম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে ফ্রি পরিবহন সেবা প্রদান করবে। তাৎতক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দুর্ঘটনা প্রবণ ৯০টি পয়েন্টে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সঙ্গে ২০১৮-১৯ সালের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিকালে দেয়া ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, অধিদফতরটিতে কর্মরত অগ্নিসেনাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বার্ণ ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল স্থাপন, দুর্যোগে দ্রুত সাড়া প্রদানের মাধ্যমে প্রায় ৪৭ হাজার আগুন নেভানোর কাজে অংশগ্রহন করে সংস্থাটির করা হিসেবে গত ৩ বছরে ৫ হাজার ২১০ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করেছে। একই সময়ে ১৭ হাজার ৭৯৭টি সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনায় অংশ নিয়ে ২৯ হাজার ৭৫৯ জনের জীবন রক্ষা করেছে। সেইসঙ্গে মোট ৪ হাজার ৮৫২ জনের লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, কর্মসম্পাদন চুক্তি অনুযায়ী সেবাদানকারী সংস্থাটি দুর্ঘটনায় হতাহতদের ফ্রি পরিবহন সেবা দেয়া ছাড়াও তাৎতক্ষণিক সেবা দেয়ার লক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দুর্ঘটনা প্রবণ ৯০টি পয়েন্টে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ভুমিকম্প অগ্নি নির্বাপন উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়ে বস্তি এলাকা থেকে শুরু করে শপিংমল, হাটবাজার, বিভিন্ন বিপনীবিতান, সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বহুতল ও বানিজ্যিক ভবনে অগ্নি দুর্ঘটনাসহ যেকোনো সমস্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সচেতনতা বাড়াতে ৭ হাজার ৭৪০টি মহড়া পরিচালনা করবে। সেইসঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৪ হাজার ৯৩০টি বিভিন্ন ছোটবড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি অন্যান্য সকল প্রকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে মোট জরিপও পরিচালনা করবে। এছাড়া জনসংযোগ ও গণসংযোগ বৃদ্ধির জন্য ১০ হাজার ৫০টি টপোগ্রাফি পরিচালনা করবে।

কর্মসম্পাদন চুক্তি অনুযায়ী, অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধকল্পে সরকারী বেসরকারী প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার জনকে মৌলিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করা হবে। সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে ৯৬ জনকে। এছাড়া ২শ’ জনকে বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করবে। নতুন ১৩০ টি নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ কাজ শেষ করে অনলাইনে ২৯৫টি বহুতল ও বানিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়া পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ১৩ হাজার ৪০০ মালগুদাম ও কারখানার জন্য ফায়ার লাইসেন্স প্রদান করা হবে। এতে করে ভবিষ্যতেও অগ্নিসহ যেকোনো প্রকার দুর্ঘটনা কমবে বলে আশা করছে রাষ্ট্রীয় অন্যতম সেবাদানকারী এ সংস্থাটি। এর বাইরে ফায়ার রিপোর্ট ও লাইসেন্স প্রদান বাবদ সংস্থাটি প্রায় ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো সময় ঘটা দুর্যোগ মোকাবিলায় এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে অধিদপ্তরকে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পদ রক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা দিনরাত জলে স্থলে সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছি। জঙ্গী দমন অভিযানে অংশ গ্রহণ করে জীবনদান সহ, অগ্নি দুর্ঘটনা, রাস্তায় দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে যাওয়া ও নৌ দুর্ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধার কাজ এমনকি যেকোনো বিপদেই কর্তব্যের খাতিরেই সবার আগেই এগিয়ে আসে ফায়ার সার্ভিস।

বার্ষিক কর্মসম্পদন চুক্তির লক্ষ্য ও বাস্তবায়নের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সাথে করা চুক্তি অনুযায়ী আমরা শতভাগ তা পালনের চেষ্টা করবো। বর্তমান সরকারের আমলে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসকে প্রকৃত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে যা সকলের দৃশ্যমান। এর বাইরেও জনবল বৃদ্ধি, উন্নতমানের ও শক্তিশালী সরঞ্জামাদি ক্রয়সহ সরকারের কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে যা বাস্তবায়ন শেষ হলে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা সম্ভব। যার মাধ্যমে যেকোনো দুর্যোগে নাগরিক সেবা বৃদ্ধিতে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও জানমাল রক্ষা করা যাবে।

গত তিন বছরের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিস এ সময়ের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি সাধন করেছে। দেশে ও বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে ফায়ার কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা, নাগরিক সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌছে দিতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি, দুর্যোগে ও যে কোন সাধারণ নাগরিকের সমস্যায় নিজস্ব বিশেষ সুবিধা সমৃদ্ধ এম্বুলেন্স সেবা সার্ভিস চালু, যে কোন সময় দেশের যে কোন প্রান্তে যে কোন দুর্যোগ- দুর্ঘটনায় সাথে সাথেই সাড়া দিতে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯ এর সাথে সংযুক্ত হওয়া, দ্রুততার সাথে অধিক সেবা প্রদানের জন্য মূল স্টেশনের ব্যাকআপ হিসেবে রাজধানী ঢাকায় ১১টি মোবাইল ফায়ার ইউনিট স্থাপন করেছে সেবাদানকারী সংস্থাটি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত