প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তারা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ জড়িত: অ্যামনেস্টি

সান্দ্রা নন্দিনী: মিয়ানমারের আরাকানরাজ্যে অত্যন্ত ‘পরিকল্পিতভাবে’ রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাপ্রধান ও অন্যান্য কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত ১৮৬ পৃষ্ঠার নতুন এক প্রতিবেদনে এতথ্য তুলে ধরা হয়। বুধবার এ অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলারও আহবান জানায় সংস্থাটি।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে আরাকানে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলিম গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। এতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ একে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছে।
যদিও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভূমিহীন সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়। তাদের দাবি, মুসলিম বিদ্রোহীদের আক্রমণ থেকে নিজেদের বাঁচাতেই আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলো তারা।

অ্যামনেস্টি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, মিয়ানমার আর্মি কমান্ডার অব চিফ মিন অং হ্লাইং এবং আরও ১২ উচ্চপদস্থ সেনা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের ওপর সংগঠিত পুরো অভিযানটি তত্ত্বাবধান করে। আর রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন চালানো হয় অত্যন্ত অমানবিক ও সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায়। তাদের নিষ্ঠুরতা থেকে নারী-শিশু কেউই বাদ যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্মম অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। নারীদের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয় এমনকি শিশুদেরকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। এছাড়া, হাজার হাজার ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট পুড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে গৃহহীন হতে বাধ্য করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, এত ব্যাপক মানবতারবিরোধী অপরাধের বিচার কেবল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেই হওয়ার দাবি রাখে।
অন্যদিকে, সোমবার রোহিঙ্গা নির্যাতন ও গণহত্যায় অভিযুক্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জেনারেল মং মং সোয়েকে বরখাস্ত করেছে মিয়ানমার সরকার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কানাডা দেশটির রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা নিধনে জড়িত থাকার অভিযোগে সাত সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরই বরখাস্ত করা হয় সোয়েকে। তিনি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকারী সেনাদের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

তবে, দেশটির সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাং তার ফেসবুক পোস্টে সোয়েকে বরখাস্তের কারণ হিসেবে রোহিঙ্গা নিধনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। সেনাপ্রধান ফেসবুকে জানিয়েছেন, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রাখাইনে পুলিশের চেকপোস্টে সশস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ‘দুর্বলতার’ কারণে বরখাস্ত করা হয়েছে মং মং সোয়েকে। ওয়াশিংটন পোস্ট, ইয়ন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত