প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

সময় বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে বাইক শেয়ারিং

ফয়সাল মেহেদী: বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস শুরু হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমেছে। সময় বাঁচাতে দিন দিন আরও বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে বাইক শেয়ারিং। যানজটের শহর ঢাকাতেও এখন সময়মতো গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। খুবই অল্প সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কাছে বাইক শেয়ারিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অন্যদিকে নৈরাজ্য কমেছে সিএনজি-অটোরিকশার। তারাও এখন মিটারে চলার পথ বেছে নিচ্ছে।

সময় বাঁচাতে বাইক শেয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বনানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ ৩য় বর্ষে ছাত্র শাহরিয়ার ইসলাম শুভ বলেন, বাসা গুলশান-১ এ হওয়ার সুবাদে প্রায় প্রতিদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আমার নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল রিকশা। মাঝেমধ্যে বাসে যাতায়াত করলেও যানজট এড়িয়ে চলার জন্য রিকশাই বেশি ব্যবহার করতাম। সকাল ১০টার ক্লাস ধরার জন্য রিকশাওয়ালাদের কাছে রীতিমত আবেদন পত্র দেয়া লাগতো। চলতো দর কষা-কষি, আকুতি-মিনতি। আর যদি দৃষ্টি সীমানায় জ্যাম ধরা পরে তাহলে তো রক্ষাই নেই। হাতে-পায়ে ধরলেও তারা বসে থাকবেন, নতুবা এক দফা এক দাবী, রাস্তায় মেলা জ্যাম! অহন ১০০ টাহা লাইগবো! এর কমে যাওন যাইব না। আর সিএনজি বা ট্যাক্সি ক্যাবের ভাড়া মেটানো একজন ছাত্রের জন্য কতোটা কষ্টকর সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তিনি আরও বলেন, বাইক শেয়ারিংয়ের বিষয়ে শুনেছিলাম একটু দেরিতেই। নাদিম নামে আমার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু প্রায় আমাকে বাইক শেয়ারিং সার্ভিস ব্যবহার করার পরামর্শ দিত। বাইক শেয়ারিং ব্যবহার করার জন্য একদিন সে আমার মোবাইলে উবার অ্যাপটি ইনস্টল করে উবার মটো সম্পর্কে কিছুটা বুঝিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু কখনো ব্যবহার করা হয় নি।

শাহরিয়ার বলেন, গত ১২ জুন ছিল আমার সেমিস্টার ফাইনালের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার শেষ দিন। দুপুর ১২টার মধ্যে জমা দিতেই হবে। করাণ এর পর ঈদের ছুটি শুরু। বন্ধুর পরামর্শ বাইক শেয়ারিংয়ে রিকোয়েস্ট দিলাম। রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার ১৫-২০ সেকেন্ডের মধ্যেই একটি ফোন এলো। আর ঠিক ৩ মিনিটের মধ্যেই একটি নেভি ব্লু রঙের ‘পালসার ১২৫ সিসি’ মোটরসাইকেল নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াল আমাদেরই বয়সী একটি ছেলে। তাকে বললাম আমার দেরি হয়ে গেছে। একটা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে ১২ টার মধ্যেই। ঠিক সময়েই তিনি আমাকে পৌঁছে দিলেন। ভাড়া আসলো মাত্র ৮০ টাকা। একটু বেশি টাকা খরচ হলো তবুও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম।

শুধু শাহরিয়ার ইসলামই নয়, ঢাকায় অনেক শিক্ষার্থীই এখন সময় বাঁচাতে বা সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত হতে রাইড শেয়ারিং ব্যবহার করছেন। রাইড শেয়ারিংয়ের অ্যাপে আশেপাশে কয়টা মোটরবাইক আছে, কোনটা সবচেয়ে কাছে, বাইকারের উপর ভরসা রাখতে পারবেন কি না, রেটিং ব্যবস্থা, শেয়ার স্ট্যাটাস ফিচার, জাতীয় হেল্পলাইন সুবিধা ৯৯৯ ও আরও নানা রকম সুবিধা রয়েছে। এ কারণে রাইড শেয়ারিংয়ে যাত্রা অনেকাংশে নিরাপদ ও আরামদায়ক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত