প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সরকারি দল রাজনীতিকে চরমভাবে কলুষিত করেছে’

রফিক আহমেদ : বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সালাউদ্দিন মুকুলের শোকসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে সরকারি দল রাজনীতিকে চরমভাবে কলুষিত করে চলেছে। বিরোধী রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে প্রতিনিয়ত অপমান করার মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ এক অপরাজনৈতিক সংস্কৃতিকে জোরদার করে চলেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে কাজী সালাউদ্দিন মুকুলের শোক সভায় নেতারা এসব কথা বলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনীতিকে এখন দ্রুত অর্থসম্পদ গড়ে তোলার বাহনে পরিণত করা হয়েছে। জননিবেদিত ত্যাগী রাজনীতিকদের হাত থেকে রাজনীতি এখন লুটেরা ব্যবসায়ী ও মাফিয়া সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। বাস্তবে এরা পুরো দেশ ও জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে এই নোংরা রাজনীতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে এবং তার জন্য কাজী সালাউদ্দীন মুকুলের মত আদর্শবান, ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিকদের সক্রিয় ভূমিকা খুবই জরুরি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমাদের শাসকেরা রাজনীতি ও রাজনীতিকদেরকে কেনা বেচার বিষয়ে পরিণত করেছে। তারা বলেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রয়াত নেতা সালাউদ্দিন মুকুল ছিলেন এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। জীবনের চার দশক তিনি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি কৃষক-খেতমজুরসহ মেহনতি মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। এরশাদ সামরিক স্বৈরতন্ত্র বিরোধী গণআন্দোলন, হাওর অঞ্চলসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের কৃষক-খেতমজুর-মৎস্যজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোক সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গরীব মুক্তি আন্দোলনের শামসুজ্জামান মিলন, বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইউম, সালাউদ্দিন মুকুলের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন, খেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আনছার আলী দুলাল, মুকলেছুর রহমান, ডা. খন্দকার মুসলেউদ্দীন, রাশিদা বেগম ও ছাত্র ঐক্য ফোরামের আর্নিকা তাসনিম মিতু। শোক সভা পরিচালনা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক শেখ মো. শিমুল। শোক সভার শুরুতেই কাজী সালাউদ্দিন মুকুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত