প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

ফুরফুরে মেজাজে আওয়ামী লীগ, বেড়েছে আত্মবিশ্বাস!

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খুলনা ও গাজীপুরের নিরঙ্কুশ জয়ে বেশ স্বস্তি এসেছে ক্ষমতাসীন শিবিরে। ফুরফুরে মেজাজে আওয়ামী লীগ। বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। দৃঢ়তার সঙ্গেই বলছেন, একইভাবে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে জয় আসবে। শেষ পর্যন্ত এর ছোঁয়া লাগবে জাতীয় নির্বাচনেও। এ লক্ষে দলটির সভাপতি থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত কাজ করছে পুরোদমে।

দুটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে। সাধারণ মানুষ বিএনপির ক্ষমতায় থাকাকালীন দুর্নীতি ও দুঃশাসন এবং বিরোধী দলে থাকাকালীন জ্বালাও-পোড়াওকে প্রত্যাখ্যান করেছে। উন্নয়নের জন্য কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আওয়ামী লীগকে রায় দিয়েছে।

ক্ষমতাসীনদের দাবি, খুলনা ও গাজীপুর সিটির ধারাবাহিকতায় সামনে স্থানীয় সরকারসহ জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে ভোটাররা। খবর পরিবর্তন.কম’র।

গত ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়রপদে বিজয়ী হন নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক। মোট ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫৬ ভোট।

মঙ্গলবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এদিন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীকে ৪ লাখ ১০ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার পান এক লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট।

জয়ের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আমাদের বড় জয় হয়েছে। এতে আমাদের আশার প্রতিফলন হয়েছে।’

তার মতে, গাজীপুরের জনগণ বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাসের জবাব দিয়েছে। আহসানউল্লাহ মাস্টারের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে গাজীপুরবাসী। এই নির্বাচনের ফলাফল বিএনপি জণগন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে তা প্রমাণিত।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রহমতে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনসহ প্রতিটি নির্বাচনে জয় আশা করি। কারণ বাংলাদেশের জনগণকে উন্নয়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও আগামী দিনের একটি সোনালী ভবিষ্যত আমরাই দিয়েছি এবং স্বপ্ন দেখাতে পেরেছি।’

‘বিশেষ করে, খুলনা এবং গাজীপুরের নির্বাচনের পরে দেখা যাচ্ছে যে, আমরা যতটা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি জনগণ আমাদের পক্ষে আছে। এটি আমাদের আরও বেশি কাজ করতে উৎসাহিত করবে’ যোগ করেন তিনি।

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গাজীপুরের এই ফলাফল আমাদের প্রত্যাশিত। কারণ বাংলাদেশে বিএনপি যেভাবে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-দুর্নীতির অপরাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, তাতে মানুষের সমর্থন নেই। তার উপর আওয়ামী লীগের ঐক্যে আহসানউল্লাহ মাস্টারের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে গণরায় এসেছে।

তিনি মনে করেন, বিএনপির অপরাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ অনেক আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। এই যে পরাজয়ের ধারা সূচনা হয়েছে তাদের, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদেরকে পরাজিত করার মাধ্যমে বিএনপির অপরাজনীতি নির্মূলের রায় দেবে জনগণ।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর বলেন, ‘গাজীপুর এবং খুলনাতে সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পক্ষে রায় দিয়েছে। বিএনপির জঙ্গিবাদ ও দুঃশাসন প্রত্যাখ্যান করেছে। একইভাবে আগামী রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটির জনগণও একই রায় দিবে। উন্নয়নের জয় হবে।’

এদিকে সবগুলো নির্বাচনে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর‌্যন্ত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সবার দৃষ্টি আগামী জাতীয় নির্বাচনে, এতে বিজয়ের মধ্যদিয়ে হ্যাটট্রিক জয় নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ।

এজন্য দলের সভাপতি জেলা নেতাদের সঙ্গে বর্ধিত সভা করে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। তৃণমূলকে আরও চাঙ্গা করতে ৩০ জুন ও ৭ জুলাই দুই ধাপে সারাদেশের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি-সম্পাদক ও চেয়ারম্যানদের নিয়ে বসবেন। সেখানেও জাতীয় নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে নির্দেশনা দেবেন।

বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, তাতে জনগণের ভোট না দেয়ার কোনো করণ নেই। যদি নৌকা হারে তাহলে এজন্য তৃণমূল নেতাদের দায়ী থাকতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত