প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই’

সারোয়ার জাহান : সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে এখনও কোনো অগ্রগতি নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মাদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, কোটা বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কোটা সংস্কার সংক্রান্ত কমিটির যে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।

গেল ৯ মে কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ মোহাম্মদ শফিউল আলমকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়। সেই সময় গণমাধ্যমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কিন্তু এ প্রস্তাবের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশ পেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপন জারির কথা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো নির্দেশনা এখন পর্যন্ত আসে নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা কমিটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাইনি।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে যে কমিটির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে তা অনুমোদন পায়নি। ফলে এখনো ঐ কমিটির প্রজ্ঞাপন জারি সম্ভব হয়নি। এজন্য এ কমিটি এখন দৃশ্যত অকাযকর। ফলে কোটা নিয়ে কাজ করার মতো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ফরমেট এখনো দাঁড়ায়নি।

কতদিন নাগাদ কোটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে – এমন প্রশ্নের জবাবে কোটা সংস্কারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ) আরো বলেন, ‘ধরে নিন আগামী দুই মাসেও কিছু হবে না। কারণ কমিটি করার ক্ষেত্রে কোটা বিষয়ে ভাল বোঝেন এমন অফিসারেরও অভাব রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।’

‘কোটা সংস্কার বা বাতিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তাব দেওয়ার মতো যোগ্য লোক পেলেই হয়তো কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত।’

সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলন ঘিরে মাস দুয়েক আগেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার ইস্যু।

তবে কোটা সংস্কার নিয়ে বতমানে কার্যত দায়িত্বশূণ্য অবস্থায় আছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। দেশের প্রায় সব কয়টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের লাগাতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই সময় তিনি বলেছিলেন, কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের ‘অন্যভাবে’ চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, তারা কোটা সংস্কার চান (৫৬ ভাগ থেকে ১০ ভাগে নামিয়ে আনা) তবে কোটা বাতিল নয়।

বিশিষ্টজনরাও কোটা একেবারেই বাতিল নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছেন।

সেসময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৮তম একটি বৈঠকে কমিটির সদস্য কেউ কেউ কোটা সম্পূর্ণ বাতিল না করে সংস্কারের পক্ষে মত দেন। যদিও অনেকে সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেন।

কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিফুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, খোরশেদ আরা হক এবং জয়া সেন গুপ্তাসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণার আগেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোটা সংস্কার নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময়ও ওই কমিটি কোনো কাজে আসেনি। পরবর্তীতে সেই কমিটি বাতিল করে আবার নতুন কমিটির তালিকাসহ একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।

বর্তমানে সেই কমিটির প্রজ্ঞাপন আজও জারি করতে পারেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো: দৌলতুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন আপাতত আমাদের আর কিছু করার নেই। আমরা কমিটির প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের। সেখান থেকে নির্দেশনা আসলে আমরা একটি প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারি।’

এদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান বলেন, ‘কোটা বিষয়ে আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ বসে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছিলাম। সেই আলোকে একটি কমিটির প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল।’

‘তবে আমাদের সেই প্রস্তাবনায় কোটা বাতিল হবে নাকি সংস্কার হবে সেই বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ ছিল না। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।’ -পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত