প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওরা ছোট জাত!

আদম মালেক : রোমানদের ক্রীতদাস ও ইংরেজদের ভূমিদাসের মুক্তি ঘটলেও আজও মুক্তি মেলেনি সমাজের অস্পৃশ্য দলিতের। সমাজের উচ্চ বর্ণের কাছে তারা অচ্ছুৎ,ছোট জাত ও সেবাদাস। তাদের জন্ম শুধু সমাজের উচ্চ বর্ণকে সুখী করার জন্য। এর বাইরে তাদের কোনো চাওয়া পাওয়া থাকতে নেই। বৈষম্যই তাদের নিয়তি। তাই কোনো সময় তাদের মানুষ মনে করা হয় না বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী ও বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলনের নেতারা।

বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু বলেন, শত শত বছর ধরে এই দেশে নাগরিক হিসেবে বসবাস করেও মানুষ হিসেবে বাঁচার জন্য ন্যূনতম মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারছি না। আমরা সকল ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। আমরা এ বৈষম্যের অবসান চাই।

দলিত নেতাদের অভিযোগ,এই একবিংশ শতাব্দীতেও দলিত সম্প্রদায়ের লোকরা প্রতিনিয়ত অস্পৃশ্যতার শিকার হচ্ছেন। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই তাদের জীবন যাপন করতে হয়। এই বিচ্ছিন্নতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক। হোটেল সেলুনে দলিতদের ঢুকতে দেয়া হয় না। কোনো কোনো জায়গায় তাদের হোটেলে ঢুকতে দেয়া হলেও তাদের জন্য কাগজ, নিম্নমানের প্লেট, গ্লাস নির্ধারিত থাকে, চিহ্ন দেয়া থাকে কিংবা তাদের নিজেদের কাপ গ্লস, প্লেট সঙ্গে নিয়ে হোটেলের দরজায় দাঁড়িয়ে খাবার গ্রহণ করতে হয়। তাদের সন্তানদের অনেক সময় স্কুলে ভর্তি করা হয় না। তারা মন্দিরে ঢুকতে পারে না। পবিত্র গীতা পাঠ করতে পারে না তারা। মন্দিরে ঢুকলে বা গীতা ছুঁইলে তা অপবিত্র হয়ে যাওয়ার অপবাদ দেয়া হয় তাদের।

ভুক্তভোগীদের জানান, কখনো মন্দিরে ঢোকার সৌভাগ্য হলেও সরাসরি পূজা দিতে পারে না দলিত সম্প্র্রদায়। তাদের পুরোহিতের মাধ্যমে পূজা দিতে হয়। অস্পৃশ্যের পরিচয় প্রকাশ পেলে চাকরি হয় না। আবার কোনো কোনো সময় চাকরি চলে যাওয়ারও নজির রয়েছে।

রাজধানীর ওয়ারী রবিদাস কলোনির ননী গোপাল দাস বলেন, বৈষম্যই যেন আমাদের নিয়তি। এ থেকে মুক্তি চাই। কিছুটা মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার আশায় আমাদের অনেকে পরিচয় পরিবর্তন করে ফেলেছে। অনেক ঋষি নিজেকে বিশ্বাস বলে পরিচয় দেয়। বেঁচে থাকার জন্য, একটু মর্যাদার জন্য নিজের উপাধি পাল্টাতে হয়, এর থেকে কষ্টের আর কী হতে পারে? তাই আমাদের জন্য এমন কিছু করা হোক, যাতে মানুষের মতো বেঁচে থাকতে পারি। ১৯৬২ সালের ভূমি জরিপে মুচিদের ‘ঋষি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও বিভিন্ন বই-পুস্তকে ‘মুচি’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র আমাদের প্রতি সঠিক আচরণ করছে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত