প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুই মাস রেকি করে হত্যা করা হয় প্রকাশক বাচ্চুকে

ডেস্ক রিপোর্ট: জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যরা দুই মাস রেকি করে মুক্তমনা লেখক, ব্লগার ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পূর্ব কাকালদি গ্রামের মুন্সীগঞ্জ-শ্রীনগর সড়কে হত্যা করে। ঘটনায় জড়িত আনসার আল ইসলামের সদস্য আব্দুর রহমান ওরফে লালু, ওরফে আক্কাস, ওরফে কাউছারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ টিম। গত ২৪ জুন গাজীপুরে সন্ধান পাওয়া জঙ্গি আস্তানার সূত্র ধরেই শাহজাহান বাচ্চুর হত্যার রহস্য উদঘটন হয়েছে। গ্রেফতারকৃত জঙ্গি আব্দুর রহমানও পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, শাহজাহান বাচ্চু ইসলাম ধর্মকে অবমাননা ও কটূক্তি করে লেখালেখি করতো। এ কারণে আনসার আল ইসলাম তাকে টার্গেট করেন। কিভাবে হত্যা করা হবে তার ছক কষতে দুই মাস রেকি করা হয়। পরে তাকে হত্যা করে এলাকা থেকে গাজীপুরে গিয়ে নতুন আস্তানায় ওঠে জঙ্গিরা।

জঙ্গি আব্দুর রহমানের বাবার নাম হোসেন আলী। পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ঢাকাইয়াপাড়া তার গ্রামের বাড়ি। শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যা করতে সিরাজদিখানে বাসা ভাড়া নেয় আব্দুর রহমান। এ হত্যাকাণ্ডে তার আরো দুই জন সহযোগী আছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলেছে, তারা তিন জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে। জঙ্গি আস্তানা থেকে আব্দুর রহমানকে গ্রেফতারকালে সেখান থেকে দুইটি অস্ত্র, চারটি গ্রেনেড, ২১ রাউন্ড গুলি ও দুইটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ দল ঘটনার দুই সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চু হত্যার রহস্য, জড়িত জঙ্গিদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র, গুলি ও গ্রেনেড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

২০১৩ সাল থেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম টার্গেট করে ব্লগার, মুক্তচিন্তার লেখক-প্রকাশক ও কথিত নাস্তিকদের হত্যা করে আসছে। যদিও আগের হত্যাকাণ্ডগুলোতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যেতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নজিরও রয়েছে তাদের। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এর নতুন নাম আনসার আল ইসলাম। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি শাহজাহান বাচ্চুর হত্যার ছায়া তদন্ত করছে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট- সিটিটিসি ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান- র্যাব। র্যাব ইতোমধ্যে আশপাশের সড়কগুলো থেকে সিসিটিভি থেকে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহীদের ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছে।

শাহজাহান বাচ্চুর লেখালেখির ধরন বা প্রোফাইল থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আগেই ধরেই নিয়েছিল যে, সে আনসার আল ইসলাম টার্গেটের শিকার হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১১ জুন বিকালে একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন শাহজাহান বাচ্চু। পরবর্তীতে তিনি পূর্ব কাকালদির একটি ওষুধের দোকানে গিয়ে সময় কাটাতে থাকেন। ইফতারির কিছু সময় আগে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন যুবক এসে সড়কে বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং বাচ্চুকে দোকান থেকে বের করে গুলি করে হত্যার পর চলে যায়। লেখালেখির কারণে তাকে টেলিফোনে বহুবার হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। জঙ্গিদের হিটলিস্টেও শাহজাহান বাচ্চু ছিলেন।

কয়েক বছর আগে পুরান ঢাকার বাংলাবাজারের বিশাকা প্রকাশনার মালিকানা বিক্রি করে গ্রামের বাড়িতে চলে যান প্রকাশক বাচ্চু। মাস ছয়েক আগে তেঁতুলিয়ার বাড়ি বিক্রি করে নিজ বাড়িতে বসবাসের জন্য দুটি কক্ষের একতলা একটি বিল্ডিং তৈরি করেন। কিন্তু এই ঘরটিতে থাকা হয়নি তার। বাচ্চুর মেয়ে আচল জাহান বলেন, বাবা মুক্তমনা ব্লগ ও ফেসবুকে লেখালেখি করত। সেই সূত্রে বাবার সঙ্গে নিহত ব্লগার অভিজিত্, নিলয় ও আশিকুর রহমান বাবুর সম্পর্ক ছিল। বাবার লেখালেখির কারণে জঙ্গিরা বিভিন্ন সময় ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ও ব্লগে হুমকি দিতো। তাছাড়া বহুবার ফোন করেও হুমকি দিয়েছে যে, লেখালেখি বন্ধ না করলে তোকে ও তোর সন্তান, স্ত্রীদের হত্যা করা হবে। সূত্র: ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত