প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীরা নয়
এই ভুল ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে বুলগেরিয়ার কয়েকজন নারী ছুয়েছেন সফলতার চূড়া

রাকিব খান : তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী কিংবা বৈমানিক, এই চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোর নাম বললেই অধিকাংশ মানুষের চোখেই ভেসে উঠে একটি পুরুষের অভয়ব। সমাজের গৎবাঁধা ধারণার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে ডাক্তার বলতে আমরা পুরুষ আর নার্স বলতে নারীকেই বুঝি। তবে নারীদের প্রতি সমাজের এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে বুলগেরিয়ার কয়েকজন নারী ছুয়ে দিয়েছেন সফলতার চূড়া। এ জন্য তাদের কম বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে এমনই একটি চিত্র।

সেখানে দেখা যায় বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। যারলক্ষ্য ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের জড়ো করা। যেন তারা তাদের নিজেদের কাজগুলো প্রদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায় অংশিদার বা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পায়।

মুভ বিজি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এমন নানা সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা একজন নারী। তার নাম সাশা বেজু হানুফা। তিনিই বুলগেরিয়ার প্রথম নারী, যিনি এতো বড় আইটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের আসনে রয়েছেন। সমাজের উদ্ভাবনী চিন্তাগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্ম দিতে তিনি ২০১৩ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন। বর্তমানে মিস বেজু হানুফা প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট নারীদের জন্য একটি রোল মডেল। তার আশা একদিন প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিদ্যায় নারীর অংগ্রহণ কমিউনিস্ট যুগের মতো উন্নত হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুবই গর্বিত যে আমাদের কোম্পানি ডিজিটাল শিল্পে নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পুরো ইউরোপে এক নম্বর হয়েছে। ৬০-এর দশকেও বুলগেরিয়া কম্পিউটার ও সফটওয়ার উৎপাদনে সেরা ছিলো। সে সময় নারী পুরুষ একসাথে ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় কাজ করতো। অনেক জায়গায় পুরুষদের চেয়ে নারীদের সংখ্যা ছিলো বেশি। তবে নারীদের সবসময় অদৃশ্য বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এখনও আইটিখাত বলতে সবাই পুরুষকেই বুঝে। নারীদের কথা যেন ভাবতেই পারে না।’

বুলগেরিয়ার শহর সোফিয়ায় একটি আইটি স্কুলে আর কদিন পরেই শুরু হবে নতুন শিক্ষাবর্ষ। প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিদ্যায় অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই স্কুলটি আর দশটি স্কুলের মতো নয়। এখানকার প্রতিটি শ্রেণীকক্ষ কম্পিউটার ও নানা রকম যন্ত্রপাতিতে ঠাসা। গত কয়েকবছরের তুলনায় এই স্কুলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানান এই স্কুলেরই খণ্ডকালীন শিক্ষিকা আলডেসটিনা গারসোভা। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। যেখানে তিনিই একমাত্র নারীকর্মী।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাবা-মায়েদের শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। যেন তারা বুঝতে পারে ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইটি শিল্পের সঙ্গে ছেলে-মেয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। আর একবার এটা তাদের মাথায় ঢোকাতে পারলেই সবাই নারীদের এই খাতে যোগ দেয়ার ব্যাপারে উৎসাহ যোগাবে।’

আলডেসটিনা গারসোভার এক ছাত্রীর নাম ফিলিপা। ১৮ বছর বয়সে এই আইটি শিক্ষার্থী জানান, এখনও তার মতো অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গৎবাঁধা ধারণার মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে কিছু অদ্ভুত বিষয়ের মুখে পড়তে হয়। যেমন এখানে ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে আসা ছেলোরা আমাদের আইটি বিষয়ে শেখাতে আসে। তাদের ধারণাটা  মেয়েরা এসব বিষয়ে জানে না। তবে এখন মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন। এখন আমরা আইটিতে পড়াশোনা করে সফলতার পরিচয় দিচ্ছি।’

সোফিয়া শহরের এই সরকারি বিমানবন্দরে একেরপর এক বিমান উড্ডয়ন এবং অবতরণ করতে দেখা যায়। এই বিমানগুলো ঠিকঠাক আছে কি-না তার জন্য রয়েছে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত প্রকৌশলী। এ ক্ষেত্রে নারী প্রকৌশলী সংখ্যার হিসাবে বুলগেরিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে পাইলটের ভূমিকায় নারীর অবস্থানে এখনও দেশটি অনেক পিছিয়ে।

ভেলেনটিনা সুডকোভা সরকারি বলকান ডিটাসমেন্ট বিমানের পাইলট। এই বিমানটি মূলত ব্যবহার করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গরা। তবে এই অবস্থান পর্যন্ত আসতে মিস সুডকোভার পথ চলাটা এতো সহজ ছিলো না।

তিনি বলেন, ‘তখনকার বিমান প্রধানরা আমাকে অনেক ভালো করে চিনতেন। কারণ আমি প্রায় প্রতিদিনই এদের অফিসের বাইরে বসে থাকতাম। তার কারণ যদি তারা আমাকে পাইলট হিসাবে নিয়োগ দেন। সে সময় নারীদের পাইলট হতে দেয়া হতো না। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। আমি বিশ্বাস করি আপনি যদি লেগে থাকেন তাহলে সফলতা আসবেই।’

ক্যাপ্টেইন সুডকোভার মতো বিভিন্ন নেত্রীস্থানীয় পদে থাকা এমন আত্মবিশ্বাসী নারীরা বুলগেরিয়ার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য স্বপ্ন দেখার একটি পথ তৈরি করে দিয়েছেন। এখন তারাও সব বাধা পেরিয়ে সফলতার শিখরে উঠার সংকল্প রাখে। -বিবিসি বাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত