প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গাসিক নির্বাচন সাজানো মন্তব্য সিপিবি, বাম মোর্চা, জেএসডি ও ওয়ার্কার্স পার্টির সন্তোষ প্রকাশ

রফিক আহমেদ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (সিপিবি), গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি’র) নেতারা বলেছেন গাজীপুর সির্টি কর্পোরেশন নির্বাচন সাজানো এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এ নির্বাচনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বুধবার উল্লেখিত দলগুলোর নেতারা পৃথক পৃথকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর সির্টি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান।

সিপিবি’র নেতৃদ্বয় বলেন, গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে সাজানো ও প্রহসনের নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করে পূর্ব নির্ধারিত ফল গ্রহণযোগ্য নয় বলেছে সিপিবি। সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহণকালে সকাল থেকেই অনেক এলাকায় সরকার দলীয় ছাড়া অন্য দলের এজেন্টরা দাঁড়াতেই পারেননি। আচরণ বিধি লংঘন করে এলাকায় এলাকায় মহড়া, নানান কলাকৌশলে পুরো নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার করা হয়। এরপর কয়েকটি এলাকায় বিরোধী দলসমূহের এজেন্টদের থাকতে না দেওয়া, ভাংচুর, ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে বেআইনিভাবে সিল মারার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে, সাধারণ মানুষ ভোট প্রদানের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

সিপিবি’র নেতৃদ্বয় বলেন, বিভিন্ন এলাকার ভোট কেন্দ্রে কাস্তে মার্কার ভোটার ও এজেন্টদের দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। জোর করে ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপারে সিল মারার খবর গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। দুপুর থেকে এই ধারা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বশেষে অধিকাংশ কেন্দ্র সরকারি দলের কর্মীরা দখলদারিত্ব কায়েম করে। এই নির্বাচন সরকার দলীয় ও প্রশাসনের নিবির ম্যাকানিজমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি’র) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়েছে কুটকৌশলের আশ্রয়ে-ভয় ভীতির বাতাবরনে। এতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন প্রতিফলন ঘটেনি। অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগের কোন বাস্তবতা ছিলনা। বরং সরকার, প্রশাসন ও সরকার দলীয় ক্ষমতার প্রভাব প্রয়োগ করে নির্বাচন নিয়ন্ত্রন এবং বিজয় নিশ্চিত করার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছে। বাহিরে সুন সান ভিতরে গড়বড়ের কুটকৌশল গণতান্ত্রিক চেতনাকে নির্বাসিত করেছে। প্রজাতন্ত্র থেকে জনগণের অংশগ্রহনকে বিচ্ছিন্ন করেছে-যা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নয়।

‘সংগঠিত ভোট ডাকাতি, ব্যালট ছিনতাই, প্রকাশ্যে সিল মারা, প্রতিপক্ষের পোলিং, এজেন্টদের বের করে দেয়া, কোথাও কেন্দ্রে ঢুকতেই না দেয়া, নির্বাচনের আগেই পুলিশ দিয়ে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা এলাকাছাড়া করার মধ্য দিয়ে আরো একটি ‘গণতান্ত্রিক’ নির্বাচনের মহড়া সমাপ্ত করলো মহাজোট সরকার। এই মহড়ায় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের মধ্য দিয়ে খুলনা সিটি নির্বাচনের মতই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সমাপ্ত হল। আওয়ামী প্রার্থী বিজয়ী ঘোষিত হল এবং গণতন্ত্রের শবযাত্রার মিছিল দীর্ঘতর হলো।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, অনির্বাচিত জনসমর্থনহীন এই স্বৈরতন্ত্রী সরকারের কাছে আবেদন-নিবেদন করে কিছু হবে না। জনগণের গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকারসহ ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যও গণআন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এবং হৃত অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোনে সামিল হই।

গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়কারী ও বাসদ (মার্কসবাদী)র কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সদস্য কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক এক যুক্ত বিবৃতিতে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, অনির্বাচিত জনসমর্থনহীন এই স্বৈরতন্ত্রী সরকারের কাছে আবেদন-নিবেদন করে কিছু হবে না। জনগণের গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকারসহ ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যও গণআন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এবং হৃত অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলনে সামিল হই।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে নির্বিঘেœ এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে গাজীপুর সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইতোপূর্বে খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে বিভিন্নভাবে এটাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও দেখা যাচ্ছে যে, এটাকে ‘রিট’ ইলেকশন অথবা নিয়ম বেনিয়মের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। ১৪ দলের শরিকরা যারা নির্বাচনে সামিল ছিলেন তাদের তরফ থেকে সুষ্পষ্ট বলতে চাই এই নির্বাচনে কোনো ব্যত্যয় হয়নি। তবে কিছু ঘটে থাকলে তা সাধারণভাবে কাউন্সিলদের ক্ষেত্রে ঘটেছে। এমনকি বিএনপিও ১০০টি কেন্দ্রের জালিয়াতির কথা বলেছে। তারাই বরঞ্চ অতীতে ভোট ডাকাতির যে উদাহরণ তৈরি করেছিলেন মাগুরা এবং ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ছিল জলন্ত প্রমাণ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত