প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়ান, সরকারের উদ্দেশ্যে রওশন এরশাদ

আসাদুজ্জামান সম্রাট : বিনিয়োগকারীদের পাশে দাড়াতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। তিনি বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকে বাচাতে চাইলে দেশে কর্মসংস্থান সৃস্টি করতে হবে। এর জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। দেশে অনেক শিল্পপতি রয়েছেন যারা এদেশেই বিনিয়োগ করতে চান। এ জন্য তারা জমি চান, ব্যাংক ঋণ চান, গ্যাস চান, বিদ্যুৎ চান, অনুকুল পরিবেশ চান। কিন্তু এসব চাওয়া পূরণের জন্য তাদের বছরের পর বছর পার হয়ে যায়। বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় অনেকে হয়রাণির শিকার হয়ে বিদেশে তাদের বিনিয়োগ করেন।

রওশন এরশাদ বলেন, এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। বিনিয়োগকারীদের পাশে দাড়াতে হবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী অথবা পরিকল্পনা মন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এই কমিটি বিনিয়োগকারীদের পাশে দাড়াবে। এ ক্ষেত্রে চিনকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে সুযোগ সৃস্টি করতে না পারলে দেশের টাকা বিদেশে চলে যাবে। অর্থ পাচার হবে। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃস্টি হবেনা। বেকারত্ব পাড়বে। আর বেকারত্ব বাড়লে সমাজে মাদক মহামারী আকারে রূপ নেবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে রওশন এরশাদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যা ১০ কোটি মানুষ কর্মক্ষম। তার মধ্যে ৫ কোটি মানুষের চাকরি আছে। মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে বেকারত্ব ঘূচাতে হবে। দেশের বেকারত্ব বাড়ার কারণে আজ ঘরে ঘরে মাদকের সংখ্যা বেড়েছে। শিল্প-প্রতিষ্ঠানের প্রসার ঘটানো মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সম্ভব। কারণ চীনে শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কারণে সেখানে মানুষের কর্মসংস্খার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাদের উদ্ভাবিত পণ্য আজ সারাবিশ্বে বাজারজাত হচ্ছে। বাংলাদেশেও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। তাহলে সন্ত্রাস ও মাদক বন্ধ হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করতে পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে না।

বিরোধীদলীয় নেতা প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশী দূতাবাস তাদের সক্ষমতা দেখিয়ে বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র তৈরি করেছেন, তা আমার জানা নেই। যদি তারা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে সক্ষম হতেন তাহলে রেমিটেন্সের মাধ্যমে দেশে উন্নতি ঘটতো। ব্যবসা বানিজ্যের প্রসার ঘটতো। রওশন এরশাদ বলেন, বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উত্থাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর পুরো কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের এটা শেষ বাজেট। বাজেটে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে।

রওশন এরশাদ বলেন, যে দেশ ছিলো তলাবিহীন ঝুড়ি। সেই দেশের বাজেট প্রনয়ন করা খুব কঠিন কাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী এই কঠিন কাজটি এক নাগারে করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী বাজেট বাস্তবায়নে দুরন্ত সাহস দেখিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, স্বীকার করতে হবে এই দেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তরুন প্রজন্মের মধ্যে অপর সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। সম্মৃদ্ধি এবং অগ্রগতির পথে দেশকে এগিয়ে নিতে এক নাগারে টানা ১০ টি বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস দেখিয়েছেন। এটা ইতিবাচক। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ট্রাম্পের রক্ষনশীল নীতির কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলেও আমাদের দেশ ক্রমাগত উন্নয়নের পথে হাটছে। অগ্রগতি হচ্ছে। প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। রেমিটেন্স আয় বাড়ছে। সম্মৃদ্দশালী দেশ গড়ার পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের বাজেটের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু বিশ্বব্যাংক বলেছে এই প্রবৃদ্ধির হার হবে ৭ শতাংশের নীচে হবে। বিশ্ব ব্যাংক যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তা সঠিক না।

পদ্মা সেতু নির্মানে দুদিন পর পর ব্যয় বৃদ্ধির সমালোচনা করে রওশন এরশাদ বলেন, এভাবে কিছু দিন পর পর ব্যয় বরাদ্দ বাড়ালে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন এবং সংশয়-সন্দেহ সৃস্টি হয়। বাজেট প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে পদ্মা রেলব্রিজ ও পদ্মাসেতু নির্মাণের ব্যয় সমন্বয় করে করা হলে সমস্যা কোথায় তা আমি বুঝি না। আগামীতে এসব বিষয়ে মনোযোগ দেয়া উচিত সরকারের তাহলে এসব বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে মানুষের মনে যে সংশয় দেখা দেয় তা আর থাকবে না। তিনি বলেন, ৩০ লাখ লোক আয়কর লিপিবদ্ধ থাকলেও কর দেন ১৩-১৪ লাখ লোক। দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১কোটি লোক আয় কর দিতে সক্ষম। কর আদায়ের আওতা বাড়ালে বিদেশী অর্থ সহায়তা না নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।

রওশন এরশাদ বলেন, দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এই তিনটি খাত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক খাত রয়েছে যেখানে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়। অথচ শিক্ষা জাতির মেরুদ- হওয়া সত্বেও এখাতে বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। শিক্ষা খাতে সমস্যা দুর করতে হবে। বার বার শিক্ষা পদ্ধতি বাতিলের প্রবনতা দুর করতে হবে। প্রশ্ন পত্র ফাঁস হচ্ছে। এটা যে কোনও মূল্যে বন্ধ করতে হবে। চিকিৎসকরা ঢাকার বাইরে থাকেননা। তারা যাতে ঢাকার বাইরে থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, রাস্তা ও সড়কের বেহাল অবস্থা। এই খাতের দিকে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বেশি মনোযোগ দেন এই বিষয়ে মাননীয় স্পিকার আপনার মাধ্যমে অনুরোধ জানাচ্ছি। আর বিদ্যুৎতের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎত খাতে ভতুর্কি কমানো যাচ্ছে না। অথচ এই খাতটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ। বিদ্যুৎতের বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তিকে কাজে লাগাতে পারি তাহলে বিদ্যুৎতের উপরে আমাদের যে নির্ভরশীলতা তা অনেকাংশে কমে আসবে। রওশন এরশাদ বলেন, নারীরা পিছিয়ে আছে। কারণ বাজেটে তাদের জন্য একটা বরাদ্ধ রাখা হচ্ছে। নারীদের কর্মসংস্থার বাড়াতে হবে। কাজের ক্ষেত্র ও পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। তাহলে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ