প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নাছোড় দু’দল!

রবিন আকরাম : খুলনার পর সদ্য সমাপ্ত গাজীপুর সিটি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার হরেও কিছুতেই পিছু হটবে না বিএনপি। প্রতিটি ভোটে লড়াই চালিয়ে যাবে তারা। নেতারা বলছেন, এটি তাদের আন্দোলন ও রাজনীতিরই অংশ। অন্যদিকে খুলনা ও গাজীপুর নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর বিজয়ে আওয়ামী লীগে উল্লাস চলছে। দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, আসন্ন রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

আওয়মী লীগের নেতারা মনে করছেন, বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির কারণে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগের উন্নয়নের রাজনীতির কারণে জণগন তাদের সমর্থন দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪ লাখ ১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট। খুলনার পর গাজীপুর সিটি ভোটে বিশাল ব্যবধানে সরকারদলীয় প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বার্তা দেখছেন ক্ষমতাসীনরা।

তারা মনে করেন, এ জয়ের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল ভোটেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। ওই তিন সিটির জয়ের ধারাবাহিকতায় জয় আসবে একাদশ সংসদ নির্বাচনেও।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘গাজীপুর সিটি নির্বাচনে জনগণ বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের জবাব এবং আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। খুলনা দিয়ে আওয়ামী লীগের বিজয় শুরু হয়েছে, গাজীপুরেও হলো। আগামীতেও আমাদের বিজয় হবে। এগুলো সরকারের উন্নয়ন, দেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির ফসল।’

দলীয় সূত্রমতে, খুলনা ও গাজীপুর সিটি ভোটের আগে জেলা-মহানগর নেতাদের ডেকে গণভবনে কথা বলেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুলনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্য হলেও গাজীপুরে কোন্দল ছিল। খুলনার নির্বাচনকে মডেল ধরে ২৬ জুন গাজীপুর অনুষ্ঠিত সিটি ভোটে বিজয়ী হতে কৌশলী হন দলটির নেতা-কর্মীরা। এতে তারা সফলও হন। বিশাল ব্যবধানে জয় পায় আওয়ামী লীগ। অথচ গতবার এই সিটিতেও ১ লাখের বেশি ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হন। গাজীপুর ভোটে জয়ের ধারাবাহিকতা তিন সিটি ও জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগাবে আওয়ামী লীগ। এজন্য খোদ দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই উদ্যোগী হয়েছেন। ইতিমধ্যে জেলা-মহানগর, উপজেলা-পৌর এবং থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের গণভবনে ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ বর্ধিত সভা করে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বার্তা দেওয়া হয়েছে তাদের। এবার ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের গণভবনে ডেকেছেন তিনি। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতেই তাদের ডাকা হয়েছে। আগামী শনিবার গণভবনে বেলা ১১টায় রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও চটগ্রাম জেলার সব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং দলীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে এ সভা হবে। এ সভায় আগামী সংসদ নির্বাচনের বার্তা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে খুলনার পর সদ্য সমাপ্ত গাজীপুর সিটি নির্বাচনে যা ঘটেছে তাতে জনমত তাদের পক্ষেই আসছে বলে মনে করছে বিএনপি। নেতারা বলছেন, খুলনা ও গাজীপুর নির্বাচনে জনগণ দেখেছে কিভাবে জালভোটে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে। এতে আগামী দিনে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও জাতীয় নির্বাচনে সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিএনপি।

সংসদের আগে সব সিটি ভোটে সরকারের নগ্ন ভোট কারচুপির মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং মাঠপর্যায়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও চাঙ্গা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের মাঝে বিএনপি এ বার্তা দিতে চায়, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে প্রয়োজন নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার।

জানা যায়, গাজীপুরে ভোটের দিন রাতেই বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেন। লন্ডনে অবস্থান নেওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও গাজীপুরে ঘটে যাওয়া সব কিছুই তুলে ধরা হয়। বৈঠকে নেতারা বলেন, খুলনার পথেই গাজীপুরে ভোট করেছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। তাদের এ কৌশলের বিরুদ্ধে পাল্টা কৌশল নিয়ে এগোতে হবে। তবে নির্বাচন বর্জন কোনো সমাধান নয় বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। তাই যে কোনো পরিস্থিতিতে আসন্ন তিন সিটি রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। আগামী দিনে করণীয় কী তা নিয়ে মতামত নিতে গতকাল বিকালে ২০ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল।

আগামী শনিবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যায়েও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে খোলামেলা মত প্রকাশ করতে পারেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গাজীপুর নির্বাচনের পর গতকাল আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ভোট কারচুপির এ রকম ঘটনার পরও আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেব।

সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই সরকারকে বড় ধরনের ‘ধাক্কা’ দিতে চায় বিএনপি। সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করারই একটি কৌশল। দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বার্তা নিয়ে তৃণমূলে সভা-সমাবেশ ও মতবিনিময়ও চালিয়ে যাবে দলটি। এর মধ্যে বিএনপির অসম্পূর্ণ জেলা কমিটি, অঙ্গসংগঠনের সব কমিটিই পূর্ণাঙ্গ করতে চায়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ৩০ জুনের মধ্যেই অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলো সম্পন্ন করতে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আসন্ন জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কর্মসূচি চলতে থাকবে। অক্টোবরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের আগ মুহূর্তে ‘ডু অর ডাই’ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত