প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গাজীপুরে পূণরায় নির্বাচনের দাবি বিএনপির

শিমুল মাহমুদ: গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পূণরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বুধবার (২৭জুন) সকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন এর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি জানান।

তিনি বলেন, আমারা এই ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। খুলনায় নতুন কৌশলে ভোট ডাকাতি করে তারই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাজীপুরের নির্বাচনে আর এক কলংকময় অধ্যয় সংযোজন করলো। আমরা (বিএনপি) গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পূণরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানাচ্ছি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার আবার প্রমাণ করলো করলো তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও নির্লজ্জভাবে একের পর এক নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে সকল নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে ।

তিনি বলেন, জনগণের আশা আকাঙ্খাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে স্বৈরাচার এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সমাহিত করছে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ভোটার বিহীন প্রহসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হতেই ধারাবাহিকভাবে প্রায় প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নজীর বিহীন ভোট ডাকাতির মধ্যদিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে এবং প্রমান করেছে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধীনর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিলের ফলে আওয়ামী সরকারের অধীনে নির্বাচন কখনই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিচ্ছে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই গণগ্রেফতার, সাদা পোশাকের পুলিশ দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, ভাঙচুর, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকতে না দেওয়া, নির্বাচনের আগের রাত হতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে নৌকায় সীল মেরে ব্যালট বাক্স বোঝাই করা, নির্বাচনের দিন এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের প্রার্থী ও দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে ক্রমাগত অভিযোগ করলেও নির্বাচন কমিশন কোন কিছুই আমলে নেয়নি। বিশেষ করে গাজীপুরের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব ও নির্যাতনের বিষয়ে বার বার অভিযোগ করেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন তাদের নিজেদের আইন কখনই প্রয়োগ করে নাই। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় সরকার গাজীপুরে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা রাষ্ট্রের সকল যন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। এই নির্বাচন নির্বাচনের নামে শুধুমাত্র একটি তামাশা হয়েছে। ভোট ডাকাতির নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করে তা প্রয়োগ করেছে।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, আমরা জনগণের ভোটাধিকার মানবাধিকার সংরক্ষণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মুক্তগণ মাধ্যম ও সুশাসনের জন্য দীর্ঘকাল সংগ্রাম করছি। সরকারের নির্যাতন দমন নীতি খুন, গুম, মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার এমন কি মিথ্যা মামলায় গণতন্ত্রের জন্যে যিনি সারা রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম করেছেন, জনগণের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে ৩ বার প্রধানমন্ত্রী, এবং ২ বার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁকে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে কারাগারে আটক রেখে বাংলাদেশকে একটি স্বীকৃত স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের এই নিলর্জ্জ গণবিরোধী চরিত্র উন্মোচনের জন্য এবং গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা স্থানীয় সরকার গুলোতে অংশ নিচ্ছি উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসাবে। আসন্ন বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনগুলোতে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি একই কারণে। এই জনবিচ্ছিন্ন সরকারের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন, নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা ও পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হচ্ছে এই নির্বাচন গুলোর মধ্য দিয়ে। আমরা বিশ্বাস করি গণতন্ত্র পূণুরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির জাতীয় ঐক্যের মধ্যদিয়ে গণবিরোধী স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠবে এবং ভোট ডাকাত গণবিরোধী এই সরকারকে পরাজিত করে নিরপক্ষে সরকারের অধীনে যোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।

ফখরুল বলেন, আমরা অবিলম্বে গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি এবং আসন্ন নির্বাচন গুলোতে নির্বাচন কমিশনকে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য এবং জনগণকে এই ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

বিএনপির এই মূখ্য পাত্র আরও অভিযোগ করে বলেন, গতকাল গণমাধ্যমে গ্রেফতারকৃত মেজর (অব) মিজানুর রহমান সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত মিথ্যা প্রচারণা শুরু করেছে এবং বাইরের প্ররোচনার কথা বলা হচ্ছে। মেজর মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের নীল নকংসার অংশ হিসেবে। আমরা এই চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে মেজর মিজানকে মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ।

সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ, ড. অাবদুল মঈন খান, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, বিএনপি প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শহীদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ