প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মংলা বন্দরে আরও ৪ শ’ ৬২টি গাড়ি নিলামে উঠছে

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট অফিস: খালাস না করায় নিলামে উঠছে বাগেরহাটের মংলা বন্দরে পড়ে থাকা ৪শ’ ৬২ টি রিকন্ডিশন গাড়ি।

আজ ২৮ জুন খুলনা-মংলা কাষ্টমস হাউসে এসব গাড়ি নিলামে তোলা হবে বলে জানায় কাষ্টমস।

মংলা কাষ্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান একথা নিশ্চিত করে জানান, আমদানিকারকরা সরকারী নিয়োম অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে খালাস না করায় দীর্ঘদিন মংলা বন্দরের শেডে ৪৬২টি গাড়ি পড়ে ছিল। এ অবস্থায় কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলো নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেয়।

তিনি আরো জানান, এজন্য চলতি মাসের ১৪ জুন এর দরপত্র (সিডিউল) বিক্রয় শুরু করা হয়। সবকিছু ঠিক ঠাক রেখে কাষ্টমস আইন মেনে গতকাল বুধবার ২৭ জুন এসব গাড়ি নিলামে তোলা হয়েছে। তবে নিলামে ওঠা ৪৬২ টি গাড়ির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে চাননি এ কাষ্টমস কর্মকর্তা।

এবিষয় কাষ্টমসের নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠান এক্সপো ট্রেডার্স খুলনার ব্যাবস্থাপক মো. দোলোয়ার হোসেন বলেন,মংলা বন্দরে প্রায় ৫০টিরও বেশী আমদানী কারক কোম্পানীর অনুমান ৪ থেকে ৫ হাজার গাড়ী রয়েছে। এখান থেকে আমদানী নিষিদ্ধ, আমদানিকৃত গাড়ি সময় মত না নেয়া ও শুল্ক জটিলতার কারণে অনেক গাড়ি এখানে রয়ে গেছে। সেগুলোকে মূলত সরকারি ও কাষ্টমসের আইন অনুযায়ী নিলামের উঠানো হয়েছে। তবে সর্বাচ্ছ দরদাতারই এ নিলামের অংশীদারিত্ব হবে।

এ উপলক্ষে গত ১৪ জুন বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে গাড়ির নিলাম ডাকা ও দরপত্র আহ্বান করে কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ। গত ১৯জুন থেকে এ নিলামের দরপত্র ও ক্যাটালক বিক্রি করা চলে ২৬ জুন পর্যন্ত। আর ২৪ জুন থেকে ২৬ জুন বিকাল পর্যন্ত যারা এ নিলামে অংশ গ্রহন করবে তারা বন্দর কর্তৃপক্ষের সেডে এ গাড়ী গুলো ঘুড়ে দেখছে বলেও জানায় এ কর্মবকর্তা।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. সোহাগ মাহমুদ জানান, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমদানিকারকরা মংলা বন্দর দিয়ে কয়েক হাজার গাড়ি আমদানি করে। এর মধ্যে ৪৬২ টি গাড়ি সময়মত খালাস করতে না পারায় নিয়মানুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ কাষ্টমস কর্তৃপক্ষকে নিলামে তোলার জন্য সুপারিশ করে। মূলত আমদানিকারকরা তাদের আমদানিকৃত গাড়ি এ বন্দর থেকে না নেয়া ও শুল্ক জটিলতা দুর করাই হচ্ছে মুল কারন। এছাড়াও সরকারের রাজস্ব আদায় করার জন্যই হচ্ছে এ গাড়িগুলো নিলামের প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে। এসব গাড়ির মধ্যে টয়োটা, নিশান, নোয়া, এক্সজিও, প্রোবক্স, প্রিমিও,লেক্সাস,পাজেরো, পিকাপ, ডামট্রাক,এলিয়ান ও মার্সিডিসসহ বিলাশবহুল দামি গাড়ী রয়েছে। কাস্টম আইন মেনেই এসব গাড়ি নিলামে উঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, কর ফাঁকি দিতেই এতদিন পেরিয়ে গেলেও এগুলো খালাস করেননি আমদানিকারকরা। আর এখন কৌশলে নামে বেনামে তারাই নিলামের কিনে নিবে এসকল বিলাশবহুল দামি গাড়ীগুলো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত