প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

ট্রাম্পের শুল্কারোপে ভারতের দিকে ঝুঁকছে চীন

নূর মাজিদ : যুক্তরাষ্ট্রের সংরক্ষণবাদি আচরণ এবং বাণিজ্যে শুল্কারোপের প্রেক্ষিতে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ দুই প্রতিবেশী ও পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত এবং চীনের মাঝে সহযোগিতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের এই অব্যাহত সহযোগিতা দেশদুটির সাম্প্রতিক সময়ে নেয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকে তাকালেই সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষত, চলতি বছরেই প্রভাবশালী এই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ দুইবার পারস্পরিক বৈঠকে মিলিত হন। এর মাঝে চীনা শহর উহানের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মোদি এবং শি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এরপরেই ভারত থেকে সাধারণ চাল এবং ওষুধ রপ্তানি শুল্ক উঠিয়ে নেয় চীন।

অন্যদিকে একই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন, ভারত এবং ইউরোপিয় ইউনিয়নের ওপর বাণিজ্য শুল্কারোপ করে। মার্কিন শুল্কারোপের জবাবে এই দেশগুলিও তাদের পণ্যে বাড়তি শুল্কারোপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়। ইতোমধ্যেই, ইউরোপিয় দেশগুলো মার্কিন বাণিজ্য শুল্ক মোকাবেলায় চীনের সঙ্গে একযোগে কাজ করবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ হে চলতি সপ্তাহেই ইইউ ট্রেড কমিশনারের সঙ্গে এক বৈঠকের পর এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত এবং চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক ও আর্থিকখাতে সহযোগিতার পরিমাণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের জন্য স্বল্পমূল্যের চীনা পণ্য সেবা এবং বিনিয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৬২ বিলিয়ন ডলার। আর এই বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতেই উহান বৈঠকে শি’র প্রতি মোদি আহ্বান জানান। ফলে, চীনের পক্ষ থেকে ভারতকে আরো বেশি পণ্য চীনে রপ্তানির সুযোগ দেবার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতে ভারতকে পাশে রাখতে চাইবে চীন।

ভারতীয় অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বিপুল চ্যাটার্জি বলেন, ট্রাম্পের অস্থির কর্তৃত্ববাদি আচরণ ভারত ও চীনকে বাণিজ্য ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ সহযোগী করে তুলতেই পারে। তবে এতে দু দেশের মাঝে বিদ্যমান পুরোনো শত্রুতা ও প্রতিদ্বন্দ্বীতার সম্পর্কের সহসাই পরিবর্তন হবে এমনটি ভাবা উচিৎ নয়। বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত