প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

সু চি-কে অভ্যুত্থানের হুমকি মিয়ানমার সেনা প্রধানের

ইত্তেফাক প্রতিবেদন : রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে অং সান সু চি যে ভূমিকা নিচ্ছেন তা যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পছন্দ করছে না- এটা এখন এক রকম ‘ওপেন সিক্রেট’; কিন্তু থাইল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষ দৈনিক ব্যাংকক পোস্টে শনিবার প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাখাইনে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত এবং রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফিরিয়ে আনার ইস্যুতে সু চি এবং সেনাবাহিনীর সম্পর্ক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে।

বিবিসির এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাখাইনে হত্যা এবং নির্যাতনের তদন্তসহ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে জাতিসংঘের সাথে যে বোঝাপড়া সু চির সরকার করেছে তা নিয়ে সেনাবাহিনী সন্দিহান। বিশেষ করে তদন্ত কমিটিতে একজন বিদেশি বিশেষজ্ঞ রাখার বিষয়ে তীব্র আপত্তি সেনাবাহিনীর।

ব্যাংকক পোস্টের রিপোর্টে সেনাপ্রধানের ঘনিষ্ঠ একজন সাবেক সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তদন্তে বিদেশিকে রাখার বিষয়টি সেনাবাহিনী কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। এই ‘রেড-লাইন’ অতিক্রম করা যাবে না।

শীর্ষ সেনা কম্যান্ডের সাথে সম্পর্কিত একাধিক সূত্র উল্লেখ করে লেখা হয়েছে যে, সু চির সঙ্গে একটি বৈঠকে জেনারেল মিন অং হ্লেইং অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন, এমনকি তিনি অভ্যুত্থানেরও হুমকি দেন। সেনাপ্রধান সু চিকে বলেন, আপনি যদি সরকার চালাতে না পারেন, সেনাবাহিনী ক্ষমতা ফিরিয়ে নেবে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান কি পুরো দেশের ক্ষমতা নেওয়ার কথা বলেছেন, নাকি শুধু রাখাইনের কথা বলেছেন- তা স্পষ্ট নয়। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, সেনাবাহিনী যদি মনে করে দেশে বা দেশের কোনো অঞ্চলে নিরাপত্তার হুমকি তৈরি হয়েছে, তাহলে তারা পুরো দেশের বা ঐ নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রশাসন চালানোর অধিকার নিয়ে নিতে পারবে।

ব্যাংকক পোস্ট বলেছে, ঐ বৈঠকটি হঠাত্ করে শেষ হওয়ার পর সু চির বেসামরিক প্রশাসন এবং সেনাপ্রধান পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। রাজধানী নেপিদোতে সম্ভাব্য গোলযোগের জন্য অনেক বড় বড় শহরে থেকে সেনাবাহিনীকে গুটিয়ে আনা হয়। রাখাইন ছাড়া অন্যান্য সীমান্তে অভিযানে রাশ টানা হয়। একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা, যিনি সেনাবাহিনীর উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন, তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সেনাবাহিনী এবং সু চির বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে এই টানাপোড়েনের মধ্যে মঙ্গলবার মিয়ানমার সেনাবাহিনী মং মং সোয়ে নামে একজন মেজর জেনারেলকে বরখাস্ত করেছে। তিনি রাখাইনে সেনা কমান্ডার ছিলেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত এক রিপোর্টে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং এবং ১২ জন সেনা কর্মকর্তার নাম করে বলা হয়েছে- রাখাইনে এরাই পরিকল্পনা করে সহিংসতা পরিচালনা করেছেন। এই প্রথম কোনো রিপোর্টে সরাসরি নাম ধরে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করা হলো। অ্যামনেস্টি এই সেনা কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার প্রকাশ করা প্রতিবেদনে মিয়ানমারের ওপর বড় ধরনের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সেখানকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের অনুরোধ জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত