প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কিছুতেই পিছু হটবে না বিএনপি!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোট নিয়ে নতুন ভাবনায় বিএনপি। নির্বাচনে পিছু হটবে না তারা। প্রতিটি ভোটে লড়াই চালিয়ে যাবে। নেতারা বলছেন, এটি তাদের আন্দোলন ও রাজনীতিরই অংশ। খুলনার পর সদ্য সমাপ্ত গাজীপুর সিটি নির্বাচনে যা ঘটেছে তাতে জনমত তাদের পক্ষেই আসছে। এতে আগামী দিনে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও জাতীয় নির্বাচনে সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিএনপি। সংসদের আগে সব সিটি ভোটে সরকারের নগ্ন ভোট কারচুপির মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং মাঠপর্যায়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও চাঙ্গা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের মাঝে বিএনপি এ বার্তা দিতে চায়, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে প্রয়োজন নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার।

জানা যায়, গাজীপুরে ভোটের দিন রাতেই বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেন। লন্ডনে অবস্থান নেওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও গাজীপুরে ঘটে যাওয়া সব কিছুই তুলে ধরা হয়। বৈঠকে নেতারা বলেন, খুলনার পথেই গাজীপুরে ভোট করেছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। তাদের এ কৌশলের বিরুদ্ধে পাল্টা কৌশল নিয়ে এগোতে হবে। তবে নির্বাচন বর্জন কোনো সমাধান নয় বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। তাই যে কোনো পরিস্থিতিতে আসন্ন তিন সিটি রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। আগামী দিনে করণীয় কী তা নিয়ে মতামত নিতে গতকাল বিকালে ২০ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল। আগামী শনিবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যায়েও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে খোলামেলা মত প্রকাশ করতে পারেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। খবর বাংলাদেশ প্রতিদিন’র।

গাজীপুর নির্বাচনের পর গতকাল আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ভোট কারচুপির এ রকম ঘটনার পরও আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেব। সরকারের নিলর্জ্জ গণবিরোধী চরিত্র উন্মোচনের জন্য ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে অংশ নিচ্ছি। এই জনবিচ্ছিন্ন সরকারের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন করতে চাই। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা ও পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হচ্ছে এই নির্বাচনগুলোর মধ্য দিয়ে।’

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, সামনে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে সরকারের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করবে বিএনপি। তবে এসব সিটি নির্বাচনে সব শক্তি ক্ষয় না করার পক্ষে দলের হাইকমান্ড। ভোট নিয়ে নানা কৌশল গ্রহণ করা হবে। তা ছাড়া এসব ভোটের নানা অনিয়ম ও কারচুপির বার্তা নিয়ে জনগণের কাছে যেতে চায় বিএনপি। তাই আবারও জেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সফরের কথা ভাবছে দলটি। তৃণমূল নেতা ও ভোটারদের মতামত নিয়েই সামনে এগোতে চায় দলটি।

সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই সরকারকে বড় ধরনের ‘ধাক্কা’ দিতে চায় বিএনপি। সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করারই একটি কৌশল। দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বার্তা নিয়ে তৃণমূলে সভা-সমাবেশ ও মতবিনিময়ও চালিয়ে যাবে দলটি। এর মধ্যে বিএনপির অসম্পূর্ণ জেলা কমিটি, অঙ্গসংগঠনের সব কমিটিই পূর্ণাঙ্গ করতে চায়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ৩০ জুনের মধ্যেই অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলো সম্পন্ন করতে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আসন্ন জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কর্মসূচি চলতে থাকবে। অক্টোবরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের আগ মুহূর্তে ‘ডু অর ডাই’ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকারের নগ্ন মুখোশ উন্মোচন আর দলীয় নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখতেই মূলত এসব নির্বাচনে আমাদের অংশগ্রহণ। আমরা বার বার অংশ নেব, আর সরকার বার বার ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখলসহ জবরদস্তি করবে। দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহল বার বার সেই দৃশ্য দেখতে পারবেন। তা ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবেও নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।’

স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারের নগ্ন চেহারা বিএনপির আর উন্মোচন করার কিছু নেই। কারণ, সরকার যা করছে লুকিয়ে-ছাপিয়ে কিছু করছে না। ভোট ডাকাতিসহ যা করছে প্রকাশ্যে সবার সামনেই করছে। গণমাধ্যমের সুবাদে তা দেশবাসীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলও দেখতে পেয়েছে। জনগণ ও বিদেশিদের সামনে যাতে বার বার এসব দৃশ্য প্রদর্শিত হয়— সেটিই আমাদের কাম্য।’

বিএনপির মধ্য সারির একাধিক নেতা জানান, ভোটে সরকার যেমন আচরণ করে আমাদেরও সেরকম আচরণই করা উচিত। তারা ভোট কারচুপি করলে বিএনপিকে তার প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত। এটা করতে না পারলে নির্বাচনে না থাকাই ভালো। বিগত খুলনার সিটি নির্বাচন থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারিনি। এখন গাজীপুর থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে সামনের সিটিগুলোতে সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। নইলে ভোট বর্জন করে জাতীয় নির্বাচনের জন্য শক্তি অর্জন করা প্রয়োজন। বিএনপির নেতারা মনে করেন, খুব শিগগিরই বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। দলের প্রধানকে সঙ্গে নিয়েই তারা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ জন্য বেগম জিয়া জেলে থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে। যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে তিন স্তরে জরিপও চালানো হয়েছে। প্রতিটি সংসদীয় আসনে অন্তত তিনজন করে প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। যুগোপযোগী ইশতেহার তৈরির কাজও চলছে। দলের প্রধান বেগম জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সবুজ সংকেতেই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতেই বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে সুষ্ঠু ভোটের জন্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার নিয়ে ক্ষমতাসীনদের চাপ অব্যাহত রাখা হবে। একপর্যায়ে টানা আন্দোলনের মাধ্যমে দফায় দফায় আলটিমেটামও দেওয়া হবে। সরকারকে নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধ্য করার সব উদ্যোগও নেওয়া হবে।

সিলেটে আরিফের হাতেই ধানের শীষ প্রতীক : সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে ধানের শীষে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বিকালে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সিলেটে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। এর আগে ২৪ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল সিটিতে বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ার ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত