প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘পুলিশকে টাকা না দিলে দোকান করা যায় না’

নিজস্ব প্রতিবেদক :  তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার বেশির ভাগ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রিকশার গ্যারেজ গড়ে তোলা হয়েছে। নাবিস্কো মোড়, বটতলা, বলাকা মোড়, নূরানী, প্রগতি মোড়, পেপসি রোডসহ আশপাশের সড়ক ও ফুটপাতে এ সমস্যা বেশি। প্রতিদিন এসব সড়কে রাখা হচ্ছে হাজার হাজার রিকশা। আগে রাতে রিকশা রাখা হলেও এখন দিনেও রাখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে এসব রিকশা থেকে পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা চাঁদা উঠায়। রয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। ফুটপাতে দোকানপাটও গড়ে তোলা হয়েছে।

এতে সড়কগুলো হয়ে পড়ছে সঙ্কুচিত। ঘটছে বিভিন্ন দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা বলছে, এসব রিকশা গ্যারেজের স্থান দখল নিয়ে প্রায়ই বিবাদের সৃষ্টি হয়। মাঝে মধ্যে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও কয়েক দিন পর আবার দখল হয়ে যায়। গভীর রাতে এসব রিকশার গ্যারেজে মাদকসেবীরা আখড়া গড়ে তোলে। স্থানীয় লোকজন সন্ধ্যা হলে চরম আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করেন। খবর যুগান্তর’র।

শুধু গ্যারেজ, দোকান নয় অনেক সড়কের ওপর রয়েছে রাজনৈতিক কার্যালয়। কোথাও অস্থায়ী আবার কোথাও স্থায়ী কার্যালয় করা হয়েছে। বলাকার মোড়ে সড়কের ওপর রিকশার গ্যারেজের পাশাপাশি রয়েছে খাবারের হোটেল, চায়ের দোকান ও সেলুনসহ বিভিন্ন দোকানপাট। বলাকার মোড়ে জাকির নামে এক ব্যক্তির দু’টি দোকান রয়েছে। তিনি একটি ভাড়া দিয়েছেন। অন্যটি নিজে চালান। জাকির বলেন, আমি এখানে বহু বছর ধরে দোকান করি। আমরা সবাই এখানকার ভোটার। এখানকার রাজনীতি করি। তাই আমরা দোকান নিয়েছি। বলাকার মোড়ে চাঁদা তোলেন মোস্তফা নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। আমাকে তুলতে বলে তাই তুলে দেই। এসব টাকা নেয় পুলিশের গাড়িচালক শরিফুল ও মজিদ। স্থানীয় এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশকে টাকা না দিলে দোকান করা যায় না।

হাফিজুল নামে অন্য এক দোকানদার বলেন, আমি এখানে দোকান করি। আমাকে টাকা তোলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এতে আমার টাকা দেয়া লাগে না। এর বেশি কিছু জানি না। প্রগতির মোড়েও রয়েছে একাধিক দোকানপাট ও রিকশার গ্যারেজ। রয়েছে বেশ কিছু ভাঙ্গারি দোকান। এসব দোকানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। প্রতি দোকান থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা নেয়া হয়। একই চিত্র শিল্পাঞ্চল এলাকার চিনা ফ্যাক্টরি মোড়, বিদ্যুৎ অফিস রোড, বিটাক রোড, লতিফ ছাত্রাবাস রোড দীপিকা মোড়সহ আশপাশের আরও কয়েকটি সড়কে। একটি রিকশা গ্যারেজের মালিক আমজাদ হোসেন বলেন, আমরা বহু আগে থেকেই এ সড়কের আশপাশে রিকশা রাখি। এটা শিল্প অঞ্চল এলাকা। এখানে তেমন মানুষের বসবাস নেই। তাই তেমন কোনো সমস্যারও সৃষ্টি হয় না।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, ফুটপাতের দোকান ও গ্যারেজ থেকে চাঁদা নেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কোনো পুলিশ সদস্য এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে আমরা তা খতিয়ে দেখব। তিনি আরও বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা সিটি কর্পোরেশনের কাজ। তবে থানার পক্ষ থেকে একাধিকবার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হয়েছে। আমরা কয়েকটি এলাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করেছি। স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু নেতার কারণে এসব সড়ক দখল হয়ে যায়।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিউল্লাহ সফি বলেন, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য আমরা সবসময় অভিযান চলমান রেখেছি। ঈদ উপলক্ষে কিছু বসেছে। সেগুলো এখনও রয়ে গেছে।

আমরা অভিযান শুরু করেছি। রিকসার গ্যারেজ নিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অনেক সড়ক থেকে রিকশার গ্যারেজ উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকি সব সড়কও দখলমুক্ত করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত