প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট আজ পাস হচ্ছে

উম্মুল ওয়ারা সুইটি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর ছয়মাস বাকি। নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট আজ পাস হতে যাচ্ছে। গত ৭জুন বাজেট পেশের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা এসেছে এবারের বাজেট ভোটার খুশির বাজেট। কেউ কেউ বলেছেন, এটি নির্বাচনমুখী বাজেট। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই বক্তব্যেও দ্বিমত না করেই বলেছেন, আমাদের সব বাজেটই নির্বাচনমুখী এবং ভোটার তুষ্টির। কারণ একটি সরকার জনগণের ভালো থাকার জন্যই বাজেট করেন। আওয়ামী লীগ জনমুখী দল। তাই বাজেটে সবার কথা মাথায় থাকবে।

জানা গেছে, বড় পরিবর্তন ছাড়াই জাতীয় সংসদে আজ পাস হচ্ছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট। এর আগে ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। গতকাল বাজেট আলোচনায় আগামী বাজেটে রাজস্ব খাতে কোনো পরিবর্তনের প্রস্তাব করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিভিন্ন সময় সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রস্তাবের আলোকে কিছুটা কাটছাঁট করে সংসদে বাজেট পাসের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তবে ইন্টারনেট ব্যবহারে কর কমানো, স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল উৎপাদন ও সংযোজনে ভ্যাট অব্যাহতি, মোবাইল ও কম্পিউটার অ্যাকসেসরিজ আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি, পিকআপ আমদানিতে শুল্ক কমানোর কয়েকটি প্রস্তাব রয়েছে।

৭ জুন জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা জিডিপির ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ রয়েছে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসহ ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। অনুন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ২ লাখ ৯১ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ১১ শতাংশ। এ ব্যয় নিশ্চিত করতে আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা; যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত উৎস থেকে রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে, করবহির্ভূত খাত থেকে ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেটের সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা; যা জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণসহায়তা বাবদ প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণ (ব্যাংকসহ) প্রাপ্তির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭১ লাখ ২২৬ কোটি টাকা। আর অনুদান বাবদ প্রাপ্তির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে এনবিআর থেকে প্রাপ্তি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর ও অন্যান্য খাত থেকে প্রত্যক্ষ কর বাবদ ১ লাখ ২ হাজার ২০১ কোটি এবং আমদানি ও রফতানি শুল্ক বাবদ ৩২ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। ভ্যাট খাতে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৪৩ কোটি ও সম্পূরক শুল্ক খাতে ৪৮ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা আয় হবে। আবগারি শুল্ক বাবদ ২ হাজার ৯১ কোটি ও টার্নওভার ট্যাক্স খাতে ১১ কোটি টাকা আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত