প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১ নম্বরের ওয়ার্ক অর্ডারে ব্যবহৃত হচ্ছে ৩ নম্বর ইট!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ওয়ার্ক অর্ডারে আছে এক নম্বর ইট দিয়ে রাস্তা তৈরির কথা; ব্যবহার করা হচ্ছে ৩ নম্বর ইট। ইট বিছানোর কথা খাড়া করে, তা না করে বিছানো হচ্ছে পাতাল করে। এমন কাজ দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, ৩ নম্বর ইট অপসারণ করে এক নম্বর ইট প্রতিস্থাপনের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও সেই নিম্নমানের ইট রয়ে গেছে। এসব অনিয়ম ধরা পড়েছে বগুড়া জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৯ কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা রাস্তায় এইচবিবি প্রকল্পের মাধ্যমে ইটের সোলিং করার জন্য গত এপ্রিলে দরপত্র আহ্বান করা হয়। রাস্তাগুলো সোলিং বাবদ ব্যয় ধরা হয় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় একটি প্যাকেজে গাবতলী উপজেলার নেপালতলী, রামেশ্বরপুর ও দুর্গাহাটা ইউনিয়নে ১৫শ’ মিটার ইটের সোলিং বসানোর জন্য ব্যয় ধরা হয় ৫৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৫ টাকা। রাস্তাগুলো হলো- রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের চকমাল্লা বাইপাস রাস্তা সংলগ্ন আনছারের বাড়ি থেকে আলিমের বাড়ি পর্যন্ত ৫শ’ মিটার, নেপালতলী ইউনিয়নের কালের ঘাট থেকে চকরাধিকা মন্দির পর্যন্ত ৫শ’ মিটার এবং দুর্গাহাটা ইউনিয়নের শিলদহবাড়ী গ্রামে ৫শ’ মিটার রাস্তা। খবর সমকাল’র।

১৫ জুন এসব রাস্তার ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। এতে এক নম্বর ইট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। আর ইট পাতাল করে নয়, খাড়া করে স্থাপন করার কথাও উল্লেখ আছে ওয়ার্ক অর্ডারে। এর মধ্যে রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের কাজটি ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে নেপালতলী ইউনিয়নে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। এটি শেষ হলেই দুর্গাহাটা ইউনিয়নে কাজ শুরু হবে। নেপালতলী ইউনিয়নে কাজ করার সময় তিনভাবে ফাঁকি দেওয়া হয়। একে তো ৩ নম্বর ইট, তার ওপরে পাতাল করে। এ ছাড়া ফাঁকা ফাঁকা করে ইট বিছিয়ে তড়িঘরি করে এর ওপর বালু ফেলে ঢেকে দেওয়া হয়। ওই ইউনিয়নের চকরাধিকা গ্রামে এভাবে রাস্তার কাজ করার সময় এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করে।

স্থানীয় অধিবাসী হাসেন আলী অভিযোগ করে বলেন, এভাবে নিম্নমানের ইট দিয়ে তৈরি করা এই রাস্তা কয়েকদিনের মধ্যেই ভেঙে যাবে। এতে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন নেপালতলী ইউপি চেয়ারম্যান লতিফুল বারী মিন্টুও। তিনি বলেন, ৩ নম্বর ইট দিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এমন রাস্তা তৈরির প্রতিবাদে এলাকাবাসী গত রোববার কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু সংশ্নিষ্ট ঠিকাদারের দাপটের কারণে বেশি সময় কাজ বন্ধ রাখা যায়নি। সোমবার ঠিকাদার পুনরায় শ্রমিক লাগিয়ে আগের মতো করেই কাজ করতে থাকে।

গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে জানায়, ১৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের কালের ঘাট থেকে চকরাধিকা মন্দির পর্যন্ত ৫শ’ মিটারের এ রাস্তা নির্মাণে লটারির মাধ্যমে দায়িত্ব পান ফরিদ উদ্দিন নামে এক ঠিকাদার। পরে তিনি ওই গাবতলীর মহিষাবান ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে দেন। আমিনুল ইসলাম নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা তৈরির কথা অস্বীকার করে বলেন, ইট একেবারে নিম্নমানের নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলীম বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই ঠিকাদারকে নিম্নমানের ইট অপসারণ করে সেখানে ১ নম্বর ইট প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশ না মানলে বিল বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে গতকাল বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে ৩ নম্বর ইট অপসারণ তো হয়ইনি, কাজ চলছে আগের নিয়মেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত