প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কবি সুফিয়া কামালের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী পালন

তরিকুল ইসলাম : সমাজপ্রগতি আন্দোলনের অগ্রপথিক মানবতার মৃন্ময়ী জননী কবি সুফিয়া কামালের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এ উপলক্ষে বুধবার বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে সুফিয়া কামাল স্মারক বক্তৃতা প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নারী ও কন্যা নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলনে তৃণমূলে ভূমিকা রাখায় দু’জন পুরুষ ব্যক্তিত্বকে সুফিয়া কামাল সম্মাননা প্রদান করা। জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তে এ বছর বিমল আগরওয়াল এবং জাহাঙ্গীর আলম এই সম্মাননা পান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম। ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলনে সামাজিক শক্তির ভূমিকা ও কবি সুফিয়া কামাল’ শীর্ষক স্মারকবক্তৃতা প্রদান করেন সাংবাদিক, কলামিস্ট লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম বলেন বাংলাদেশ মিহলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাতি কবি সুফিয়া কামাল যিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, সমাজ এবং রাষ্ট্র গড়ার আন্দোলনের একজন অগ্রদূত। যার মূল লক্ষ্য ছিল সামজের সকল প্রকার বৈষম্য দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠা করা। উপমহাদেশে উপনিবেশবাদ বিরোধেী আন্দোলন, বাঙ্গালী জাতি সত্তার বিকাশ ও আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলনে তিনি নিজেকে ধারন করেছেন।
তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য না হয়ে রাজনীতি সচেতন ছিলেন। সুফিয়া কামাল তারি পারিপার্শিকতা, প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। তাঁর বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চলবো।  তিনি অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে এগিয়ে গিয়েছেন কিন্তু আমাদের জন্য পথকে মসৃন করেছেন।  বর্তমানে সর্বত্র নারীরা বিচরণ করছেন, সুফিয়া কামালের মত ব্যাক্তিরাই এই পথ তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকটের নারীরা আজ যে সফলতা বয়ে এনছেন তা এই আন্দোলনেরই ফসল। কিন্তু তারপরও সমাজে আজ ঘটে চলছে নারীর প্রতি নানা ধরণের সহিংসতা। এই সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজে নারীর মনবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সকলে মিলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে । স্বাধীনতা উত্তোর বাংলাদেশে যে আইনগুলো হয়েছে তার সবগুলোতে নারী আন্দোলনের অবদান ছিল এবং আছে। নারী আন্দোলন দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক শিক্ষার আন্দোলন।
স্মারকবক্তৃতায় সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নারীর মর্যাদা রক্ষার সামাজিক আন্দোলন হতে হবে সম্পূর্ণ দলীয় রাজনীতি নিরপেক্ষ। নষ্ট দলীয় রাজনীতি সমাজকে বিভক্ত করে ফেলেছে। নারী নির্যাতন নির্মূলের পথে তা একটি বড় বাধা। মাদকের সঙ্গে নারী নির্যাতনের সম্পর্ক রয়েছে। পরিবারে মাদকাসক্তদের দ্বারা নারী নির্যাতিত হচ্ছে। সুতরাং নারীর নিরাপত্তার জন্যে মাদকমুক্ত সমাজ চাই। তাই নাগরিক সমাজকে মাদকের বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে হবে।
বেগম সুফিয়া কামাল বলেছেন, ‘মেয়েদের স্বাধীনতা কেউ দিয়ে দেবে না, আদায় করে নিতে হবে।’ তাঁর কথার প্রতিধ্বনি করে বলব, নারীর নিরাপত্তার ব্যবস্থাও নারীকেই করতে হবে, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন পুরুষের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তা তারা পাবেও। প্রয়োজন শক্ত উদ্যোগ ও প্রতিবাদী হওয়া। বেগম সুফিয়া কামালের জীবন ও কর্ম থেকে আমরা সেই শিক্ষাই পাই। তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত