প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গুলশানে পুলিশ চেকপোস্টে গুলি : জুয়েল ও মিরাজুল অধরা উদ্ধার হয়নি কোনো অস্ত্র

ভোরের কাগজ প্রতিবেদন : রাজধানীর গুলশান-১ নম্বর গুদারাঘাটের বাড্ডা-গুলশান লিঙ্ক রোডে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামানোর পর গুলির ঘটনায় জড়িতরা শনাক্ত হলেও আটক হয়নি। উদ্ধার হয়নি অস্ত্রধারীদের সঙ্গে থাকা অস্ত্র দুটি। তবে গুলিবর্ষণকারী মিরাজুল ও জুয়েল পেশাদার সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রবাজ বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে ডিবি বলছে, এ ঘটনায় কাউকে শনাক্তই করা যায়নি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) (ডিসি-উত্তর) মশিউর রহমান গতকাল বুধবার বলেন, ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। এখনো কাউকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে ডিবিকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ঘটনার সঙ্গে দেশি-বিদেশি চক্র জড়িত। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এদিকে গুলশান থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সালাউদ্দিন মিয়া ভোরের কাগজকে বলেছেন, ঘটনার পর দুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা বাড্ডার আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। ঘটনাস্থল ও চেকপোস্টের ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের আটক ও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ডিএমপির বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার মো. আশরাফুল করিম জানান, ১৫ জুন উত্তর বাড্ডার আলীর মোড় এলাকার পাশে পূর্বাঞ্চল ১ নম্ব^র লেন সংলগ্ন বায়তুস সালাম জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন বাড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আলী। মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর বাড্ডা-গুলশান লিঙ্ক রোডে তল্লাশি চৌকিতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামায় পুলিশ। তল্লাশির সময় একজন ওই অটোরিকশা থেকে নেমে সামনে চলে যায়। পেছন থেকে ডাক দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি চারটি গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায় সে। আশরাফুল আরো জানান, পলাতক দুজনই পেশাদার খুনি। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পর তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গুলশান থানায় পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে।

ঘটনাস্থলের পাশেই রাস্তার ওপরে থাকা সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, ১৫ জুন শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলির চালানোর এই ঘটনা ঘটে। এর আগে উত্তর বাড্ডার বায়তুস সালাম জামে মসজিদের সামনে ফরহাদ আলীকে গুলি করে পালানোর সময় পাশের একটি ভবনে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে একই পোশাকে থাকা দুজনকে চিহ্নিত করে পুলিশ। ওই ফুটেজে দেখা গেছে, দুই যুবক দৌড়ে পালাচ্ছে। সাদা টি-শার্ট পরা জুয়েল সামনে দৌড়াচ্ছে। পেছনে তাকে অনুসরণ করে যাচ্ছে লাল টি-শার্ট পরিহিত মিরাজুল। জুয়েলের হাতে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ৩০ মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে গুলশান-১ গুদারাঘাট এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশির মুখোমুখি হয় অস্ত্রধারী জুয়েল ও মিরাজুল।

চেকপোস্টের পাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ১টা ৫৩ মিনিটে গুলশান-১ থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে থামার নির্দেশ দেন চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক সদস্য। এ সময় তার সামনে ও পেছনে উপস্থিত ছিলেন এপিবিএনের আরো দুজন সদস্য। তাদের দুজনকেই রাইফেল হাতে দেখা গেছে। অটোরিকশা থেকে প্রথমে নেমে আসে মিরাজুল, তার পিছু পিছু জুয়েল। মিরাজুলকে পাশে রেখে জুয়েলকে তল্লাশি শুরু করেন ওই পুলিশ সদস্য। এ সময় মিরাজুল প্রথমে ফুটপাতে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও পুলিশ সদস্য যখন জুয়েলকে তল্লাশিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তখনই মোবাইল ফোনে কিছু একটা করার ভান করে সামনের দিকে হেঁটে যেতে থাকে মিরাজুল। হেঁটে চলে যাওয়ার দৃশ্যটি চোখে পড়ার পর অটোরিকশার পেছনে থাকা এপিবিএন সদস্য মিরাজুলকে ডাক দেন। সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হন অটোরিকশার সামনে থাকা এপিবিএন সদস্য। কাছে আসার জন্য ডাকা হয় মিরাজুলকে। ততক্ষণে ফুটপাতের ওপরে থাকা ছাতার নিচে পৌঁছে যায় সে। এরপর মুহূর্তেই কোমর থেকে পিস্তল বের করে পুলিশ সদস্যদের দিকে তাক করে মিরাজুল। এ পরিস্থিতিতে পিছু হঁটেন পুলিশ সদস্যরা। এতে পালানোর সুযোগ পায় তল্লাশির মুখে থাকা জুয়েলও। সে তখন অটোরিকশায় লুকিয়ে রাখা পিস্তলটি নিয়ে গুদারাঘাটের দিকে দৌড়ে পালায়। জুয়েল দৌড় দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে মিরাজুল। এতে আরো পেছনে নিরাপদ স্থানে সরে যান পুলিশ সদস্যরা। এ সুযোগে সেও পালিয়ে যায়।

গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, চেকপোস্টে নিয়মিত চেক চলছিল। ওই সময় একজন এএসআইয়ের নেতৃত্বে চারজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা জানতেন না বাড্ডাতে মার্ডার হয়েছে।

বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ধারণা করছি ফরহাদ আলীকে গুলি করে যারা পালিয়েছিল, তারাই গুলশান চেকপোস্টে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করেছে।

উল্লেখ্য, এলাকার ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ফরহাদের সঙ্গে একটি পক্ষের বৈরিতা চলছিল। ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসির কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে অভিযোগও ছিল। পরে এ নিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও ডিশ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া বন্ধ করেননি তিনি। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে চলাচলকারী অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন থেকে প্রাপ্ত চাঁদার ভাগাভাগি নিয়েও তার সঙ্গে বিরোধীদের দ্ব›দ্ব ছিল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত