প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

গুড এগ্রিকালচারাল প্রাক্টিসের আহ্বান ডিসিসিআইয়ের

স্বপ্না চক্রবর্তী : ইউএসএআইডি’র এগ্রিকালচার ভ্যালু চেইনস (এভিসি) প্রকল্পের সহযোগিতায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘গুড এগ্রিকালচারাল প্রাক্টিস (গ্যাপ)’ বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এসময় ডিসিসিআই নেতারা ব্যবসায়ীদের গুড এগ্রিকালচার প্র্যাক্টিসের আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রউফ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজহার আলী।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই পরিচালক ইমরান আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ১৪.৭৫% এবং কৃষিখাতের মাধ্যমে প্রায় ২৪.৫০ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট রপ্তানির মাত্র ১.৫৯ শতাংশ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপের দেশসমূহে আমাদের কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ‘গুড এগ্রিকালচারাল প্রাক্টিস (গ্যাপ)’ বাস্তবায়নের উপর তিনি জোরারোপ করেন।

ডিসিসিআই পরিচালক বলেন, কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, শাক-সবজির সংরক্ষণ ও ফলমূল পাকানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক ফরমালিন সহ নানাবিধ কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কিনা স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর পাশাপাশি এর ফলে বিশ্ববাজারে আমাদের কৃষি পণ্য রপ্তানির অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। তিনি আরো বলেন, কৃষি পণ্য আহরণে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের স্বল্পতা, কোল্ড স্টোরেজের অপ্রতুলতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর মোট উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ১২% এবং শাক-সবজি ও ফলমূলের ২০% নষ্ট হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজহার আলী বলেন, বাংলাদেশে কৃষি খাতের উন্নয়নে গ্যাপের ব্যবহার সম্প্রসারণে অপর্যাপ্ত ধারণা ও প্রশিক্ষকের অভাব এবং গ্যাপের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতাই রয়েছে এবং তা নিরসেন সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, আমাদের প্রচলিত কৃষি খাত ক্রমশ অর্থনৈতিক কৃষির দিকে রপ্তান্তরিত হচেছ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষির উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এর বহুমুখীকরণের প্রতি আরো বেশি গুরুত্ব প্রদানের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতে গ্যাপের বাস্তবাযন এখন সময়ের দাবী। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই কৃষি নীতি ২০১৮ ঘোষণা করা হবে, যেখানে গ্যাপ অর্ন্তভূক্ত আছে।

সেমিনারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কাজী মো. সাইফুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, কৃষি পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক ভাবে পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে ‘গুড এগ্রিকালচারাল প্রাক্টিস (গ্যাপ)’ আর্ন্তজাতিক মানদন্ডের প্রশিক্ষণ প্রদান করে, তাই কৃষিখাতের উদ্যোক্তাদের তাদের কর্মকা-ে গ্যাপের ব্যবহার আরোও বাড়ানোর বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান।

ডিসিসিআই মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে গ্যাপের ব্যবহার আরো বাড়ানোর জন্য ডিসিসিঅই, এভিসি প্রকল্প এবং সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত