প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

শেরপুরে নব্য জেএমবি জঙ্গি কাশেমের কারাদণ্ড

তপু সরকার হারুন, শেরপুর: শেরপুরে চাঞ্চল্যকর বিস্ফোরক মামলায় জেএমবি জঙ্গি আবুল কাশেম ওরফে আবু মোসাব (২২) এর ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ২৭ জুন বুধবার দুপুরে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এম.এ নূর জনাকীর্ণ আদালতে ওই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত কাশেম নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের হুজুরীকান্দা গ্রামের মৃত ছাফিল উদ্দিনের ছেলে ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত পিপি এডভোকেট অরুণ কুমার সিংহ রায় ওই সাজার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রায়ে আবুল কাশেম ওরফে আবু মোসাবকে বিস্ফোরক আইনের ৪ ধারায় ১৪ বছর ও ৫ ধারায় ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ উভয় ধারায় ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। উভয় ধারার সাজা পর্যায়ক্রমে চলবে বিধায় কাশেমকে ২১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তিনি ওই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে ওই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম ও এডভোকেট এমকে মুরাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রায়ের কপি পেলে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

এদিকে ওই মামলার রায়কে ঘিরে আদালত অঙ্গনে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া জেলা কারাগার থেকে আবুল কাশেমকে আদালতে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও থাকে একই ধরনের ব্যবস্থাসহ বাড়ানো হয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারী।
আদালত সূত্র জানায়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর রাতে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা বাজারে জঙ্গিদের বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পদার্থের গোডাউনের সন্ধান এবং ওই গোডাউন থেকে নাইট্রিক এসিড, সালফারিক এসিড, ক্লোরোফর্ম ও ডাইক্লোমেথিনসহ বিস্ফোরক তৈরির প্রায় ৬শ লিটারের বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক তরল পদার্থ উদ্ধার করে পুলিশ।

তৎকালীন পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গনির নেতৃত্বে জেলা পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা ও নজরদারির কারণেই ওই অভিযানটি সফল হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ বিভাগের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝিসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে ওই ঘটনায় ৭ অক্টোবর নকলা থানায় গোডাউনের ভাড়াটে আবুল কাশেম (২২) ও ফয়েজ উদ্দিন (৩৩) এবং মালিক মিনারা বেগম (৩২)সহ স্বনামে ৩ জন ও অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজন জঙ্গীকে আসামী করে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪/৫/৬ ধারায় একটি মামলা রেকর্ড হয়। ওই মামলায় পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার হয় প্রধান আসামী আবুল কাশেমসহ সকল আসামী।

পরবর্তীতে আদালতে আবুল কাশেম জঙ্গি কানেকশনে নাশকতার উদ্দেশ্যে ওই রাসায়নিক পদার্থ নিজের হেফাজতে মজুদ করেছিল বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আমিনুর রহমান তদন্ত শেষে একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর একমাত্র আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এক পর্যায়ে কাকতালীয়ভাবে আবুল কাশেম জামিনে বেরিয়ে গেলেও ফের গ্রেফতার হয়ে ওই মামলায় হাজতে যায়। চলতি বছরের ৮ মার্চ ওই মামলায় আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর বিচারিক পর্যায়ে সংবাদদাতা বাদী, ম্যাজিস্ট্রেট ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞসহ ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ২০-২১ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানী করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত