প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঋণের নামে ভূমি বাগিয়ে নিচ্ছে চীন: নিউ ইয়র্ক টাইমস

লিহান লিমা: মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমসের গতকালের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, ‘সারা বিশ্বের মোট ৩৫টি সমুদ্রবন্দরে আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা দিচ্ছে চীন।’ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শীলংকার হাম্বানটোটা বন্দরও চীনের অর্থায়নে নির্মিত। ওই বন্দরের নির্মাণ বাবদ ব্যয়কৃত ১ বিলিয়ন ডলার ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৫ সালে চীনের সঙ্গে কয়েক মাসের সমঝোতা আলোচনার পর ১৫ হাজার একরসহ হাম্বানটোটা বন্দরটি ৯৯ বছরের জন্য চীনকে লিজ দেয় শ্রীলংকা।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ঋণ এবং সাহায্য প্রধান করে বিশ্বব্যাপি নব্য নিয়ন্ত্রণের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ এই ঘটনা। আর্থিক সংকটে ভোগা শ্রীলংকার প্রয়োজন অর্থ। ক্ষমতায় থাকাকালে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপাকসে’কে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য মিত্র চীনের কাছে ঋণ ও অন্যান্য সহযোগিতার জন্য হাত বাড়াতে দেখা গিয়েছে।

শ্রীলংকার অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, এই বছর সরকারের প্রত্যাশিত রাজস্ব ১৪.৮ বিলিয়ন ডলার কিন্তু বিশ্বব্যাপি ঋণের পরিমাণ ১২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৬ সালে শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চীনের কাছে দেশটির দেনা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু ভারতী রিসার্চের অর্থনীতিবিদ নিশান দি মেল বলেন, চীনের শ্রীলংকার কাছে ৫ বিলিয়ন ডলার পাওনা আছে এবং এটি প্রতি বছর বেড়েই চলছে। মে’ তে দেশটি চীনের ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নেয়।

দেশটির প্রধান কলম্বো বন্দরের শেয়ারের মালিকও চীন। চীনের হারবার সেখানে একটি টার্মিনাল নির্মাণ করছে। প্রকল্প নির্মাণে অর্থ প্রদানের শর্তের পেছনে রয়েছে চীনা কনট্রাক্টর এবং কর্মী নিয়োগ। বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের পরিবর্তে দেশটিতে চীনা কোম্পানিগুলো বিশাল অংকের লাভের হিসেব কষে আসছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্লেষকদের মতে, হাম্বানটোটা বন্দরে চীনের বাণিজ্যিক লাভের অংক সামান্যই। আর শ্রীলংকার বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম বিষয় ছিল বন্দরের কৌশলগত অবস্থান। হাম্বানটোটা বন্দর চীন সামরিকীকরণ করবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। চুক্তিতে এটি নিয়ে কড়াকড়ি নীতি থাকলেও জানা গিয়েছে চীন এখন চাপ দিচ্ছে এর অনুমোদন দেয়ার জন্য।
রাজাপাকসে সরকারের চলে যাওয়ার পর নতুন সরকার চীনা প্রভাবের বিষয়ে আশ্বস্ত করলেও দেশটির প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা সীমিত। সরকার পরিবর্তন অসম্ভব কিছু নয়। চীন যাকে নিজেদের স্বার্থের জন্য উপযোগী মনে করবে সেই ফিরে আসবে। তবে ২০২০ সালের নির্বাচনে মেয়াদকালীন বাধ্যবাধকতার জন্য রাজাপাকসে দাঁড়াতে না পারলেও তার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকশে এই ভূমিকা নিতে পারেন। আর সেক্ষেত্রে গোতবায়ায়র মেন্টর হিসেবে মূল ক্ষমতা রাজাপাকশেই থাকবেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত