প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একাদশ সংসদ নির্বাচনেও জয় পাবে আওয়ামী লীগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর বিজয়ে আওয়ামী লীগে উল্লাস চলছে। দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, আসন্ন রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির কারণে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগের উন্নয়নের রাজনীতির কারণে তারা সমর্থন দিচ্ছেন বলে মনে করেন নেতারা।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪ লাখ ১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট। খুলনার পর গাজীপুর সিটি ভোটে বিশাল ব্যবধানে সরকারদলীয় প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বার্তা দেখছেন ক্ষমতাসীনরা। তারা মনে করেন, এ জয়ের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল ভোটেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। ওই তিন সিটির জয়ের ধারাবাহিকতায় জয় আসবে একাদশ সংসদ নির্বাচনেও। খবর বাংলাদেশ প্রতিদিন’র।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গাজীপুর সিটি নির্বাচনে জনগণ বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের জবাব এবং আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। খুলনা দিয়ে আওয়ামী লীগের বিজয় শুরু হয়েছে, গাজীপুরেও হলো। আগামীতেও আমাদের বিজয় হবে। এগুলো সরকারের উন্নয়ন, দেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির ফসল।’

গাজীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং দলের পক্ষে পুবাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি ও এমপি আখতারুজ্জামান বলেন, ‘চার কারণে গাজীপুর সিটিতে বিজয় এসেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে মনে করছি। এর মধ্যে অন্যতম ছিল দলের সব পর্যায়ের নেতার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। দ্বিতীয়, সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন ও বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি। তৃতীয়, বিএনপির প্রার্থীর তুলনায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী তরুণ ও ক্লিন ইমেজের। চতুর্থ, এই সিটিতে প্রায় দেড় লাখ নতুন ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটে অংশগ্রহণ করে উন্নয়ন এবং তারুণ্যের কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকেই বেছে নিয়েছেন।’

দলীয় সূত্রমতে, খুলনা ও গাজীপুর সিটি ভোটের আগে জেলা-মহানগর নেতাদের ডেকে গণভবনে কথা বলেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুলনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্য হলেও গাজীপুরে কোন্দল ছিল। খুলনার নির্বাচনকে মডেল ধরে ২৬ জুন গাজীপুর অনুষ্ঠিত সিটি ভোটে বিজয়ী হতে কৌশলী হন দলটির নেতা-কর্মীরা। এতে তারা সফলও হন। বিশাল ব্যবধানে জয় পায় আওয়ামী লীগ। অথচ গতবার এই সিটিতেও ১ লাখের বেশি ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হন। গাজীপুর ভোটে জয়ের ধারাবাহিকতা তিন সিটি ও জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগাবে আওয়ামী লীগ। এজন্য খোদ দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই উদ্যোগী হয়েছেন। ইতিমধ্যে জেলা-মহানগর, উপজেলা-পৌর এবং থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের গণভবনে ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ বর্ধিত সভা করে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বার্তা দেওয়া হয়েছে তাদের। এবার ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের গণভবনে ডেকেছেন তিনি। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতেই তাদের ডাকা হয়েছে। আগামী শনিবার গণভবনে বেলা ১১টায় রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও চটগ্রাম জেলার সব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং দলীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে এ সভা হবে। এ সভায় আগামী সংসদ নির্বাচনের বার্তা দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঢাকার অদূরে হওয়ায় গাজীপুরের ঢেউ সারা দেশে লেগেছে। প্রায় সারা দেশের মানুষই গাজীপুরে কাজ করেছে। এরাই তৃণমূলে বার্তা নিয়ে যায়। এ নির্বাচনের জয় আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সভানেত্রী তৃণমূল নেতাদের ডেকে গণভবনে বৈঠক করছেন। নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে বিশেষ বার্তা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, বিএনপির সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের অপরাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ অনেক আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের জনগণ উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ বেছে নিয়েছে। তারই প্রতিফলন ঘটেছে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত