প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাঁঠালের গরুর মাংস ও পাঙ্গাস মাছের পায়েস : কৃষিমন্ত্রীকে খাওয়াতে পারলেন না বেলী বেগম

মতিনুজ্জামান মিটু : কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে কাঁঠালের সঙ্গে গরুর মাংস রান্না এবং পাঙ্গাস মাছের পায়েস খাওয়াতে না পেরে মনের দু:খে মেলা থেকে ফিরে গেলেন বেলী বেগম। ২০১৭ সালের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারের স্বর্ণ এবং জাতীয় সবজী পদকধারি পাবনার বেলী বেগম এসেছিলেন সদ্য শেষ হয়ে যাওয়া এ বছরের জাতীয় ফল মেলায়। অনেক প্রতিকুলতার মাঝেও তিনি ওই মেলায় ষ্টল দেয়ার উদ্দেশ্যে স্বামী মো. সিদ্দিকুর রহমান ওরফে কুল ময়েজকে সঙ্গে নিয়ে গত ২১ জুন পৌছেছিলেন রাজধানী ঢাকায়। যথারীতি চেষ্টা করেও সময়মত রেজিষ্ট্রেশন আবেদন না করার অপরাধে ষ্টল পেতে বঞ্চিত হন তিনি। তবুও কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে রান্না গরুর মাংস এবং পাঙ্গাস মাছের পায়েস রান্না করে অন্যের ষ্টলে কৃষি মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিক্ষায় বসেছিলেন। কিন্তু গত ২২ জুন সকালে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হককে সঙ্গে নিয়ে মেলা উদ্বোধনের পর ব্যস্ততার কারণে সব স্টল পরিদর্শন না করেই ফিরে যান কৃষিমন্ত্রী। এই পর্যায়ে থাকাসহ নানা প্রতিকুল অবস্থার মুখে পড়ে বেলী বেগম মনের দু:খে পাবনায় ফিরে যান।

বেলী বেগম বলেন, আমি কাঁঠালের সঙ্গে গরুর মাংস ও পাঙ্গাস মাছের পায়েস রান্নার জাতীয় স্বীকৃতির জন্য মেলায় এসেছিলাম। আমাকে খবরও দেয়া হয়েছিল সেই জন্য। কিন্তু মন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা সব স্টল পরিদর্শন না করে মেলার গেট থেকে ফিরে যাওয়ায় আমার আশা পূরণ হয়নি। এখন আমার সারাক্ষণ কেবলই মনে হচ্ছে, কেন আমাকে মেলায় আসার জন্য খবর দেয়া হলো? এ বিষয়ে মেলার দায়িত্বে নিয়োজিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার উপপরিচালক কৃষিবিদ আজহার আলী মন্ডল বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত না হওয়ায় বেলী বেগম মেলায় ষ্টল করতে পারেননি।

তিনি বলেন, কোলস্টোরেল বেশি হওয়ায় হাই ব্লাড প্রেসারের মানুষ গরুর মাংস খেতে পারেনা। কাঁচা কাঁঠালের (ইচোড়) সঙ্গে গরুর মাংস রান্না করলে কোলস্টোরেল শতভাগ কমে যায়। এছাড়া কাঁঠালে এ্যালকোহল এবং ক্যালরিও বেশি। কাঁঠালের সঙ্গে গরুর মাংস রান্না করে সচ্ছন্দেই উচ্চ রক্তচাপের মানুষ খেতে পারে। কাঁচা কাঁঠাল পানিতে সিদ্ধ করে শুকিয়ে রেখে সারা বছরই ব্যবহার করা যায়। শুকনো কাঁঠাল ১ থেকে ২ ঘন্টা ভিজিয়ে ফুটন্ত পানিতে দিলে আবার কাঁচা হয়ে যায়।

পাঙ্গাস মাছ গরীবের ইলিশ। যারা ৫০০ টাকা কেজির গরুর মাংস কিনতে পারেনা তারা সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজির পাঙ্গাস মাছ কিনে খায়। পাঙ্গাস মাছের ফিন্নি, পায়েস এবং ভোনা খাওয়া যায়। পাঙ্গাস মাছের পায়েস একবার যে একদানা খেয়েছে সে প্লেট চেটেপুটে খায়। বাংলাদেশে আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাকে খাইয়েছিলাম, উনি বিশ্বাসই করতে পারেননি এটা পাঙ্গাস মাছের পায়েস। মজিনা বলেছিলেন, পাঙ্গাস মাছের পায়েসকে বিশ্ব খাদ্য বানাতে আমেরিকায় জনপ্রিয় করে তুলবেন। চ্যানেল আই ও মাছরাঙ্গা টিভিতে এই রান্নার দৃশ্য পরিবেশিত হয়েছে।

পাঙ্গাস মাছের পায়েস রান্না প্রণালি বর্ণনা করে তিনি বলেন, এক কেজি পাঙ্গাস মাছ আড়াইশ’ গ্রাম গাওয়া ঘিতে ভেজে বাদামি রং এর করতে হবে। এই সঙ্গে ৫০ গ্রাম সুগন্ধি পোলার চাউল ভেজে বাদামি কালার হলে আধা বাটা করতে হবে। একটি নারিকেল আধাবাটা করে কাপে রাখতে হবে। তারপর কয়েকটা পেস্তাবাদাম, ছোট এলাচের খোসা ছাড়া দানা ২০ থেকে ২৫টি ভেজে হালকা গুড়া করতে হবে। এরপর কিচমিচ, বাদাম পরিমাণ মত স্বাদ অনুযায়ি দিতে হবে। ৫০ গ্রাম প্যাকেটের গুড়া দুধ পাতলা করে পোলার চাল দিয়ে ভাল করে সিদ্ধ করতে হবে। যাতে চালের অস্তিত্ব অনুভব না হয়। এসময় মাছ ভাজা দিয়ে ভাল করে নাড়া-চাড়া করে বাদাম, কিচমিচ, তেজপাতা একটি ও দারুচিনি দিতে হবে। এরপর ২০০ গ্রাম গুড়া দুধ ঘন করে বাটিতে গুলিয়ে মাছ ঢালতে হবে। এতে পরিমাণমত স্বাদ অনুযায়ি চিনি দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পরিবেশন করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত