প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

আমরাও কি আরো এগিয়ে যাবো…

নাসিমা খান মন্টি : ২০১৭-১৮ কি বিশ্ব নারী জাগরণের? এই দুই বছরে বিভিন্ন দেশের নারীরা তাদের অধিকার দাবিতে বেশ সক্রিয়তা ও সফলতা দেখিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজেদের সাথে ঘটে যাওয়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেছে, যা এতদিন ভয়ে বা লজ্জায় প্রকাশ করতে পারছিলো না। আন্তর্জাতিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘#মিটু’ নামে একটি বৈশ্বিক গণজোয়ারে নারীরা তাদের উপর ঘটে যাওয়া সকল ধরনের নির্যাতনের কথা লিখছে। এই অভিযোগগুলো বেশিরভাগই আসে নিজেদের বস বা ঊর্ধ্বতন পুরুষ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে আমেরিকার বিখ্যাত ফিল্ম প্রডিউসার হার্ভে উইনস্টাইন অন্যতম। তার বিরুদ্ধে ৮০ জন নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনেন।

এই অভিযোগগুলোর পরই হার্ভেকে তার কোম্পানি ও ‘একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সাইন্স’ থেকে বহিষ্কার করা হয় ও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর পরই দেশে দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারীরা নির্ভয়ে তাদের উপর চলা সকল অন্যায় অত্যাচারের কথা প্রকাশ করতে থাকে। প্রসঙ্গত, গত বছরের টাইম ম্যাগাজিনের পারসন অব দ্য ইয়ার হয় ‘#মিটু’ আন্দোলনের নারীরা।

এদিকে সৌদি নারীরাও কয়েক ধাপ এগিয়ে গেল এ বছর। যা হয়তো আমরা চিন্তাও করতে পারিনি এই কিছুদিন আগেও। দেশটির নতুন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতা গ্রহণের পরই দেশটিতে নারীবিরোধী কয়েকটি আইন পরিবর্তন করেছেন। নারীদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সৌদি সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স। এরই মধ্যে স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারা, আর গত ২৩ জুন মধ্যরাত থেকে গাড়ি চালানোর অনুমতি পেয়েছে নারীরা। আশা করা হচ্ছে সৌদি নারীদের আরো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে দেশটিতে যেগুলোরও পরিবর্তন হবে শিগগিরই। ইরানের নারীরাও স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারবে। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা স্টেডিয়ামে বসে দেখার মাধ্যমে নারীদের এই নিষেধাজ্ঞার অবসান করলো দেশটির সরকার ।

আর একটি বড় ঘটনা হলো এবারের মিস আমেরিকা প্রতিযোগিতা থেকে হাই হিল ও সুইমিং স্যুট পর্বটি বাদ দেয়া। অর্থাৎ, প্রতিযোগীদের আর বিকিনি পরে স্টেজে হাঁটতে হবে না। এই পর্বটির জায়গায় প্রতিযোগীরা বিচারকদের সাথে সরাসরি কথপোকথন করবেন এবং নিজের আগ্রহ-ইচ্ছা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলবেন। এই পর্বে নিজেদের পছন্দের পোশাক পরবেন প্রতিযোগীরা। নারীদের শারীরিক প্রদর্শনীকে অসম্মানজনক মনে করেন মিস আমেরিকার ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান কার্লসন। তিনি বলেন, আমরা নারীর ক্ষমতায়ন, নেতৃত্বদানের যোগ্যতাসহ শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে নারীদের ভিতরের মানুষটাকে জাগিয়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চাই।

বর্তমানে বিশ্বে ১৯টি দেশে নির্বাচিত প্রধান ব্যক্তি নারী। এছাড়া বর্তমানে ১০টি দেশের সংসদে নারী সদস্য সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি। উল্লেখ্য, বিশ্বে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী প্রতিনিধিদের সংখ্যায় প্রথম স্থানে রয়েছে রুয়ান্ডা যেখানে আইন-সভায় ৬১.৩ শতাংশ ও দ্বিতীয় স্থানে বলিভিয়ায় ৫১.১ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছে। বিশ্বে ১৯৫ দেশের মধ্যে এই সংখ্যাটি যদিও একেবারেই সামান্য তবুও এর শুরুটা যে হয়েছে এতেই আমরা কিছুটা খুশি হতে পারি। খুব ধীর গতি হলেও নারী নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। সূত্র: ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন

এই জাগরণের সাথে বাংলাদেশের নারীরা কতটুকু এগিয়ে গেছে বা যাবে? নারী জাগরণের এই ঢেউয়ের সাথে কি আমরাও আর একটু এগিয়ে যেতে পারি না। বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতন, নারী পাচার, বাসে হেনস্থা ও ধর্ষণের চেষ্টা, রাস্তায় একা পেলেই টিজ করা। এইগুলোর বিরুদ্ধে কি এমন কিছু করা যায় না, যেন আর এই সব করার কথা মনেও আনতে পারবে না কেউ।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক,আমাদের অর্থনীতি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত