প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

বাংলাদেশের তথ্য বিনিময় চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলো কানাডা

তরিকুল ইসলাম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি নুর চৌধুরীকে কানাডা থেকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে সরকার। আর এ চেষ্টার অংশ হিসেবে কানাডার সঙ্গে তথ্য বিনিময় চুক্তি করতে প্রস্তাব দিয়েছিলো বাংলাদেশ। তবে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে কানাডা। কানাডার ফেডারেল আদালতের নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এ নিয়ে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া ননা গেলেও সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, নুর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বাংলাদেশ চেষ্টা করে যাচ্ছে। একাধিক অনুষ্ঠানিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ যে কানাডাকে তথ্য বিনিময় চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে এবং কানাডা যে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত নই। বঙ্গবন্ধুর খুনি নুর চৌধুরীকে ফেরত আনতে বর্তমানে কানাডার ফেডারেল আদালতে বাংলাদেশ সরকার বনাম কানাডার এ্যটর্নি জেনারেল এবং নুর চৌধুরীর মধ্যে মামলা চলছে। চলতি মাসের ৭ জুন কানাডার ফেডারেল আদালতের নথি থেকে জানা গেছে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ নুর চৌধুরীর অভিবাসন অবস্থা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস জানতে কানাডার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আসছে। নুর চৌধুরীকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুরো সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বৈঠকের পরবর্তিতে কানাডা ও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা ২০১৭ সালের এপ্রিলে বৈঠক করেন।

বৈঠকে কানাডার কর্মকর্তারা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের জানান তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর পর আবারো ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারিতে কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনার আনুষ্ঠানিক ভাবে কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নুর চৌধুরীর অভিবাসন অবস্থা জানতে চেয়ে আবেদন করেন। কেন জনস্বার্থে নুর চৌধুরীর অভিবাসন অবস্থা জানাটা দরকার তা চিঠিতে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। এরপর চলতি বছরের ২৬শে ফেব্রুয়ারি কানাডার মন্ত্রী দুটি বিষয় উল্লেখ করে হাইকমিশনারের চিঠির উত্তর দেন। সেখানে কানাডার গোপনীয়তা আইনের ৮(২)(এম)(আই) ধারার কারন দেখিয়ে বাংলাদেশের আবেদনে নুর চৌধুরীর অভিবাসন অবস্থা জানাতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। যেখানে জনস্বার্থের চেয়ে গোপনীয়তা আইনই প্রাধান্য পায়। পরবর্তিত কারন হিসেবে বাংলাদেশকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে কোনো তথ্য বিনিময় চুক্তি নেই। যার মাধ্যমে গোপনীয়তা আইনের ৮(২)(এফ) ধারা অনুযায়ি বাংলাদেশ কারো অভিবাসন অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবে। এ চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ হাইকমিশনার চলতি বছরের ২৯শে মার্চ শুধুমাত্র নুর চৌধুরীর ইস্যুতে কানাডার সঙ্গে একটি তথ্য বিনিময় চুক্তির প্রস্তাব দেয়। চিঠিতে বাংলাদেশ তথ্য বিনিময় চুক্তির জন্য আলোচনা শুরুরও আহ্বান জানায়। তবে ২০১৮ সালের ৮ মে কানাডার মন্ত্রী সে অবেদন প্রত্যাখ্যান করে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কানাডার গোপনীয়তা আইন অনুযায়ি অভিবাসন, শরনার্থী বা নাগরিকত্ত্ব বিষয়ক কারো ব্যাক্তিগত তথ্য সে ব্যাক্তির লিখিত অনুমুতি ব্যাতিত কানাডার সরকার কারো সঙ্গে বিনিময় করতে পারবে না। এ বিষয়ে জানতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত