প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

আদম মালেক : এক সময় গ্রামাঞ্চলে ছিল মাটির হাঁড়িপাতিলের কদর। কিন্তু এখন আর তা নেই। বিলুপ্তের পথে এ শিল্প। কালের বিবর্তনে ধাতব, প্লাস্টিক, মেলামাইন ও চিনামাটির সামগ্রির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এ শিল্পে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন। বেঁচে থাকার তাগিদে এ বংশানুক্রমিক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী এ পেশার অনেক শিল্পী। ধুকে ধুকে যারা এখনও টিকে আছেন তারাও ক্রমশ ঝুঁকছেন অন্য পেশায়।

সিলেটের বড়লেখা উপজেলার কুমারপাড়া গ্রামে মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়টি পরিবার বাস করতো। এক সময় বড়লেখার মাটির তৈরি তৈজসপত্রের বড় জোগান আসত এই গ্রাম থেকে। আর এই পেশার সঙ্গে সম্পৃক্তরা সচ্ছল জীবনযাপন করতেন। বর্তমানে অতিকষ্টে বংশপরম্পরার এ ঐতিহ্য আঁকড়ে
ধরে আছে চার থেকে পাঁচটি পরিবার। অথচ এ গ্রামের অন্তত ৩০টি পরিবারের জীবন-জীবিকার উৎস ছিল এ শিল্প।

সম্প্রতি কুমারপাড়া (খদানগর) গ্রামের প্রবেশ পথে কথা হয় শতীনন্দনের সঙ্গে। অতীতের বর্ণনা দিতে গিয়ে সত্তর ছুঁইছুঁই শতীনন্দনের চোখজোড়া চঞ্চল হয়ে ওঠে। মৃৎশিল্পের সঙ্গে যার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তিনি কি-না শেষ বয়সে এসে মুদি দোকান দিয়েছেন। শতীনন্দন বলেন, ‘আগে ঘরে ঘরে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করা হতো। এখন তিন-চারটি পরিবার বানায়। লাকড়ি মেলে না। হাঁড়িপাতিল তৈরি করার মাটি পাওয়া যায় না। লাকড়ি ও মাটির দাম বেশি। তাই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছি। দুই ছেলে আমার, দোকানে চাকরি করে।’

নতুন প্রজন্মের কেউই এ পেশায় আসছেন না। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৃৎশিল্পের চরম দৈন্যদশার জন্য নতুন করে তারা কেউই এ পেশায় আসতে আগ্রহী নন।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা, খর্নিয়া, আটলিয়া, শরাফপুর, রুদাঘরা, মাগুরাঘোনা ও রঘুনাথপুরথ ইউনিয়নে নয় শতাধিক পরিবার এ মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। পরিবারগুলো মাটি দিয়ে হাঁড়ি-পাতিল, কলসি, চাড়ি, ঢালী, রিং, মাটির ব্যাংক, ফুলের টবসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে স্থানীয় বাজার বা গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করত।

এ কাজের সঙ্গে জড়িত রানাই গ্রামের সুকুমার পাল, আরতি পালসহ কয়েকজন জানান, প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব, এঁটেল মাটির সংকট, জ্বালানির জন্য বাঁশের মুথা, বাঁশের পাতা, কাঠ ও অনু্যুান্য জ্বালানি সামগ্রির মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। কয়েক বছর আগে মাটি, বাঁশে মুথা (গাড়ার অংশ), কাঠ, বাঁশের পাতা বিভিন্ন বাগান কুড়িয়ে পাওয়া যেত। এগুলো মূল্য দিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেত। এখন এসব জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া। অথচ মাটি দিয়ে তৈরি এসব দ্রব্যের মূল্য সেই তুলনায় বাড়েনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত