প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প
আমতলীর লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে

মোঃ জয়নুল আবেদীন,আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া, হলদিয়া, কুকুয়া, সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার উপরদিয়ে প্রবাহিত ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২০০ মিটার প্রস্থ চাওড়া- সুবন্দি বদ্ধ নদী কচুরীপানায় ভরপুর হয়ে গেছে। পানি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হওয়ায় চার ইউনিয়ন ও পৌরসভার লাখো মানুষ দুর্ভোগে পরেছে। এ চাওড়া-সুবন্দি নদীর পানি নিষ্কাশন ও কচুরীপানা অপসারনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫০ কোটি টাকা ডিপিপি (ডকুমেন্ট অফ প্রজেক্ট প্রফর্মা) জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আমতলী উপজেলার লক্ষাধীক মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে জানান এলাকাবাসী।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে, ১৯৮২ সালে আমতলীর চাওড়া ও পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনের হাত থেকে আমতলী শহরকে রক্ষায় সংযোগস্থল চৌরাস্তায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ করে। কালের বিবর্তনে চাওড়া নদী মরা নদীতে পরিনত হয়। ত্রিভুজ আকৃতির ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২০০ মিটার প্রস্থ এ নদীটি উপজেলার হলদিয়া, কুকুয়া, চাওড়া, আমতলী সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার ২৫টি গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত। নদীর ভৌগলিক অবস্থানের কারণে সুবন্দি অংশে রামনাবাঁধ নদী, ঘুঘুমারী অংশে টিয়াখালী ও আমতলীর অংশে পায়রা নদীর সাথে সংযোগ রয়েছে। প্রাকৃতিক জলোচ্ছাস ও লবনাক্ততার হাত থেকে মানুষ ও সম্পদ রক্ষায় ২০০৯ সালে বামনাবাঁধ নদীর একাংশ সুবন্দি নামক স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ করে। চাওড়া ও সবন্দি নদীর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৫ সালে দু’ব্যান্ডের স্লুইজ নির্মাণ করেছে।

এদিকে ১৯৬৭ সালে জুলেখা খালে পাঁচ কপাট ও উত্তর টিয়াখালী খালে পাঁচ কপাট এবং ঘুঘুমারিতে এক কপাটের স্লুইজ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সুবন্দির তিনটি জলকপাট থেকে পানি নিষ্কাশনের কারণে নদীর ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পানি’র স্বাভাবিক প্রবাহ রয়েছে। জুলেখা, উত্তর টিয়াখালী ও ঘুঘুমারি খালের জল কপাট বন্ধ করে একটি প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করে আসছে। এছাড়াও জুলেখার স্লুইজ খালের লক্ষী নামক স্থানে তিনটি বাঁধ, উত্তর টিয়াখালী স্লুইজের আউরা বৈরাগী নামক স্থানে বাঁধসহ খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে রেখেছে।

অপরদিকে নদীর সংলগ্ন লক্ষী, নাচনাপাড়া, আমতলী খালসহ ১০টি খাল প্রভাবশালীরা অবৈধ ভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ এবং খাল দখল করে স্থায়ী বাড়ী ঘর নির্মাণ করছে। এতে নদীর পশ্চিম, দক্ষিণ ও পুর্ব দিকের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে ১৫ কিলোমিটারের কচুরীপানা আটকে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। নদীর দু’পাড়ের মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছে না। কচুরীপানার কারণে পানি নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষিত হয়ে মারাত্ত্বক আকার ধারন করেছে। ওই খালের পানি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পরেছে। এ খালের দু’পাড়ের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জনদুর্ভোগে পরিনত হয়েছে। ফলে খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরন ও অবৈধ দখল খাল মুক্ত করার দাবীতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে ৪ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার লাখো মানুষ।

এ চাওড়া নদীর পানি নিষ্কাশন ও কচুরীপানা অপসারনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫০ কোটি টাকা ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় জমা দিয়েছে। এ প্রকল্পের মধ্যে লোচা খালে ৫ ব্যান্ডের স্লুইজ, সোনাগজা ৩ ব্যান্ডের স্লুইজ, সেনের হাট ২ ব্যান্ডের স্লুইজ ও পূর্বচিলা ২ ব্যান্ডের স্লুইজ নির্মাণ, ছুরিকাটা মহাসড়, হলদিয়া বাজার সংলগ্ন, বলইবুনিয়া খালের গোড়ায়, লক্ষিরখালের গোড়ায়, চন্দ্রাপাতাকাটা ও কাউনিয়া বাঁধসহ ১০ টি স্থানে কালভার্ট নির্মাণ, পশ্চিম ঘটখালী ও কৃষ্ণনগর ২ টি আইটলেট নির্মাণ,৪০ কিলোমিটার খাল খনন এবং কচুরীপানা উত্তোলনের মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের মোঃ বশির উদ্দিন বাদল মৃধা বলেন,মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরী ভিত্তিতে কচুরীপানা অপসারন করা দরকার। তিনি আরও বলেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা খালে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এ বন্ধ খালগুলোর বাঁধ কেটে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবী জানাই।

চাওড়া কাউনিয়া গ্রামের জিয়া উদ্দিন জুয়েল জানান, খালের কচুরীপানা জমে পানি নষ্ট হয়ে গেছে। এ পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দুর্গন্ধে পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। অতিদ্রুত কচুরীপানা অপসারনের দাবী জানাই।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ শাহ আলম বলেন, সুবন্দি খালের সমস্যা লাঘবে ৪টি স্লুইজ, ১০ টি কালভার্ট, ২টি আউটলেট নির্মাণ, ৪০ কিলোমিটার খাল খনন ও কচুরীপানা অপসারনে প্রকল্প দেয়া হয়েছে।

আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, চাওড়া সুবন্দি খালের পানি প্রবাহের জন্য যে প্রকল্প দেয়া হয়েছে তা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন,খালের শাখা প্রশাখার বাঁধগুলো কেঁটে স্লুইজ ও কালভার্ট নির্মাণ করে নৌ পরিবহন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সভাপতি জিএম দেলওয়ার হোসেন বলেন, চাওড়া সুবন্ধি খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে প্রকল্প দিয়েছে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানাই।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান বলেন, সুবন্ধি খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিত ও কচুরীপানা অপসারনে ৫০ কোটি টাকা ডিপিপি তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় জমা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুবন্ধির খালের পাড়ের লাখো মানুষ উপকৃত হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত