প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গাজীপুর সিটি নির্বাচন
সুষ্ঠু হওয়ার পাল্লাই ভারি

মাসুদা ভাট্টি, গাজীপুর থেকে ফিরে: প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কোনো রকম অনিয়ম এবং দুর্ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে টানা বিকেল চারটে পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। বিপুল সংখ্যক ভোটার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিকে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন এবং নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। সরেজমিনে নির্বাচনী এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, মোট সাতটি কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচন কমিশনে ভোটকেন্দ্র বন্ধের কারণ উল্লেখ করে তাৎক্ষণিক চিঠিও দেওয়া হয়েছে বলে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে জানা যায়। তবে অনুসন্ধানে জানা যায় যে, টঙ্গি এলাকার সাতাশ স্কুল এলাকায় তিনটি ভোটকেন্দ্রে কমিশনার প্রার্থীদের মধ্যেকার গন্ডগোলের সূত্র ধরে খরতৈল মনসুর আলী বিদ্যালয় কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিকেল তিনটার একটু আগে সেখানে গিয়ে দেখা যায় যে, বিপুল সংখ্যক ভোটার হাতে ভোটার আইডি কার্ড হাতে নিয়ে কেন তারা ভোট দিতে পারলেন না সে প্রশ্ন তুলছেন। জানা যায় যে, সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে কমিশনার প্রার্থীদের মধ্যে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা শুরু হলে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেন। মোট পাঁচ হাজার ভোটারের এই কেন্দ্রটি একটি শুধুমাত্র পুরুষ ভোটকেন্দ্র।

অপরদিকে বাকি যে ছয়টি ভোটকেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে সেখান থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ভোটকেন্দ্রে মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে কোনো অনিয়ম করার চেষ্টা করা হয়েছিল কিনা জানতে চাওয়া হলে উপস্থিত ভোটাদের প্রায় সকলেই একথা জোর দিয়ে বলেন যে, মেয়র প্রার্থীদের সেখানে কোনো ভ’মিকা নেই। মূলতঃ সরকারি দলের বিদ্রোহী কমিশনারপ্রার্থী ও দায়িত্বরত কমিশনারদের মধ্যেকার দ্বন্দ্বেই কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোট ১৭ হাজারের কিছু ভোট এই সাতটি কেন্দ্রে রয়েছে।

দুপুর একটার দিকে বিএনপি মেয়রপ্রার্থী হাসানুদ্দিন সরকারের পক্ষ থেকে ১০০ কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বন্ধের আবেদন করা হয় নির্বাচন কমিশনারের কাছে। কিন্তু তার পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রের নামোল্লেখ করা হয়নি বলেও জানা যায়। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর কোনো এজেন্ট না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করার পরও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। কিন্তু যে সকল কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন তাদের কাছে এই প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, কোনো রকম বাধাবিঘ্ন ছাড়াই তারা দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন।

আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভাবনীয় উপস্থিতিতে দিনভর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ছিল জমজমাট। দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যম এবং বিপুল সংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং অনেক কেন্দ্র থেকেই টেলিভিশন চ্যানেলগুলি লাইভ সংবাদ প্রচার করে। কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেয়া তথ্যমতে, কোনো কেন্দ্রেই সন্ত্রাসী বা ব্যালটবাক্স ছিনতাই-এর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো ধরনের ভাঙচুর কিংবা পুলিশি এ্যাকশনের খবর পাওয়া যায়নি। তবে টঙ্গি এলাকার সাতাশ স্কুলের আশেপাশে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করলে পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দেয়।

বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ বিষয়ে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হলে গাজীপুর শহরের কয়েকজন ভোটার বলেন, বিএনপি’র পক্ষ থেকে শুরু থেকেই অভিযোগ তুলে পুরো নির্বাচনটাকেই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আজকে যদি কোনো অনিয়ম হয়েও থাকে তাহলে কেউ তাদেরকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না। অনেক ভোটারকেই গাজীপুরে বড় দুই দলের প্রার্থীদের বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলতে শোনা গেছে যে, বিএনপি এই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার প্রার্থী দেয়নি। হারার জন্যই হাসান সরকারের মতো একজন বয়স্ক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাছাড়া গাজীপুরে বিএনপি’র পক্ষ থেকে প্রচারণাও তেমন চালানো হয়নি বলে ভোটাররা অভিযোগ করেন। কেউ কেউ একথাও বলেন যে, যদি অসুস্থতার অভিযোগে সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নানকে প্রার্থী না করা হয়ে থাকে তাহলে হাসান সরকারকে কেন করা হলো? হাসান সরকারতো ভোট দিতেও এসেছেন আরো দু’জন মানুষের সহযোগিতা নিয়ে। অপরদিকে সরকারি দলের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় কাজ করছেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের একটি সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন বলে তার সমর্থকরা জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত